সর্বশেষ সংবাদ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের তিন হাজার কোটি টাকা




 সারা দুনিয়া থেকে যখন সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোয় মোট গচ্ছিত অর্থ কমেছে, তখন বাংলাদেশ থেকে তা বেড়েছে। বেড়েছে ভারত থেকেও। ভারতের মতো বাংলাদেশ থেকেও পাচার হওয়া অর্থের একাংশ সুইস ব্যাংকে গিয়ে জমা হচ্ছে।

সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে ৬২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভারতীয়দের অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) কর্তৃক প্রকাশিত ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৩’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এতে দেখা যায় যে ২০১৩ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশিদের অন্তত ৩৭ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ গচ্ছিত রয়েছে, যা প্রায় ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা তিন হাজার ১৬২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এটি আগামী অর্থবছরে ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার যে পরিমাণ প্রকৃত ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে, তার প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেেট নিট বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১২ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশিদের অন্তত ২২ কোটি ৮৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ গচ্ছিত ছিল, যা প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা এক হাজার ৯০৮ কোটি টাকার সমান। এটি সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যে অর্থ গচ্ছিত রাখা হয়েছে, তার মোট পরিমাণ।

একই সময়ে, অর্থাৎ ২০১৩ সালে ভারতীয়দের ১৯৫ কোটি ২৮ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ২১৭ কোটি ৩২ লাখ ডলার গচ্ছিত রয়েছে। এটি ভারতীয় মুদ্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি রুপি। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ১৩৪ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা ১৪৩ কোটি ডলার। এটি ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় নয় হাজার কোটি রুপি। এর বাইরে গত বছর ভারতীয়দের সাত কোটি ৭০ লাখ সুইস ফ্রাঁ গচ্ছিত রাখা হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো অর্থ গচ্ছিত নেই।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোয় বিভিন্ন দেশের বিপরীতে ‘দায়’ অথবা ‘গ্রাহকের কাছে দেনা’ হিসাবের খাতে থাকা অর্থকে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক বা এসএনবি সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে রাখা গচ্ছিত অর্থ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এতে দেখা যায়, গত বছর সারা দুনিয়া থেকে সুইস ব্যাংকগুলোয় গচ্ছিত অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার কোটি সুইস ফ্রাঁ বা এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি ডলার। তার আগের বছর, ২০১২ সাল শেষে এর পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪০ হাজার কোটি সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার কোটি ডলার৷ সে বিবেচনায় বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থ খুবই অল্প।

অবশ্য বাংলাদেশি বা অন্য কোনো দেশের নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান যদি নিজের বদলে অন্যের নামে কোনো অর্থ গচ্ছিত রেখে থাকে, তাহলে তা এই হিসাবের মধ্যে আসেনি। আর তাই এই হিসাব সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের পূর্ণ পরিমাণও নির্দেশ করে না। একইভাবে সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা মূল্যবান শিল্পকর্ম, স্বর্ণ বা দুর্লভ সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমান হিসাব করে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অনেক দেশের নাগরিকই মূল্যবান শিল্পকর্ম বা দুর্লভ সামগ্রী সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকের ভল্টে রেখে থাকেন।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন জোরালোভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এখন ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটও গঠন করা হয়েছে। তাই অবৈধভাবে বাইরে অর্থ নিয়ে যাওয়া এখন খুব সহজ হওয়ার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন দু-একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।’

সালেহউদ্দিনের মতে, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোও এখন আগের মতো কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করছে না। বরং গচ্ছিত অর্থের তথ্যাদির বিষয় কিছুটা শিথিল করেছে। তাই বাংলাদেশ সরকার চাইলে সুইস সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করতে পারে তথ্য বিনিময়ের জন্য। তিনি এ-ও বলেন, সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত সব টাকাই পাচার হওয়া অর্থ নয়। কেননা, বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশির বৈধ অর্থ সুইজারল্যান্ডে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকে।

কোন বছর কত: সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকের মধ্যে ২০১৩ সালেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি অর্থ গচ্ছিত ছিল। এর আগে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত ছিল ২০০৭ সালে। সে বছর সুইস ব্যাংকসমূহে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। অবশ্য এ বছরই সুইস ব্যাংকসমূহের বৈশ্বিক গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ দুই লাখ ৬০ হাজার কোটি সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ২১৭ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রেখেছিলেন।

২০০৮ সালে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ নেমে আসে ১০ কোটি ৭০ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৮৯২ কোটি টাকায়। ২০০৯ সালে এটি কিছুটা বেড়ে হয় ১৪ কোটি ৯০ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা এক হাজার ২৪১ কোটি টাকা। ২০১০ সালে তা আরও বেড়ে হয় ২৩ কোটি ৬০ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা এক হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। তবে ২০১১ সালে তা বেশ কমে হয় ১৫ কোটি ২৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা এক হাজার ২৯৫ কোটি টাকা।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

