সর্বশেষ সংবাদ

৭০০ ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করেছে আইএসআইএল


উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল
সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৭০০ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে।
ব্রিটেনভিত্তিক কথিত মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান
রাইটস জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগকেই হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করেছে
সন্ত্রাসীরা।






সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আয-যোর
প্রদেশের আল-শেইতাত গোত্রের লোকদের ওপর গত দু’সপ্তাহে আইএসআইএল এই পাশবিকতা
চালায়। নিহতদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক। তাকফিরি সন্ত্রাসীরা এসব
মানুষকে আটক করার পর নির্বিচারে হত্যা করে। নিহত ৭০০ ব্যক্তির মধ্যে অন্তত
৬০০ জন বেসামরিক লোক ছিল বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসন
বিরোধী সংস্থা অবজারভেটরি।





দেইর আয-যোর প্রদেশের কারানজি, আবু হামাম ও
কাশকিয়া গ্রামে এ গণহত্যা চালায় আইএসআইএল। অবজারভেটরির প্রধান রামি আব্দের
রহমান জানিয়েছেন, আল-শেইতাত গোত্রের আরো ১,৮০০ ব্যক্তির ভাগ্যে কী ঘটেছে
তা জানা যায়নি।





অন্যান্য গণহত্যার মতো গত দু’সপ্তাহের এ
পাশবিকতার দৃশ্যও ক্যামেরায় ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে আইএসআইএল
জঙ্গিরা। লোমহর্ষক এসব ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শেইতাত অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে
একের পর এক লাইন দিয়ে বসিয়ে নিরীহ মানুষের গলা কাটছে জঙ্গিরা। গলা কাটার
পর হতভাগ্য লোকগুলো যখন মৃত্যু যন্ত্রনায় মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে তখন
সন্ত্রাসীরা ঠাট্টা-মস্করা করছে এবং ছাগলের মতো হেঁটে নিহত ব্যক্তিদের
অনুকরণ করছে।





নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ছিল আহত
ব্যক্তি। আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তারা আহত হয়েছিল। তাকফিরিরা
নিকটবর্তী হুজেইন হাসপাতাল ও মায়াদিন শহরের ‘নিউ মেডিক্যাল সেন্টার’ থেকে
চিকিৎসারত এসব আহত ব্যক্তিকে ধরে এনে গলা কেটে হত্যা করে। শেইতাত গোত্রের
বয়োঃবৃদ্ধ নেতারা আইএসআইএল’কে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এ
গণহত্যা চালায় তারা।





(রেডিও তেহরান)




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

হামাসের সাইবার যোদ্ধারা: ইসরাইলিদের কাঁপুনি




অধিকৃত ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সাইবার যোদ্ধারা
মনস্তাত্ত্বিক উন্নত রণকৌশল গ্রহণ করে সাইবার জগতে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে
নাস্তানাবুদ করে তুলেছে। গাজায় ইহুদিবাদী আগ্রাসনের ভয়াবহতা বাড়ার পাশাপাশি
ইসরাইলে সাইবার হামলার পরিমাণ পূর্বের তুলনায়  অন্তত ১০ গুণ বেড়েছে বলে
ইহুদিবাদী সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। গত মাসের প্রথম সপ্তাহের
পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার রিসার্চ সেন্টারের
প্রধান আইজ্যাক বেন-ইসরাইল হিসাবে বলা হয়েছে, সাধারণত ইসরাইলের
গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলোর বিরুদ্ধে  দৈনিক এক লাখ সাইবার হামলা হয়। কিন্তু
গাজায় আগ্রাসনের পর থেকে গড়ে দৈনিক ১০ লাখ সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে এ সব
সাইট।



অবরুদ্ধ গাজা থেকে ইসরাইলি অবস্থানগুলোতে রকেট বৃষ্টি,
ইসরাইলি আকাশ সীমায় ড্রোন হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা ও হ্যাকিংয়ের মধ্য
দিয়ে ইহুদিবাদীদের জন্য মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে হামাস। হামাসের
সাইবার সেনারা একাধারের টুইটার, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাঠানো এসএমএস এবং
উপগ্রহ সম্প্রচারের মাধ্যমে যে সব বার্তা প্রেরণ করছে তা ইহুদিবাদী ইসরাইলে
গভীর আতংকের সৃষ্টি করছে। ইহুদিবাদীদের স্নায়ুর ওপর এ ভাবে মারাত্মক চাপ
সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাদেরকে দুঃস্বপ্ন, হতাশা ও মানসিক পীড়নের দিকে ঠেলে
দেয়া হচ্ছে। ব্লুমবার্গ ডট কমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পরোক্ষা ভাবে এ সব
নিশ্চিত করেছেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের ন্যাশনাল সাইবার ব্যুরোর প্রতিষ্ঠাতা
এবং বর্তমানে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার রিসার্চ সেন্টারের প্রধান
আইজ্যাক বেন-ইসরাইল।



তিনি জানান, হাইফার পেট্রোরাসায়নিক প্ল্যান্টে
হামাসের কম্যান্ডোর হামলা করেছে এমন এক বার্তা পেয়েছেন তার মোবাইল ফোনে।
আর এ বার্তা ইসরাইলি দৈনিক হারতেজ পাঠিয়েছে বলে দৃশ্যত মনে হচ্ছিল। কিন্তু
অনুসন্ধানে উঠে আসে দৈনিকটি এ জাতীয় কোনো বার্তা পাঠায় নি বা এ জাতীয় খবর
প্রকাশ করে নি। কিন্তু ততক্ষণে  যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। আতংক ছড়িয়ে পড়েছে
ইসরাইলে। এ ছাড়া হামাসের পরবর্তী সাইবার হামলা এর চেয়ে মারাত্মক হবে তা
অনুমান করতে কষ্ট হয় না বলে জানান তিনি।



গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে
হামাসের সাইবার যোদ্ধারা ইহুদিবাদী ইসরাইলের জনপ্রিয় ডোনিনো’জ পিৎজ্জার
ফেসবুক পাতা হ্যাক করে একটি বার্তা সেটে দেয়। এতে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা
হয়, হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকায় হামাসের নিয়ন্ত্রণে আনুমানিক ১০ হাজার
রকেট রয়েছে। এ সব রকেট বহরের এক পঞ্চমাংশ দিয়ে এক দিনে ইহুদিবাদী ইসরাইলের
অবস্থানগুলোর ওপর একযোগে হামলা চালানো হবে। ইহুদিবাদীদের  অভ্যন্তরীণ
গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’ তাদের নাম ব্যবহারে করে এ সংক্রান্ত ভুয়া
টেক্সক্ট বার্তা ইসরাইলে প্রচারিত হয়েছে। কাল্পনিক রকেট হামলা এবং আহতদের
বিবরণও দেয়া হয়েছে এতে।