জাইকার সঙ্গে ৯ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার চুক্তি



বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার (ওডিএ) আওতায় আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সঙ্গে পাঁচ প্রকল্পে ৯ হাজার ১৯৬ কোটি (১.১৮ বিলিয়ন ডলার) টাকার ঋণ সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেছবাহউদ্দিন ও জাইকার বাংলাদেশ প্রধান মিকিউ হাতাদা নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন

এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ  প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপু উপস্থিত ছিলেন।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

কালো মেঘের আড়ালে ‘অন্ধকার’ বাজেট




‘কালো মেঘের আড়ালে সোনালি রেখা’ দেখতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এই আশাবাদ ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ‘আশি’ পেরিয়ে যাওয়া এই অর্থমন্ত্রী তার ঢাউস সাউজের বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর স্বপ্ন শুনিয়েছেন জাতিকে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী যতই কালো মেঘের ওপর সোনালি রেখা দেখার আকাক্সা ব্যক্ত করেন না কেন, জনগণ কিন্তু এই বাজেট থেকে ‘অন্ধকার’ দেখা ছাড়া আর কিছু পাবে না বলে মনে হয়। কারণ এই বাজেটের মাধ্যমে করের যে বিস্তৃত জাল ফেলা হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষকে বেশি মাশুল দিতে হবে। তাদের কষ্টটা আগামীতে বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা, নির্বাচনে ‘জয়ী’ হওয়ার জন্য তো জনগণের ভোটের দরকারই পড়ে না। তাই জনগণ কষ্টে থাকলে ‘আমার’ কী!



জনগণের সমর্থন প্রায় শূন্যের কোঠায় ছুঁই ছুঁই অবস্থা। তাই ‘ক্ষমতায়’ টিকে থাকতে হলে ভর করতে হবে প্রশাসনের ওপর। সে কথা তিনি হারে হারে টের পেয়েছেন। তাই আগামী অর্থবছর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর আশ্বাস বাণী শুনিয়েছেন তিনি। সমাজের বসবাসরত বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতি বিন্দুমাত্র ‘তোয়াক্কা’ নেই, কিন্তু একটি অংশকে তিনি আপন করে নিয়েছেন। তাদের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করেছেন আয়কর রেয়াতের কথা। বলেছেন, অবসরভোগীদের সুবিধা দেয়ার জন্য পেনশনার সঞ্চয় স্কিমের সর্বাধিক পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগের ওপর প্রদেয় সুদের ওপর কোনো কর কাটা হবে না। এর কারণটি কিন্তু সহজেই অনুমেয়, এই অবসরভোগীদের ৯০ শতাংশ কিন্তু এক সময় সরকারি কাজে নিয়োজিত ছিল। তাদের সুবিধাটি দেয়া হয়েছে, আর সুবিধা দেয়া হয়েছে ওয়েজ আর্নার্স স্কিমে পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগের ওপরও। কিন্তু অন্যান্য সঞ্চয়পত্রের ওপর কোনো সুবিধা দেয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রী সমাজে বৈষম্য দূর করতে চান, কিন্তু এখানে বৈষম্য থেকে গেল পুরোপুরি!



আরো আছে, নতুন যারা কোম্পানি করবেন বা যেসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে নেই তাদের করপোরেট কর কমিয়ে দেয়া হয়েছে আড়াই শতাংশ। কৃষি খাতে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত আয়ের সীমাও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে চার গুণ। তৈরী পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের খুশি রাখতে হবে। তাই তাদের দেয়া বিদ্যমান সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০১৫ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষকে ‘খুশি’ রাখতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৮টিরও বেশি পণ্য লোকাল এলসি করের আওতার বাইরে রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। একই সাথে এলসির কমিশন করও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।



অন্য দিকে এবারের বাজেটে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হয়েছে ব্যাপকভাবে। উপজেলা-জেলা পর্যায়েও এবার করের আওতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন নতুন খাতকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও করের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী বছর থেকে ভ্যাটের আওতা আরো বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে এবার বাড়তি কর আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়ির মালিকদের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকার বেশি বাড়িভাড়া আদায়ের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হচ্ছে। ব্যাংকে জমা বাড়িভাড়া থেকেই সরকার আনুপাতিক হারে কর কেটে রাখবে। অনগ্রসর এলাকার যেসব কোম্পানি কর সুবিধা পায় না সেসব কোম্পানিকে করের আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ করে এমন শিল্পপণ্যের ওপর ১ শতাংশ হারে গ্রিন ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। বিড়ি-সিগারেটের ওপর নিয়মিত শুল্কের বাইরে ১ শতাংশ হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে এবার ভ্যাটের হারও বাড়ানো হয়েছে। এতে দ্রব্যমূল্য আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব মিলে এবারের বাজেটে সারা দেশে কর ও ভ্যাটের জাল ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে আগামী বছর দ্রব্যমূল্য কশাঘাতে জর্জরিত হতে হবে সাধারণ মানুষদের।