হামাস এবং ইসলামি জ্বিহাদের সাইবার গেরিলারা
দিনরাত তৎপর রয়েছেন। ইসরাইলি সাইবার কেন্দ্রের ওপর অব্যাহত হামলা করছেন
তারা। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের সাইবার যোদ্ধাদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে
তুলেছেন ভারচুয়াল জগতের গেরিলা যোদ্ধারা। ২০১২ সালে গাজায় ইসরাইলি
আগ্রাসনের দিনগুলোতেও একই ভাবে সাইবার হামলা হয়েছে ইসরাইলে। আটদিনের এ
যুদ্ধের সময়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সরকারি সাইটগুলোতে হামলার জন্য
বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনি কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল
হামাস। সে সময়ে ইসরাইলি গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলোর বিরুদ্ধে চার কোটি ৪০ লাখ
সাইবার হামলা হয়েছিল। ইসরাইলি কম্পিউটার বিশেষজ্ঞরা সে সময়ে নাজেহালের
চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন।



অবশ্য ইসরাইল সে সময়ে যে সব
কম্পিউটার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল তার কোনো কোনোটি এবারের হামাসের
হামলায় নস্যাৎ হয়ে গেছে। কিংবা এ গুলোর বিরুদ্ধে হামাসের সাইবার যোদ্ধাদের
শাণিত আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।



গত মাসের ৩ তারিখে ইসরাইলি সেনা
মুখপাত্রের টুইটার পেইজ দখল করে নেয় হামাস যোদ্ধারা। তারা এ থেকে বার্তা
ছড়িয়ে দেয় যে হামাসের রকেট দিমোনা পরমাণু চুল্লিতে আঘাতের পর সেখান থেকে
তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী পরে এ খবরের
সত্যতা অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া তাদের মুখপাত্রের পেইজ কী ভাবে হ্যাক করা
হলো তা নিয়ে তদন্ত করছে।



হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম
বিগ্রেডে গত মাসের ১৬ তারিখে ইসরাইলি মোবাইল ফোনগুলোতে হিব্রুতে একটি
বার্তা পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা দিমোনা থেকে হাইফা পর্যন্ত
ইসরাইলের প্রতিটি অংশ দ্রুততার সঙ্গে আঘাত হানতে পারে এবং এতে ইসরাইলিরা
আতংকে ইঁদুরের মতো দৌড়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঢুকবে।



জেরুজালেমের
উপকণ্ঠে অবস্থিত বেনিয়ামিনের ইসরাইল আঞ্চলিক পরিষদ জানিয়েছে, ইসরাইলিদের
মোবাইল ফোনগুলো হ্যাক করা হয়েছে এবং ফোনের ঠিকানা হাতিয়ে নিয়ে এ জাতীয়
বার্তা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।



গত মাসের ১৪ তারিখে চ্যানেল ১০-এর নিয়মিত
অনুষ্ঠানমালার স্থানে হঠাৎ করে প্রচারিত হয়েছে হিব্রুবার্তা। এ বার্তায় বলা
হয়েছে, সেনাবাহিনী থেকে সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে
ইসরাইলি মায়েদের প্রতি। তানা হলে তারা ধরা বা মারা পড়বে। এ বার্তা কে,
কিভাবে দিয়েছে তা বোধহয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ছাড়া, এ বার্তা
ইসরাইলিদের কতোটা আতংকিত করেছে তাও অনুমানের অপেক্ষা রাখে না। 



এ
ছাড়া, সার্ভারে হামলা করে  ইহুদিবাদী ইসরাইলের নেটভিশন লি এবং বেজেক
ইন্টারন্যাশনাল লি.-এর মতো ইন্টারনেট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর ইন্টারনেটের
গতি কমিয়ে দিয়েছে হামাস।


সুত্র : রেডিও তেহরান


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আরো ৩ ইসরাইলি সেনা নিহত, হামাস বলছে- ২০ জন




অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের পাশবিক
হামলার ২৩তম দিনে বুধবার আরো তিন ইহুদিবাদী সেনা নিহত ও ২৭ সেনা আহত হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী বুধবার রাতে এসব হতাহতের খবর স্বীকার করেছে।






তবে হামাস বলেছে, তাদের হামলায় অন্তত ২০ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে।





ইহুদিবাদী বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আজ (বুধবার) গাজা উপত্যকার ভেতরে তিন সৈন্য নিহত
হয়েছে।” এ ছাড়া, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি
ফিলিস্তিনি বাড়ির ভেতর ‘টানেল’ খুঁজতে গিয়ে ওই তিন সেনা নিহত হয়। বাড়িটিতে
হামাসের ফাঁদ পাতা ছিল এবং ইসরাইলি সেনারা বাড়িটিতে ঢোকার পরপরই দু’টি
বিস্ফোরণে তারা মারা যায়।





তবে নিজের সেনাদের মারাত্মক এ ক্ষয়ক্ষতির
খবর প্রচারে রাখঢাক করতে গিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর দিয়েছে তেল আবিব। ইসরাইলের
গণমাধ্যম জানিয়েছে, একটি বাড়ির দেয়াল চাপা পড়ে তিন ইসরাইলি সেনা নিহত ও ১৫
জন আহত হয়েছে। বাকি ১২ সেনা গাজার বিভিন্ন এলাকায় আহত হয়েছে।





হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম
ব্রিগেড জানিয়েছে, দখলদার সেনারা গাজার খান ইউনিস শহরের একটি বাড়িতে হামলা
চালাতে গেল তাদের পাল্টা হামলায় অন্তত ২০ ইহুদিবাদী সেনা নিহত হয়েছে।
ব্রিগেডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খান ইউনিসের যে বাড়িতে বুধবার ইসরাইলি
সেনারা প্রবেশ করে সেখানে ১২ ব্যারেল বিস্ফোরক পাতানো ছিল। দখলদাররা
ঢোকামাত্র ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাড়িটি কেঁপে ওঠে। ফলে বাড়িটিতে প্রবেশকারী একজন
ইসরাইলি সেনাও জীবিত বের হতে পারে নি।