এসব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে গত ৫ জুন অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটের আকারটি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। বিশাল এই বাজেটে ঘাটতিই ধরা হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। কিভাবে এই ঘাটতি মোকাবেলা করা হবে। ঘাটতি মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৩ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকাই নেয়া হবে ব্যাংক থেকে। অর্থাৎ এই পরিমাণ অর্থ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাকি ১২ হাজার ৫৬ কোটি টাকা নেয়া হবে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে। ঘাটতি মোকাবেলায় বিদেশী উৎস থেকে অর্থ নেয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। যদি এই পরিমাণ অর্থ না পাওয়া যায় তবে ব্যাংক থেকে আরো ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি মেটানোর কাজটি করতে হবে। যার অবশ্যম্ভাবী ফলটি হচ্ছেÑ দেশের ‘ইঞ্জিন’ হিসেবে বিবেচিত বেসরকারি খাত ঋণ বঞ্চনার শিকার হবে।



বাজেট বক্তৃতায় অনেক কিছুই অস্পষ্ট

‘অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় সম্ভাবনাময় আগামী পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতায় অনেক কিছুই ছিল অস্পষ্ট। মোট ১৬৩ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতায় আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হলেও মূল্যস্ফীতি কত হবে তা বলা হয়নি। শুধু আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে থাকবে।



শুভঙ্করের ফাঁকি

বাজেটে রয়েছে অনেক গোঁজামিল, যাকে শুভঙ্কারের ফাঁকি হিসেবে ধরা যেতে পারে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথাই ধরা যাক। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ হতে হবে জিডিপির অংশ হিসেবে ৩৪ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে যা রয়েছে ২৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে কী এমন জাদুকরী ঘটনা ঘটবে যাতে করে বিনিয়োগ বেড়ে যাবে ৫ শতাংশ। অতীতে যা হয়নি। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তার কোনো ব্যাখ্যাই করেনিÑ কেন আগামী বছর ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, এই অঙ্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে আগামী অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এত বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ এক বছরে করা সম্ভব কি না তা কি অর্থমন্ত্রী জানেন। অতীতে কখনোই বাংলাদেশে এক বছরে এই পরিমাণ বিনিয়োগ হয়নি।



বৈষম্য আরো বাড়বে

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার শেষ তিনটি লাইন ছিল এভাবে,‘উত্তর প্রজন্মের জন্য রেখে যাবো এমন এক দেশ, যেখানে থাকবে না দারিদ্র্য আর বৈষম্য, অনৈক্যের অপছায়া, আর অপশাসনের নিস্পেষণ।’ কিন্তু বাস্তবে আমার কী দেখতে পাচ্ছি, অর্থমন্ত্রী বাজেটে অবসরভোগী মানুষ ও বিদেশী ওয়েজ আর্নারদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও ওয়েজ আর্নার্স ডেভলেপমেন্ট বন্ড ক্রয়ে পাঁ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ হতে অর্জিত সুদ আয়কর মুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি’। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এখন যারা পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন তার শতকরা ৯০ শতাংশই হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য বর্তমান বাজেটে এই কর রেয়াত দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের সঞ্চয় ¯িীমে আরো চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। তাদের জন্য কিন্তু সুবিধা দেয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে বৈষম্য কমানোর চেয়ে বাজেটে বৈষম্য বৃদ্ধি করার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



পিপিপি আইনই হয়নি, তবুও ৩৪ প্রকল্প

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) একটি জনপ্রিয় শব্দ। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে এর সাহায্যে। এ নিয়ে বিস্তর কথাও হয়েছে ছয়-সাত বছর ধরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ জন্য কোনো পিপিপি আইনই তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তাতে কী, এর আওতায় প্রকল্প নিতে তো আর দোষ নেই। হয়েছেও তো তাই, এবার বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে পিপিপির আওতায় ৩৪টি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পগুলোর বিপরীতে ‘ঢাউস’ বরাদ্দও রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ বা কী হবে, কবে নাগাদ প্রকল্পগুলো শেষ হবে তার কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।



মহিলাদের আয়করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি

আগামী অর্থবছরে মহিলা, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের আয়করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সাধারণ করদাতাদের আয়করমুক্ত সীমা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সাধারণ করদাতাদের আয়করমুক্ত সীমা দুই লাখ ২০ হাজার অপরিবর্তিত থাকছে। তবে মহিলা ও ৬০ বছর ঊর্ধ্ব করদাতাদের বিদ্যমান আয়করমুক্ত সীমা দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে প্রতিবন্ধী করদাতার আয়করমুক্ত সীমা বিদ্যমান তিন লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারদের করমুক্ত সীমা দুই লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে।

একটি করপোরেট কর হার কমানো হয়েছে

নন-পাবলিকলি ট্রেডেড (শেয়ারবাজারে নেই) কোম্পানি করপোরেট কর বর্তমানে রয়েছে সাড়ে ৩৭ শতাংশ। এটি কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানি ও অংশীদার ব্যবসার টার্নওভারের ওপর প্রদেয় ন্যূনতম করের হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। আর অন্যান্য কোম্পানির কর হার অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে বাজেটে।



বাজেট ব্যয়ে শীর্ষে রয়েছে সুদ পরিশোধ

আগামী অর্থবছরে অনুন্নয়ন বাজেটের আকার ধরা হয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৩১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ে ১৮ দশমিক চার শতাংশ। অনুন্নয়ন ব্যয়ে দ্বিতীয় বৃহৎ খাতে রয়েছে বেতনভাতা। এখানে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন বাজেটের ১৭ শতাংশ।



উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা

আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। আদায়ের ব্যর্থতার কারণে পরে তা সংশোধন করে করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে কর থেকেই আদায়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে রাজস্ব আদায় ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। আদায় ব্যর্থতার কারণে তা সংশোধন করে করা হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে আদায় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি ২৭ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে আরো ছয় হাজার ২০৬ কোটি টাকা।



বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)

আগামী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। তবে এর সাথে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বাজেট ধরলে তা বেড়ে হবে ৮৬ হাজার কোটি টাকা।

বিদেশে ঋণ : প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশী নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে উচ্চাভিলাষী। এ খাত থেকে আসবে মনে করা হচ্ছে ১৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১৪ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। তবে বিদেশী ঋণ আশানুরূপ না পাওয়ায় ঋণপ্রাপ্তি সংশোধন করে করা হয় ১২ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা।



অর্থমন্ত্রীর আশাবাদ কী পূরুণ হবে?

বাজেট বক্তৃতার শেষে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘অনেকেই জানেন যে, আমি কর্মব্যস্ত আশি বছর অতিক্রম করেছি। অর্জন ও ব্যর্থতার দোলাচলে আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে আমি কখনো আশাবাদ ব্যক্ত করতে এবং রাখতে কার্পণ্য করিনি। আমি আগেও বলেছি যে, কালো মেঘের আড়ালে আমি সোনালি রেখা দেখতে পাই। বাংলাদেশের অপরিমেয় সম্ভাবনায় এ দেশের তরুণদের মতো আমিও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এই অপরিমেয় সম্ভাবনার স্বার্থে আমরা চাই একটি অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র। বাংলাদেশের জনগণও প্রতিটি কঠিন সময়ে এই আদর্শে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে গেছেন এবং সাফল্য অর্জন করেছেন। এবারো তার কোনো হেরফের হবে বলে আমি মনে করি না। সেই বিশ্বাসে অটুট থেকে আমি আহ্বান জানাব আমাদের দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন এবং মঙ্গলের স্বার্থে সব রকম সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে। প্রতিবাদ ও সমালোচনা অবশ্যই হবে, কিন্তু সেজন্য কোনো সহিংস পথ অবলম্বন করা চলবে না। একটি জাগ্রত ও উদ্বুদ্ধ জাতি কোনোমতেই হত্যা এবং ভাঙচুরের রাস্তা সহ্য করবে না।’

এখন প্রশ্ন জাগতেই পারে, অর্থমন্ত্রীর এ আশাবাদ পূরণে (তার) সরকার কতখানি আন্তরিক। কারণ প্রতিবাদ ও সমালোচনার জন্য মানুষ তো রাস্তায় শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়াতেই পারছে না।






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

দশটি ধাপ অনুসরণে ৩০ বছর বয়সেই হতে পারেন কোটিপতি




ধনী বা কোটিপতি হয়ে যাওয়া একটি বিভ্রান্তিপূর্ণ বিষয়। অনেকেই নিজের পরিশ্রমে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই এ কাজটি করতে সক্ষম হন। আবার কারো কাছে এটি সারা জীবন স্বপ্নই থেকে যায়। তবে এ লেখায় দেওয়া পরামর্শগুলো ঠিকভাবে মেনে চললে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই কোটিপতি হওয়া অসম্ভব কোনো কাজ নয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।