এ নিয়ে ইসরাইলের হিসাব অনুযায়ী, গাজায়
আগ্রাসন চালাতে গিয়ে তাদের ৫৬ সেনা নিহত হলো। এছাড়া, হামাসের রকেট হামলায়
নিহত হয়েছে আরো তিন ইহুদিবাদী বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে হামাস বলেছে, তারা
অন্তত ১৩০ ইসরাইলি সেনাকে জাহান্নামে পাঠিয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের
ইতিহাসে ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩৩ দিনের যুদ্ধ ছাড়া এত বেশি
সংখ্যক সেনা আর নিহত হয় নি।


সুত্র : রেডিও তেহরান


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

"আমি একাই আজ ফিলিস্তিনের ১৩ শিশুকে হত্যা করেছি"





১৩ শিশুর হত্যাকারী হিসেবে পরিচয় দানকারী ইসরাইলি সেনা ডেভিড ওবাদিয়া

ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বর এক সেনা স্বীকার
করে বলেছে যে, সে একাই ফিলিস্তিনের ১৩ শিশুকে হত্যা করেছে। ডেভিড ওবাদিয়া
নামের ইহুদি এ সেনা বলেছে, একটি স্নাইপার রাইফেল দিয়ে সে একদিনে এসব
হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এসব নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঠিক কবে বা কখন ঘটিয়েছে এই
সেনা তা পরিষ্কার নয়।






অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ইসরাইল যখন
বর্বর হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং নারী-শিশুসহ নিষ্পাপ সাধারণ মানুষ একের পর
শহীদ হচ্ছেন তখন ইহুদিবাদী এ সেনা নিজের ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে এ কথা
জানিয়েছে। স্নাইপার রাইফেল ধরে থাকা অবস্থায় একটি ছবিও সে পোস্ট করেছে তার
একাউন্টে।




তবে অজ্ঞাত একটি হ্যাকার গ্রুপ তার এ ছবি স্পূর্ণভাবে মুছে ফেলেছে। গত
দু বছর ধরে এ হ্যাকার গ্রুপ ইসরাইলের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা
চালিয়ে আসছে। গত ৮ জুলাই থেকে গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালিয়ে আসছে ইহুদিবাদী
ইসরাইল। এ পর্যন্ত ইসরাইলের বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ট্যাংকের গোলার অসহায়
শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন ১,৪২০ জন ফিলিস্তিনি যার মধ্যে শুধু শিশুই রয়েছে
৩০০’র বেশি।  এছাড়া, আহত হয়েছেন ৮,২২০ ফিলিস্তিনি।


 সুত্র : রেডিও তেহরান




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ফিলিস্তিনের অলৌকিক শিশুটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে......





জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশু শায়মা (ফাইল ছবি)

বিশ্বের শান্তিকামী কোটি কোটি মানুষের
প্রার্থনাকে ব্যর্থ করে দিয়ে  ফিলিস্তিনের অলৌকিক শিশুটি শেষ পর্যন্ত মারা
গেছে। গত রোববার অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে দেইর আল-বালাহ্‌ শহরে
ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিমান হামলায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান আট মাসের
গর্ভবতী মা শায়মা আস –শেখ কানান (২৮)। এ অবস্থায় দ্রুত জরুরি সিজারিয়ান
অপারেশন করে তার গর্ভস্থ মেয়ে শিশুটির জীবন রক্ষা করেন চিকিৎসকদের দল। এ
কথা  জানিয়েছিলেন গাজার জরুরি বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা।

শহীদ
মায়ের নামে এ মেয়ের নাম রাখা হয়েছিল শায়মা। অপরিপক্ব শিশু শায়মাকে বাঁচিয়ে
রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন ইহুদিবাদী আগ্রাসনে সব অবকাঠামো নাস্তানাবুদ
হয়ে যাওয়া জনপদ, অবরুদ্ধ গাজার সাহসী চিকিৎসকরা। অপরিপক্ব শিশুকে স্বাভাবিক
পরিস্থিতিতেই বাঁচিয়ে রাখতে ব্যাপক আয়োজনের দরকার পড়ে। ইহুদিবাদী আগ্রাসনে
অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজায় সে ধরণের সহায়তা কতোটা জুটেছিল শায়মার বরাতে
তা সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু তারপরও হাল ছাড়েন নি চিকিৎসকদের দল। 
কিন্তু তিন দিনের মাথায়  গতকাল মঙ্গলবার শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব
প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মায়ের কাছে চলে যায় শায়মা।

হামাসের
সাহসী যোদ্ধাদের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারলেও গাজাকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত
করেছে আমেরিকাসহ পশ্চিমা ও কতিপয় আরব দেশের সমর্থনে বেড়ে ওঠা দানব
ইহুদিবাদী ইসরাইল। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজার
নিরপরাধ নারী ও শিশুদের ওপর নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধে সুবিধা
করতে না পেরে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের রক্তে হোলি খেলায় মেতে উঠেছে মানবতার
শত্রু ইসরাইল।

গত ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ইহুদিবাদী আগ্রাসনের এ
পর্যন্ত ১,২৬২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং হাজার হাজার জন আহত হয়েছেন। হতাহতের
সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। হতাহতদের এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে হতভাগ্য
ফিলিস্তিনি শিশুদের দল।

অবশ্য তিন সপ্তাহের এ আগ্রাসনে চড়া মূল্য
দিতে হয়েছে ইসরাইলি বাহিনীকে। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাসহ নিরীহ ফিলিস্তিনি মানুষ
মারছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা কেবল বেছে বেছে ইহুদিবাদী পশু সেনাদের
হত্যা করছে। ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায়  এ পর্যন্ত ৫৩ জন সেনা নিহত হওয়ার
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তেল আবিব।  





কিন্তু  ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ
আন্দোলন হামাস বলছে, প্রকৃতপক্ষে নিহত হয়েছে অন্তত ১১০ ইহুদিবাদী সেনা।
ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইহুদিবাদী সেনা হত্যার এ অসাধারণ
রণকৌশল, এ অঙ্গীকারবদ্ধ অভিযান, কালজয়ী এ বীরত্বগাঁথা অব্যাহত থাকবে বলে
হামাসের অকুতোভয় যোদ্ধারা ঘোষণা করেছেন।


সুত্র : রেডিও তেহরান




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ইসরাইলকে ১৭ বার বলেছি, স্কুলটিতে শরণার্থীরা থাকে: জাতিসংঘ





ইসরাইলি সেনাদের হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া একটি ফিলিস্তিনি পরিবার