১. টাকা অনুসরণ করুন

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক আয়ে আপনার পক্ষে কোটিপতি হওয়া সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সম্ভব সব উপায়ে আয় বাড়ানো। এ লক্ষ্যে সবসময় চিন্তাভাবনা করতে হবে এবং টাকার পথ অনুসরণ করতে হবে।



২. বিলাস বন্ধ করুন

ব্যবসায় পর্যাপ্ত টাকা লাভ হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার বিলাসদ্রব্য কেনাকাটা করা বন্ধ রাখতে হবে। সম্ভাব্য সব উপায়ে বিনিয়োগ করার জন্য প্রত্যেকটি টাকা সংরক্ষণ করতে হবে। পর্যাপ্ত টাকা হাতে আসার আগ পর্যন্ত দামি ঘড়ি, কিংবা বিলাসবহুল গাড়ির পেছনে কোনো খরচই করা যাবে না।



৩. বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয় করুন, জমানোর জন্য নয়

আপনার টাকা সঞ্চয়ের একমাত্র কারণ হবে তা নতুন করে বিনিয়োগ করা। আপনার সঞ্চিত টাকা নিরাপদ কোনো স্থানে বিনিয়োগ করুন। এ ছাড়াও যথেষ্ট লাভ হয় এমন কোনো সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে রাখতে পারেন।



৪. লাভবিহীন ঋণ বর্জন করুন

যে ঋণ আপনাকে কোনো টাকা দেয় না, সে ঋণ বর্জন করুন। কিন্তু ঋণ থেকে করা বিনিয়োগে যদি আপনার কোনো নিশ্চিত লাভ হয় তাহলে তা নিতে পারেন। ধরুন ঋণ করে একটি গাড়ি কিনলে তা থেকে যদি আপনার আয় বেশ কিছুটা বেড়ে যায়, তাহলে তা করা যেতে পারে।



৫. টাকাকে প্রেমিকার মতো দেখুন

টাকাকে যদি গুরুত্ব না দেন, তাহলে টাকাও আপনাকে গুরুত্ব দেবে না। এ কারণে বহু মানুষ টাকা চাইলেও টাকা তাদের কাছে ধরা দেয় না। টাকাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করুন। একে কোনো চাহিদা পূরণের জন্য নয় বরং আরও টাকা উপার্জনের জন্যই ব্যবহার করুন।



৬. টাকা ঘুমায় না

টাকা ঘড়ির কাটা ধরে চলে না। সে ছুটির দিন সম্বন্ধেও অবগত নয়। তাই আপনি যত বেশি সময় ধরে চেষ্টা করবেন, যত রাত জাগবেন, তত বেশি টাকা আপনার কাছে আসবে।



৭. গরিব হওয়ার কোনো অর্থ হয় না

সব সময় মনে রাখতে হবে, কোনোক্রমেই গরিব হওয়া চলবে না। এজন্য পরিশ্রম ও টাকার সদ্ব্যবহারের দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। বেশ কয়েক বছর বিশ্বের শীর্ষ ধনীর খেতাব পাওয়া বিল গেটস বলেছেন, ‘আপনি যদি গরিব অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন, তা আপনার দোষ নয়। কিন্তু আপনি যদি গরিব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে সেটা আপনার দোষ।’



৮. কোটিপতি বন্ধু ও পরামর্শদাতা খুঁজে নিন

আমরা অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করি এবং সে পরিবেশেই বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে চলি। কিন্তু তার বদলে আমরা যদি কোটিপতি বন্ধু ও পরামর্শদাতা খুঁজে নিতে পারি, তাহলে তা খুবই কার্যকর হয়। কোটিপতি বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই, তাদের পরামর্শই আপনার অনেক কাজে দেবে।



৯. যথাযথভাবে টাকা বিনিয়োগ করুন

আপনার টাকা কোনো একটা লাভজনক খাতে যথাযথভাবে বিনিয়োগ করুন। আর এ বিনিয়োগের ওপরই নির্ভর করবে আপনার কোটিপতি হওয়ার বিষয়টি। আপনি যদি বিনিয়োগের মতো যথেষ্ট টাকা জমাতে না পারেন, তাহলে এক্ষেত্রে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।



১০. লক্ষ্য রাখতে হবে বড়

এ পৃথিবীতে টাকার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আপনি যতো সম্ভব টাকা উপার্জন করতে পারবেন। কিন্তু এজন্য লক্ষ্য রাখতে হবে বড়। যদি এক কোটি টাকা উপার্জনের লক্ষ্য রাখেন, তাহলে তা উপার্জনে আপনাকে গলদঘর্ম হতে হবে। কিন্তু যদি তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি টাকা উপার্জনের লক্ষ্য রাখেন, তাহলে পুরোপুরি সে লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলেও তার কাছাকাছি উপার্জন করতে পারবেন।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