জাতিসংঘ বলেছে, ইসরাইলকে বহুবার হুঁশিয়ার
করে দেয়া সত্ত্বেও তারা গাজা উপত্যকার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি
স্কুলে হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র ক্রিস গানেস আজ (বুধবার)
বলেছেন, “গোটা বিশ্ব এ হামলায় ক্ষুব্ধ হয়েছে।”






আজ ভোরে ফজরের নামাজের সময় জাবালিয়ায়
জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলের ঘুমন্ত শিশুদের ওপর ইহুদিবাদী সেনাদের পাশবিক
হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়।





গানেস বলেন, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের এই
স্কুলটিতে যে শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে তা ইসরাইলকে ১৭ বার জানানো হয়েছে।
আজ সকালে পাশবিক হামলাটি চালানোর কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি সর্বশেষ ইসরাইলকে
জানানো হয়। ইসরাইলি কামানের গোলা স্কুলটিতে আঘাত হেনেছে বলে জাতিসংঘের এ
মুখপাত্র জানান।





জাতিসংঘের শরণার্থী ও ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা
ইউএনআরডাব্লিউএ’র গাজা পরিচালক বব টার্নার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন,
জাবালিয়ার স্কুলে হামলার জন্য ইসরাইল দায়ী।




এর আগে গাজার অন্য একটি স্কুলে চালানো
হামলা অস্বীকার করে তেল আবিব দাবি করেছিল, হামাসের নিক্ষিপ্ত রকেট
লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে স্কুলে পড়েছে। টার্নার বলেন, জাতিসংঘের কর্মীরা ঘটনাস্থল
থেকে যে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তাতে বোঝা যায়, স্কুলটির উত্তর-পূর্বে মোতায়েন
ইসরাইলি সেনারা সেখানে কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে। বর্বর ইহুদিবাদী
সেনারা যথারীতি বলেছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।


সুত্র : রেডিও তেহরান




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের দাবিতে: তুরস্ক জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল






ইহুদিবাদী ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের দাবিতে
শুক্রবার তুরস্ক জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক কুদস দিবসের
মিছিল কার্যত ইসরাইলি দূতাবাস বন্ধের দাবির মিছিলে পরিণত হয়।






রাজধানী আঙ্কারায় বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলি
দূতাবাসের সামনে জড়ো হন এবং ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার জনগণের
প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। এ সময় তারা ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের সব ধরনের
ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানান। তবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদেরকে দূতাবাসে
ভবনের কাছে যেতে দেয় নি এবং সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের সংঘর্ষ ঠেকানোর ব্যবস্থা
করে। পরে বিক্ষোভকারীরা ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার পতাকা
পোড়ান।




এর আগে, তুরস্কের মুসলিমরা মার্কিন
দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানান।
তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদোগান ইসরাইল-বিরোধী রাজনীতিক হিসেবে
পরিচিত হলেও তার শাসনামলে তুরস্কের সঙ্গে ইসরাইলের বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও
সামরিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে।


সুত্র : রেডিও তেহরান


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ফিলিস্তিনি শিশুদের গোশত হালাল!: ফরাসি মেয়রের দম্ভোক্তি




প্যারিসের ডেপুটি মেয়র জ্যাক রেনোঁ
ইহুদিবাদী দখলদারদের হাতে শত শত ফিলিস্তিনি শিশু শহীদ হওয়ার ঘটনাকে পরিহাস
করে বলেছেন: ওদের গোশত হালাল।




সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ওই
মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন উগ্র ফরাসি ডানপন্থী দলের এই নেতা।
ইহুদিবাদী নরপিশাচদের পক্ষে ওই জঘন্য ও চরম সাম্প্রদায়িক উক্তি করে ৬৬ বছর
বয়স্ক রেনোঁ আরো বলেছেন, আমরা ইসরাইলে হামলার শিকার ফরাসি ইহুদিদের সমর্থন
দেব।



তার এইসব মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ
জানিয়েছেন মুসলমানরা। প্রায় ২৫ হাজার মুসলমান প্যারিসে বিক্ষোভ মিছিল করে
এই হঠকারিতার নিন্দা জানান। 



অবশ্য ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদের
মুখে রেনোঁ দাবি করেছেন যে, টুইটারের ওই একাউন্টটি তার নয়, অন্য কেউ তার
নাম ও পরিচয় ব্যবহার করেছে! 



উল্লেখ্য, বাক-স্বাধীনতার ধ্বজাধারী
হওয়ার দাবিদার ফরাসি সরকার সেদেশে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ও ইসরাইলি বর্বরতার
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল এবং সমাবেশ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে। কিন্তু সরকারি
এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত বেশ কয়েক দিন ধরে ফরাসি নাগরিকরা ফিলিস্তিনে
ইসরাইলি গণহত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছেন। অবশ্য পুলিশ এইসব বিক্ষোভ
দমনের জন্য ব্যাপক মাত্রায় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে।




গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা অভিযানে নিহতদের
বেশিরভাগই হল শিশু ও নারী।  সেখানে সাম্প্রতিক ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার
পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক শত শিশু শহীদ হয়েছে।

 সুত্র : রেডিও তেহরান


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

হামাসের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়েছে "পিএলও"




ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (পিএলও) বলেছে,
ইসরাইলের সঙ্গে  যুদ্ধবিরতির জন্য হামাস যেসব শর্ত দিয়েছে তার প্রতি এ
সংস্থার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।






পিএলও’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজ
(বুধবার) রামাল্লায় বলেন, বর্বর ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধ এবং গাজার
উপর ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া সব ধরনের অবরোধ তুলে নেয়ার যে দাবি হামাস করেছে
তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পিএলও। তিনি আরো বলেন, এসব দাবি আদায় করার
জন্যই  ফিলিস্তিনি নেতারা তাদের সব শক্তি ও সামর্থ‍্য কাজে লাগাচ্ছেন। 





হামাস ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির যেসব
শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে গাজা উপত্যকার উপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়া ও  মিশরের
সঙ্গে একমাত্র সীমান্ত পথ  রাফা ক্রসিং খুলে দেয়ার দাবি রয়েছে।





এ ছাড়া, হামাস  ইসরাইলি কারাগারে  আটক সব
ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তিসহ ইসরাইলের সঙ্গে ১‌০ বছরের যুদ্ধবিরতির শর্ত
দিয়েছে। ২০১১ সালের বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বহু ফিলিস্তিনি ইসরাইলের
কারাগারে থেকে মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরেই  তাদেরকে আবার ধরে নিয়ে
যায় ইসরাইল।




গত মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি ঐক্য সরকারের
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়
হামলা চালিয়ে  আন্তর্জাতিক আইন লংঘনসহ মানবতা বিরোধী অপরাধ করছে। তিনি আরো
বলেন, ফিলিস্তিনে যে ঐক্য সরকার গঠিত হয়েছে তা বানচাল করতেই ইসরাইল গাজায়
হামল চালিয়ে যাচ্ছে।


সুত্র : রেডিও তেহরান


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ইরাকের অখণ্ডতা রক্ষা করতে কুর্দিদের প্রতি কেরির আহ্বান




মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইরাকের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য কুর্দিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের নেতাদের সাথে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান। ইরাক সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য বর্তমানে দেশটি সফর করছেন কেরি।
গতকাল মঙ্গলবার তিনি ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে পৌঁছেন। দেশটির টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যাওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি সেখানে গেছেন। আগের দিন বাগদাদে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার সাথে আলোচনা করেন কেরি। তিনি ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি ও অন্য নেতাদের সাথে বৈঠককালে দেশটিতে সরকার গঠন প্রক্রিয়া জোরদারের আহ্বান জানান। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে কেরি বলেন, ইরাকি নেতৃবৃন্দ দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদপে নিলে ওয়াশিংটন ব্যাপক ও টেকসই সহায়তা দেবে। আর তখন তা হবে অধিক কার্যকর। তিনি বলেন, ‘ইরাকের ভবিষ্যতের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা মনে করেন ইরাকের অখণ্ডতা রক্ষায় কুর্দি নেতাদের বাগদাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে সম্মত করা জরুরি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা যদি বাগদাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাতে অনেক নেতিবাচক প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
কুর্দি নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরাকের অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টা এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। কেরির সাথে বৈঠকের শুরুতে কুর্দি প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানি বলেন, আমাদের সামনে এখন নতুন এক বাস্তবতা ও নতুন এক ইরাক রয়েছে। এর আগে তিনি সহিংসতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির ভ্রান্ত নীতিকে দায়ী করেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ইরাকের অখণ্ড থাকার কথা চিন্তা করা কঠিন।
ন্যাটোর মন্ত্রীদের বৈঠক
ইরাক সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল মঙ্গলবার বৈঠকে বসেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাগদাদের দিকে অগ্রসরমান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাককে ‘ব্যাপক’ সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করার পর এ বৈঠক হয়। চলতি মাসের শুরুতে ন্যাটো প্রধান অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন বলেন, ইরাকের ঘটনাবলির প্রতি জোট গভীর নজর রাখছে। তবে তিনি এও বলেন, সঙ্ঘাতের ঘটনায় তাদের কিছু করার নেই।
প্রধান তেল শোধনাগার দখল করল আইসিস
 দেশটির প্রধান তেল শোধনাগারটি দখল করেছে বলে দাবি করেছে আইসিস।
ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ ওই তেল শোধনাগারটি রাজধানী বাগদাদের উত্তরে সালাউদ্দিন প্রদেশের বেইজি শহরে অবস্থিত। এর আগে দলটি ওই তেল শোধনাগার দখলেরও জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালায় তারা। এ শোধনাগারটি দেশের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।
স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দ্বারপ্রান্তে আইসিআইএস
ইরাকের বিদ্রোহীরা সিরিয়া সীমান্তের সব ক’টি এবং জর্দান সীমান্তের একটি সীমান্ত চৌকি দখল করে নিয়ে গোটা পশ্চিম সীমান্তে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দখলকৃত এলাকাকে নিয়ে তারা যে নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাকে বাস্তব রূপ প্রদানে সক্ষম হয়েছে।
সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে সিরিয়া, জর্দান এমনকি সৌদি আরবে বিদ্রোহী তৎপরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। জর্দান ও সৌদি আরব হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের অন্যতম।





Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

সাদ্দাম হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডদানকারী বিচারকের ফাঁসি কার্যকর করেছে সুন্নি বিদ্রোহীরা




ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডদানকারী বিচারক রউফ আবদুল রহমানকে ‘ধরে ফাঁসি কার্যকর’ করেছে দেশটির সুন্নি বিদ্রোহী সংগঠন আইএসআইএস।
সুপ্রিম ইরাকি ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনালের প্রধান হিসেবে ২০০৬ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আবদুল রহমান। সুন্নি বিদ্রোহীরা গত সপ্তাহে ৬৯ বছর বয়স্ক ওই বিচারককে আটক করে। তবে ইরাক সরকার এখনো তার মৃত্যু নিশ্চিত করেনি। তবে তাকে যে আটক করা হয়েছে, সে খবর অস্বীকার করেনি।


১৬ জুন তাকে আটক করা হয় বলে ধারণা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর তার মৃত্যু ঘটে এর দুই দিন পর।
জর্দানি এমপি খালিল আত্তিয়া তার ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, বিচারক রহমানকে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। 
তিনি বলেন, শহিদ সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর বদলা নিতে ইরাকি বিপ্লবীরা তাকে গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তিনি লিখেছেন, বিচারক রহমান নর্তকীর পোশাক পরে বাগদাদ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সফল হননি।


সাদ্দামের সাবেক সহকারী এবং বর্তমানে বিদ্রোহীদের অন্যতম নেতা ইজ্জাত ইব্রাহিম আল দুরিও বিচারক রহমানকে আটক করার খবর তার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন।
কুর্দিশ নগরী হালবিয়ায় জন্মগ্রহণকারী বিচারক রহমান ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে সাদ্দামের বিচার করার দায়িত্ব নেন। বিচারকাজ তখন মাঝপথে ছিল। তার আগের বিচারক রিজগার আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি সাদ্দাম হোসেন ও তার সহযোগীদের প্রতি বেশ নমনীয় ছিলেন।


বিচারক রহমান তিন সন্তানের জনক। তিনি ১৯৯৬ সালে কুর্দিশ আপিল কোর্টের প্রধান বিচারক নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮২ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত সন্দেহে ১৪৮ জনকে হত্যার অভিযোগে সাদ্দামকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। ওই রায়ের পর সাদ্দামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ঈদ উল আযহার দিন সাদ্দামের ফাঁসি দেয়া হয়।
খবর পাওয়া গিয়েছিল, জীবনের ভয়ে ২০০৭ সালে বিচারক রহমান ব্রিটেনে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। তবে কেন তা অনুমোদিত হয়নি, তা জানা যায়নি।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ইরাক নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শরিক ইরাকি নেতাদের মুখোশ খুলে গেল