৩ জুলাই পর্যন্ত বাজেট অধিবেশন চলবে




দশম সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু হয়েছে। এ অধিবেশন আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে এবং বিকেল চারটা থেকে কার্যদিবস শুরু হবে। তবে ২৮ ও ২৯ জুনের অধিবেশন সকালেও বসবে বলে সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে দশম জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, দ্বিতীয় অধিবেশন অর্থাৎ বাজেট অধিবেশন-২০১৪ আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে এবং প্রতি কার্যদিবসে অধিবেশন বিকেল চারটায় শুরু হবে। তবে ২৮ ও ২৯ জুন অধিবেশন সকালেও বসবে। প্রয়োজনে এ সময়সীমা স্পিকার বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৫ জুন বিকেল সাড়ে তিনটায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন। পেশকৃত বাজেটের উপর ৪৫ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। আর আগামী ২৯ জুন বাজেট পাস হবে।

এছাড়া বৈঠকে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার সরকারি দিবস হিসেবে গণ্য হবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটির সদস্য এবং সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। কমিটির সদস্য সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, রাশেদ খান মেনন, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, মইন উদ্দীন খান বাদল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৈঠকে অংশ নেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া সংসদের সিনিয়র সচিব আশরাফুল মকবুল ও সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবারের অধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়। সদ্য মরহুম সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানকে স্মরণ করে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য কাজী  ফিরোজ রশিদ, শামীম ওসমান প্রমুখ।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ইকোনমিক জোন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন মঙ্গলবার




পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবন মানের উন্নয়ন, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোনস ডেভলপমেন্ট প্রকল্পের ফেইজ-১ চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে মঙ্গলবার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা।



পরিকল্পনা কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাপস চন্দ্র বোস বাংলানিউজকে জানান, ‘বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোনস ডেভলপমেন্ট প্রকল্পের (ফেইজ-১)’প্রকল্পটি মঙ্গলবারের একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।’



প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন খাতের অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সেগুলোর উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পায়নের দ্রুত প্রসার ঘটিয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুততর করাই  প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।



প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি টাকা মাত্র ২ কোটি ২৫ লাখ। বাকি ৭৯ কোটি ৭ লাখ টাকা । প্রকল্প সাহায়্যের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ৬৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ও ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ডিএফআইডি) দেবে ১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে  জানুয়ারি ২০১৪ সাল থেকে জুন ২০১৬ সাল পর্যন্ত।



প্রকল্পের মাধ্যমে চারটি অঞ্চল- বাগেরহাটের মংলা, মৌলভীবাজারের সদর উপজেলা, চট্টগ্রামের মিরেরশরাই এবং আনোয়ারা উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হবে। প্রকল্পটির উদ্যোক্তা মন্ত্রণালয়- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।



পরিকল্পনা কমিশন থেকে এর সারসংক্ষেপে দেখা গেছে, প্রকল্পের সুদূর-প্রসারী উদ্দেশ্য হলো- শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়া অনুন্নত অঞ্চলসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন অঞ্চলের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা। এ লক্ষ্যে এসব অঞ্চলসমূহে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে মাল্টি-প্রডাক্ট শিল্প কারখানার প্রসার ঘটানো হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ভৌত অবকাঠামো তৈরি করা হবে।



এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত জমিতে এবং এরইমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হয়েছে এমন অঞ্চলে প্রয়োজনীয় মৌলিক ভৌত অবকাঠামো তৈরি ও ইউটিলিটি সরবরাহ করা হবে।



এর পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় বিদেশি উদ্যোক্তাদের এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প কারখানা স্থাপন ও পরিচালনায় আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে উপযুক্ত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। এ প্রকল্প দেশের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এছাড়া ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিল্পায়নের প্রসার ঘটানোই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।



পরিসংখ্যান বিভাগের ইন্ডাস্ট্রি ও লেবার উইং থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ২ মিলিয়ন লোকের বিশাল জনশক্তি রয়েছে এবং এখানে শ্রমের মূল্য এশিয়ার অন্যান্য দেশের শ্রম মূল্যের তুলনায় কম।



পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগের (জিইডি) মতে, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জিডিপি’র প্রভৃতি বছরে ৮ শতাংশ উন্নীত করা যায় এবং ২০২১ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে। এ উদ্দেশে বাংলাদেশ সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি ও উন্নয়নের ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছে।



প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দাতা সংস্থা। ২০১০ সালে বেজা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং বেজা’র সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



পরিকল্পনা কমিশন জানায় প্রস্তাবিত প্রকল্পে মূলত; মংলা, মৌলভীবাজার সদর, মিরেরশরাই এবং আনোয়ারা উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজ করা হবে।



এছাড়া ভূমি উন্নয়ন, অফিস ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, সংযোগ সড়ক তৈরি, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে।