ইরাকের পদচ্যুত সংসদ স্পিকার ওসামা আন
নাজিফি ও স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানি
পরস্পরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা এক বিবৃতিতে তাদের ভাষায় 'ইরাকে
সন্ত্রাসী তৎপরতা ও সংখ্যালঘু সুন্নি মুসলমানদের বৈধ দাবিগুলোকে' একই
পাল্লায় বিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।




ইরাক সরকার যখন দেশটিতে সন্ত্রাসীদের
ব্যাপক হামলা ও অভিযান মোকাবেলা করছে তখন দেশটির এই দুই কর্মকর্তা বাগদাদ
সরকারের সঙ্গে সুর না মিলিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলে পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসীদেরই
অবস্থান জোরদারের চেষ্টা করছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আলকায়দার নতুন
সংস্করণ আইএসআইএল সম্প্রতি মসুল, তিকরিত ও কারকুকে হামলা চালিয়ে এইসব শহরের
বেশ কিছু অঞ্চলের ওপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার পর সেখানে গণহত্যাসহ নানা
নৈরাজ্যের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।



ইরাকের শিয়া ও সুন্নি আলেম সমাজ,
বিশেষ করে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ সিস্তানি এই সন্ত্রাসী তাকফিরি গোষ্ঠীদের
ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করার আহ্বান জানানোর পর দেশটির প্রায় ১৫ লাখ
বেসামরিক নাগরিক যুদ্ধ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হয়েছেন এবং সরকারি সেনারা
নতুন উদ্যম নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে নানা
অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত বা কোণঠাসা করতে শুরু করেছে।



সন্ত্রাসীদের প্রতি এ অঞ্চলের কিছু
আরব সরকারের ও বিশেষ করে সৌদি সরকারের সমর্থন সুস্পষ্ট। সৌদি আরবের ১৫০ জন
গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইরাকে ঢুকে এই দেশটিতে সক্রিয় রয়েছে বলে খবর এসেছে। 



ইরাকে সন্ত্রাসীদের সাম্প্রতিক
উত্থানের ঘটনায় সাদ্দামপন্থী সাবেক বাথিস্টদেরও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে এ
ক্ষেত্রে সাদ্দাম সরকারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ্জাত আদদৌরার
নেতৃস্থানীয় ভূমিকাও লক্ষণীয়।



ইরাকের পদচ্যুত সংসদ স্পিকার ও তার
ভাই আসিল আন নাজিফি সন্ত্রাসীদের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখেছিলেন ও এখনও রেখে
যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। অতি সম্প্রতি তারা বাথিস্ট এবং
ওয়াহাবি-তাকফিরি সন্ত্রাসীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে সেই অভিযোগের
সত্যতাই প্রমাণ করলেন। সাবেক ইরাকি স্পিকারের ভাই ছিলেন নেইনাভা প্রদেশের
গভর্নর। এক নীল-নক্সার আওতায় কোনো কোনো ইরাকি সেনা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে
বিনা বাধায় সন্ত্রাসীদের মসুল জয়ের ঘটনায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছিলেন
আসিল আননাজিফি।



নাজিফি ভ্রাতৃদ্বয় তথা নাজিফি নামের
এই দুই ভাই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইরাকের নুরি আল মালিকি সরকারের নীতি
অবস্থান বাস্তবায়নে সহায়তা করলে সন্ত্রাসীরা সাম্প্রতিক বিপর্যয়গুলো ঘটাতে
সক্ষম হতো না।



উল্লেখ্য, দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার
দায়ে ইরাকের ফেডারেল আদালত এক রায়ে দেশটির সংসদ স্পিকার ওসামা আন নাজিফিকে
সংসদ থেকে বহিষ্কার করেছেন এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তালিকা থেকে তার
নামও কেটে দিয়েছে। আর আদালতের এই রায় শোনার পর নাজিফি বাগদাদ ছেড়ে তুরস্কে
পালিয়ে যান।



স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের
প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানিও ইরাকের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে
ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বলেই নানা খবর এসেছে।



উল্লেখ্য, বারাজানির সঙ্গে কারকুকসহ
নানা অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে বাগদাদের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ নিষ্পত্তির
দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের কিছু অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে
ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে বারাজানি ওয়াদা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বারাজানি এখন
বাথিস্ট ও তাকফিরি সন্ত্রাসীদের অনুকূলে অবস্থান নিয়েছেন।



সাম্প্রতিক এক খবরে জানা গেছে, মাসুদ
বারাজানি সম্প্রতি মুনাফিক গোষ্ঠী নামে কুখ্যাত ইরানের ইসলামী সরকার বিরোধী
নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রধান মারিয়াম রাজাভির সঙ্গে প্যারিসে বৈঠক
করেছেন। ওই বৈঠকে বারাজানি রাজাভিকে এই প্রতিশ্রুতি দেন যে, নুরি আল মালিকি
যাতে তৃতীয় বারের মত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন সে জন্য তিনি সব
ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন।




তাই এটা স্পষ্ট সম্প্রতি কুর্দিস্তানের
প্রেসিডেন্ট বারাজানির সঙ্গে ইরাকের পদচ্যুত সংসদ স্পিকারের সাক্ষাৎ ও বৈঠক
ইরাকের নিরাপত্তা বিরোধীদের একই ষড়যন্ত্রের সুতোয় গাঁথা একটি পদক্ষেপ।
বারাজানি ও নাজিফিও তাদের অশুভ মতলব হাসিলের জন্য শিয়া-সুন্নি বিরোধের
কার্ড ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। তারা এমন সময় সন্ত্রাসী তৎপরতা ও সুন্নিদের
বৈধ দাবির মধ্যে পার্থক্য করার দাবি জানালেন যখন ইরাকের সুন্নি সমাজের
আপামর জনতা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের দিকে সাহায্যের হাত
বাড়িয়ে দিয়েছেন। ইরাকের সুন্নি আলেমরাও আইএসআইএল-এর তৎপরতাকে সন্ত্রাসী
তৎপরতা বলে অভিহিত করেছেন এবং সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে সরকারকে সহযোগিতা
করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আইএসআইএল হচ্ছে আমেরিকার সন্ত্রাসী সংগঠনের একটি শাখা




কথিত ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড
লিভ্যান্ট বা আইএসআইএল হচ্ছে আমেরিকার সন্ত্রাসী সংগঠনের একটি শাখা।
আমেরিকাই এদেরকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে।
এছাড়া, প্রতিবেশী জর্দানে আইএসআইএল সন্ত্রাসীদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে
খোদ আমেরিকা।






ইরানের প্রেস টিভির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকার এসব কথা বলেছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্যাট্রিক ড্যানিয়েল ওয়েলচ।





ইরাকে বিমান হামলার জন্য কংগ্রেসের
অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে
মন্তব্য করেছেন সে সম্পর্কে ওয়েলচ বলেন, এটা শুধু এখন নয়; সেই ভিয়েতনাম
যুদ্ধের সময় থেকে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং সাম্প্রদিক বছরগুলোতে তা
বেড়েছে। ওবামার সাম্প্রতিক উক্তির অর্থ হচ্ছে, “তোমরা সবাই জাহান্নামে যাও;
তোমাদেরকে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।”




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বিদ্রোহী দমনে মার্কিনি সহায়তা চাইলো ইরাক




ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) বাহিনী দমনে আকাশ পথে মার্কিনি হামলার সহযোগিতা চেয়েছে ইরাক সরকার। বুধবার ইরাকের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে দখল করে নেওয়ার পর ইরাক এ সহযোগিতা চাইলো।

ইরাকে শিয়া জনগোষ্ঠী সরকার গঠন করলেও সে দেশে মুসলিম সুন্নি জনগোষ্ঠী সংখ্যা গরিষ্ঠ। এদিকে,  সুন্নি জঙ্গি গোষ্ঠী বুধবারই মসুল শহর দখল করে নেয় এবং এরপর তারা বাগদাদ অভিমুখে অভিযান শুরু করে।

অপরদিকে, ইউএস মিলিটারির জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল মার্টিন ডিম্পসে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী দমনে  ইরাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিদ্রোহীদের ওপর আকাশ পথে হামলা চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইরাক সরকারের অনুরোধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাড়া দেবে কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

মার্টিন শুধুমাত্র বলেন, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বাহিনীকে প্রতিরোধ করা দরকার। অন্যদিকে, সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থানরত ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসিয়ার জেবারি বলেন, মার্কিনিদের আকাশ পথে হামলা বিদ্রোহী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেবে। এর আগে ইরাকে মার্কিন দূতাবাস রক্ষায় ৩০০ মেরিন সেনা পাঠাতে সম্মত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বাগদাদের আরেক চিত্র




বাগদাদ বললে এখন আর আলিফ লায়লাখ্যাত খলিফা হারুন অর রশিদ আমলের সুখ আর সমৃদ্ধির প্রতিশব্দ বোঝায় না। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ স্থানগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে কিংবদন্তির এই নগরীটি। ইরাকে গণতন্ত্র আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাদ্দাম হোসেনকে হটিয়েছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য বাহিনী। সাদ্দামকে তারা ফাঁসিও দিয়েছিল। কিন্তু গণতন্ত্র কিংবা মানবাধিকার- কোনোটারই দেখা মেলেনি সেখানে। পরিস্থিতি বরং আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে। হত্যা, হানাহানি, নির্যাতন এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সুন্নিদের বিরুদ্ধে চলছে নজিরবিহীন তাণ্ডব। দুবাইভিত্তিক আল জাজিরার সংবাদদাতা ইমরান খান এমনই একটি কাহিনী তুলে ধরেছেন। এই কাহিনীর নায়ক ফিরাজ। তবে এটি তার প্রকৃত নাম নয়। তিনি যাতে নতুন করে কোনো বিপদে না পড়েন, সে জন্য তার আসল নামটি গোপন রাখা হয়েছে।

বাগদাদের আদামিয়া মহল্লার ওপর রাতের কালো চাদর নেমে এসেছে। তবে মহল্লার প্রধান চত্বরটি তাতে বরং প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ক্যাফেতে একদল তরুণ সমবেত হয়েছে। কেউ ‘নারগিলা’ টানছে, কেউ পাশা খেলছে। কেউ কেউ ছোট্ট একটা ফুটবলে লাথি দিচ্ছে, পরে আছে প্রিয় দলের গেঞ্জি।
চত্বরটির ঠিক পরেই আবু হানিফা মসজিদ। বাইরে যারা রিলাক্স করছে, তাদের কাছে মসজিদটির জাকালো ও জৌলুসময় অবয়বটি উষ্ণতা ছড়াচ্ছে।
বাগদাদে যে ভয়াবহ সহিংসতা চলছে, তা থেকে আদামিয়া রক্ষা পেয়েছে। অনেকেই রাতের শীতলতা কিংবা বন্ধুদের সাথে কিছুটা সময় কাটাতে এখানে আসেন, এখানকার নিরাপদ পরিবেশ উপভোগ করেন।
তবে সবাই এমনটা করতে পারেন না। এ কারণেই মসজিদের ভেতরে থাকা একটা লোক বাইরে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আমি তার কাছ থেকে ৩ অক্টোবরের কাহিনী শোনার জন্য মসজিদের ভেতরে গেলাম।
ফিরাজ সে দিন তার বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন।
‘হঠাৎ করে প্রচণ্ড শব্দ আর লোকজনের চিৎকার শুনতে পেলাম। তখন রাত ২টা। আমাদের রুমে আমি ছাড়াও ছিলাম আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সৈন্যরা চলে এলো। তারা আমাকে আর আমার স্ত্রীকে ঘুষি দিতে লাগল। ঘরের কোনে বসে থাকা আমার সন্তানেরা ভয়ে কাঁদছিল। তারা আমাকে লাঠি দিয়ে পেটাল।’
‘আমাকে তারা টেনে ঘর থেকে বের করল। আমার পরনে তখন মাত্র আন্ডারওয়্যার। আমাকে একটা পিকআপে ছুড়ে ফেলা হলো। আমাকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কারাগারে নেয়া হলো। আমার সাথে ছিল ৭০ বছর বয়স্ক এক পঙ্গু লোক। আমাদের কেন এখানে আনা হয়েছে, তা আমি বা ওই লোক- কেউ জানতো না।’