- banglanews24.com




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ঋণের ভারে সোজা হতে পারছে না পুঁজিবাজার




ঋণের ভারে জর্জরিত পুঁজিবাজার। শত চেষ্টা করেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। গতি ফিরে আসছে না বাজারগুলোতে। মাঝে মধ্যে সাময়িক গতি এলেও তা টেকসই হচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগকারীরা যে যার অবস্থান থেকে লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও তাতে কোনো ফল হচ্ছে না। বাজারে সক্ষমতা ধরে রাখা ুদ্র একটি অংশ সাময়িক এ ভালো অবস্থার সুযোগ নিতে পারলেও বেশির ভাগের লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগ করে দর সমন্বয় করেও কাজ হচ্ছে না। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ ঋণের জালে আটকে পড়ার কারণেই এমনটি ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর ব্যাপক দরপতনের কারণে বাজারে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভয়াবহ ঋণের জালে আটকা পড়ে যায়। ঋণগ্রহীতা কয়েক লাখ গ্রাহক শিকার হয় এই পরিস্থিতির। টানা দরপতনের ফলে তারা এ সময় নিজেদের পুঁজি হারানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখনো ঋণের জালে আটকে আছেন। একইভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করতে গিয়ে নিজ নিজ মূল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছেও দায়বদ্ধ হয়ে রয়েছে। আর ঋণের এ চক্রে খাবি খাচ্ছে গোটা পুঁজিবাজার। এক হিসেবে জানা যায় বিপর্যয়ের পর পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা মার্জিন লোনে আটকে রয়েছে। ঋণপ্রদানকারী বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের এ ঋণ লক্ষাধিক বিনিয়োগকারীর কাছে যার অধিকাংশ গ্রাহক হিসেবেই এখন নিষ্ক্রিয়। এ হিসেবে গ্রাহকদের পুঁজিতো নেই তার ওপর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বড় অঙ্কের ঋণ গুনতে হচ্ছে যা সুদের আকারে দিন দিন আরো বাড়ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ধারণকৃত শেয়ার বিক্রি করার পরও সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় হিসাবধারী গ্রাহকরা না পারছেন এ ঋণ শোধ করতে না পারছেন পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব হিসাব সক্রিয় করতে।



বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এভাবেই এখন বাজারের বাইরে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনোভাবে ঋণ গ্রহণকারী এসব গ্রাহকের হিসাব সক্রিয় করা গেলে বাজার কিছুটা হলেও গতি ফিরে পেত। এ ধারণা থেকেই গত তিন বছরেরও বেশি সময় সরকার ও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাজারের মূল সমস্যা মার্জিন ঋণের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর প থেকে কার্যকর কোনো পদপে নেয়নি। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের শেষ দিকে বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফে ৯০০ কোটি টাকার তহবিল যোগান দিলেও ঋণের আকারের তুলনায় তা খুবই নগণ্য বলে খুব একটা কার্যকর ফল পায়নি। এ ছাড়া এ তহবিল ঠিক কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট ধোঁয়াশা। তাই বারবার সময় বৃদ্ধি করার পরও এ ঋণ গ্রহণে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ সাড়া পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।



অন্য দিকে পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার। শুরুতে মোট দায়ের ১০ শতাংশ বিনিয়োগ সুবিধা থাকলেও এখন তা কমিয়ে মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের আগে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এ সীমা মানেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মোট দায়ের ২৫ শতাংশের ওপর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে বসে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক লাগাম টেনে ধরলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। সেখানেই শুরু পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের। আর এর জের চলছে গত তিন বছরের ও বেশি সময়। এখনো কালেভদ্রে বাজারগুলো সাময়িক মূল্য বৃদ্ধির ধারায় ফিরলে ঋণ সমন্বয়ের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রয়চাপের শিকার হচ্ছে পুঁজিবাজার। আর এর ফল ভোগ করছে বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা না পারছেন বাজারে টিকে থাকতে না পারছেন ব্যাপক লোকসান ঘাড়ে নিয়ে বাজার ছাড়তে। এ অবস্থা থেকেই ক্রমান্বয়ে আস্থাহীনতা বাড়ছে পুঁজিবাজারে।



পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু সুদ মওকুফ বা এ ধরনের ছোটখাটো কোনো উদ্যোগ শেয়ারবাজারের এ সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। বড় ধরনের তারল্য প্রবাহ ঘটাতে না পারলে বাজারগুলো স্বাভাবিক গতি পাবে না। তারা মনে করেন, কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সাথে বসে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যাতে সরকারও একটি নির্দিষ্ট সময়ে এ টাকা ফেরত পায় আবার তা পুঁজিবাজারে রক্তপ্রবাহের কাজও করে। বাংলাদেশ ব্যাংককেও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে যাতে তারা এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয় যা প্রকারান্তরে পুঁজিবাজারের স্বার্থের বিপক্ষে যায়। আবার তহবিলেরও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তাদের মতে, যেকোনো প্রক্রিয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজগুলোর বিনিয়োগ হিসাব আবার সক্রিয় করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সক্ষম বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। তাদের একবার সচল করা গেলে বাজার তার সুফল পাবে।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.


বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার পরামর্শ




ঋণ বিতরণ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের দায়ে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিবকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ও ৪৭ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এ এম এস আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিব ড. আসলাম আলম বরাবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পাঠানো চিঠিতে এ পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ও ৪৭ ধারা অনুযায়ী, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বেসিক ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম ‍ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে, সেসব অনিয়মের দায় ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ এড়াতে পারে না। কিন্তু পর্ষদে ভাঙার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত নয়। বিধায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

চিঠির একটি অনুলিপি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরআগে গত ২৬ মে রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটির গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখায় নতুন ঋণ বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে আগামীতে কোনো শাখায় ঋণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ব্যাংকটিকে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়। তার একদিন আগে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিশেষায়িত এ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আর্থিক সংকট: ইউরোপে ২১টি সামরিক স্থাপনা বন্ধ করবে আমেরিকা




আর্থিক সংকটের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে
মোট ২১টি সামরিক স্থাপনা বন্ধ করে দেবে আমেরিকা। মার্কিন সেনা সদরদপ্তর
পেন্টাগন এ কথা ঘোষণা করেছে।






পেন্টাগন বলছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২১টি
স্থাপনা বন্ধ করে দিলে বছরে ছয় কোটি ডলার বেঁচে যাবে। সার বিশ্বে
অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমেরিকা ও ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলো
ব্যয়সংকোচনের নীতি নিয়েছে।





এসব ঘাঁটি বন্ধের বিষয়ে যদিও আমেরিকা আগেই
ঘোষণা দিয়েছিল তারপরও একে অনেকটা অপ্রত্যাশিত বলে মনে করা হচ্ছে কারণ
ইউক্রেন ইস্যুতে যখন ইউরোপীয় মিত্রদের পাশে থেকে আশ্বস্ত করার কথা তখন
আমেরিকা এসব সামরিক স্থাপনা গুটিয়ে নিচ্ছে।





গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পেন্টাগনের
প্রেস সেক্রেটারি রিয়ার অ্যাডমিরাল জন কিরবি জানিয়ছেন, এসব স্থাপনার
বেশিরভাগই মার্কিন ও ন্যাটোর বিনোদন এবং আবাসিক স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত
হতো। তবে, কয়েকটি গোলাবারুদের স্থাপনাও বন্ধ করা হচ্ছে।




জন কিরবি খোলাখুলিভাবেই বলেছেন, জনগণের
ট্যাক্সের অর্থে ইউরোপের এসব সামরিক স্থাপনা চালু রাখার তেমন প্রয়োজনীয়তা
নেই। তিনি জানান, এটা হচ্ছে সামরিক স্থাপনা বন্ধের প্রথম ধাপ। এভাবে
জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক, গ্রিস, ব্রিটেন এবং বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশের
সামরিক স্থাপনা বন্ধ করা হবে।


২৪ মে (রেডিও তেহরান)


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুই হাজার কোটি ডলার ছাড়াল





বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত
ফেব্রুয়ারিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার অতিক্রম
করেছিল। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আবারও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের
রেকর্ড ভঙ্গ করল।





বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড
ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কাজী সাইদুর রহমান
জানিয়েছেন, আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে
২০.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের এই সময়ে ছিল ১৪.২২ বিলিয়ন। এ সময়ে
রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৪১% বৃদ্ধি পেয়েছে।





কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে,
বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ, রপ্তানি সহায়তা তহবিলের
(রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) পরিমাণ ও এর ব্যবহারের আওতা সম্প্রসারণ, বৈদেশিক
সরাসরি বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাত কর্তৃক বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়ন গ্রহণের
পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ ও দেশের খাদ্য
উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য খাতে আমদানির পরিমাণ হ্রাসসহ বহির্বিশ্বে খাদ্য
পণ্যের দাম হ্রাস পাওয়ায় ও জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার
অন্যতম প্রধান কারণ।  




রিজার্ভ স্থিতি বিবেচনায় সার্কভুক্ত
দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। ভারতের রিজার্ভ
স্থিতি ৩০৩.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন এবং তৃতীয় স্থানে অবস্থানকারী পাকিস্থানের
রিজার্ভ ৯.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


(রেডিও তেহরান )


বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

IBN SINA