নরকে তিন দিন
ফিরাজ বলেন, তাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি জানান, তার আটককারীরা তাকে নিয়মিত পেটাত, তাকে খাবার বা পানি দিত না।
‘তিন দিন নরকে থাকার পর তারা চোখ বেঁধে আমাকে ভিন্ন একটি স্থানে নিয়ে গেল। অভিযোগ করল, আমি কোনো একটা সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে জড়িত। একপর্যায়ে বলল, আমি নাকি আল কায়েদার সদস্য।’
ফিরাজ বলেন, সুন্নি হওয়ার কারণে তাকে ধরে আনা হয়। ইরান শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আর আল কায়েদার মতো সুন্নি গ্রুপগুলো সেখানে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
তিনি প্রথমে আটক হয়েছিলেন ২০০৬ সালে, আমেরিকান বাহিনীর হাতে। তখন ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছিল। তাকে কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই দুই বছরের জন্য আটক রাখা হয়। মুক্তির পর তাকে আবার আটক করা হয়। এ আল কায়েদার মোকাবেলায় সুন্নি ইরাকি মিলিশিয়া বাহিনীর হয়ে কাজ করার জন্য তাকে আট মাস আটকে রাখা হয়। তিনি জানান, আবারো কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
‘আমি তরুণ সুন্নি। সম্ভবত কেবল এই কারণেই তারা আমাকে গ্রেফতার করছে।’
আমেরিকানদের প্রত্যাহারের পর তারা সব নথিপত্র ইরাকি সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। ফিরাজ বলেন, সরকার খুশি মতো আমাদের হয়রানি ও গ্রেফতার করার জন্য ওই সব নথিপত্র ব্যবহার করছে।
তিনি আরো জানান, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ছাড়াও একটি বিশেষ সরকারি বাহিনী রয়েছে লোকজনকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। অন্যান্য বাগদাদবাসীর মতো তিনিও এই ভুতুড়ে বাহিনীকে ‘ডার্টি স্কোয়াড’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই বাহিনীর অবশ্য একটি সরকারি নাম আছে : কাউন্টারটেরিরিজম স্পেশাল ফোর্স। তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্বাধীন।
তিনি জানান, ৩ অক্টোবর আটক করার জন্য ডার্টি স্কোয়াড তাকে এক মাসের বেশি আটকিয়ে রাখে। তারপর কোনো অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেয়। তিনি তার আটক করার ব্যাপারে কোনো কাগজপত্র তৈরি করছেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘না’।

সরকারি প্রতিক্রিয়া
ফিরাজকে আটকের ব্যাপারে আলজাজিরা ওই ইউনিটের সাথে যোগাযোগ করে। ওই বাহিনীর একটি সূত্র গোপনে জানায়, তারা আইন অনুযায়ী কাজ করে। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিযা জানাবে না।
এই বাহিনী ইরাকি আইনবহির্ভূত কোনো কাজ করছেÑ এমন অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মাত্র চার দিন রাখা হয়। এরপর তাদের আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
ফিরাজের বক্তব্য প্রমাণ করার মতো কোনো কাগজপত্র নেই, তবে মসজিদে তখন উপস্থিত লোকজন তার কথা সমর্থন করেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ইরিন ইভার্স বলেন, ফিরাজের মতো অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন আরো অনেকে।
ইভার্স বলেন, সন্ত্রাসপ্রতিরোধ বাহিনী নামে যে সংস্থাটি গঠন করা হয়েছে, সেটি আইনের তোয়াক্কা করে না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তাদের হাতে আটক করার কোনো প্রমাণপত্র থাকে না। আটক ব্যক্তিদের কোনো ধরনের বিচার ছাড়াই মুক্তি দেয়া হয়।
বাগদাদে আবারো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটা দমন করা সরকারের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কিন্তু সেটা নাগরিক স্বাধীনতার দামে?
ফিরাজি বলেন, ইরাকে থাকার ইচ্ছা তার উবে গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে বাস করতে পারি না। আমি এই দেশ ছেড়ে যাচ্ছি। আমি ভাবি : আমি কি রাতে আমার বিছানায় থাকতে পারব, না কি কেউ ঘুম থেকে আমাকে টেনে নামিয়ে আনবে।’




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

নতুন আলকায়দা 'আইএসআইএল'-এর উত্থানের ইতিহাস




কয়েক বছর আগের একটি দৃশ্য হয়তো অনেকেরই
মনে আছে। ওই দৃশ্যে দেখা যায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সৌদি
রাজার আয়োজিত এক ভোজসভায় তলোয়ার নিয়ে রাজার সঙ্গে নাচছেন। সেই তরবারি ছিল
একটি বিশেষ অবস্থার প্রতীক ও আভাস। 






আজ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম জনগণ মুসলিম
নামধারী একদল সন্ত্রাসীর হাতেই নিহত হচ্ছে! মৃত্যুর ব্যবসায়ীদের
প্রেতাত্মারা সেখানে নিরপরাধ মানুষের মাথা দিয়ে ফুটবল খেলছে। হত্যা ও
ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মুসলিম মেয়েরা কথিত জিহাদিদের হাতে! 





এ অবস্থায় প্রকৃত ইসলাম ও ধর্মান্ধদের
সন্ত্রাসী ইসলামের পার্থক্য তুলে ধরা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশ্চাত্য প্রকৃত
ইসলামী জাগরণকে সন্ত্রাসী ইসলামের মাধ্যমে প্রতিহত করতে চায় যাতে নিরাপদ
থাকে বিশ্বব্যাপী তাদের লুণ্ঠন ও দখলদার ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী
তৎতপরতা। আর ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পারলে পাশ্চাত্যে অমুসলিমদের
ইসলাম গ্রহণের হিড়িকও কমে আসবে বলে ইসলামের শত্রুরা আশা করছে। 





তথাকথিত মুসলিম সন্ত্রাস নিয়ে পাশ্চাত্য ও
বিশেষ করে হলিউড নানা ছায়াছবিও নির্মাণ করছে। তবে সম্প্রতি পাশ্চাত্যের
গোপন ও প্রকাশ্য-মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী দল 'আইএসআইএল' উত্থান কোনো চলচ্চিত্র
নয় বরং বাস্তব ঘটনা। 




সন্ত্রাসী দল আল-কায়দার নতুন সংস্করণ
ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এন্ড লিভান্ট বা সংক্ষেপে 'আইএসআইএল' একটি
ওয়াহাবি-সালাফি জঙ্গি সংগঠন। গ্রুপটির নাম থেকেই বোঝা যায় উগ্র বা কথিত
সালাফি ইসলামের ভিত্তিতে ইরাক ও আশশাম তথা বৃহত্তর বা প্রাচীন সিরিয়ায়
(লেবানন ও ফিলিস্তিনসহ) একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা গ্রুপটির
উদ্দেশ্য। 





অনেকেই মনে করেন আফগানিস্তানে সাবেক
সোভিয়েত দখলদারিত্ব ও প্রভাব মোকাবেলার জন্য আমেরিকাই বিন লাদেনকে দিয়ে গঠন
করেছিল আল-কায়দা ও আরো পরে গঠন করে তালিবান। 





তালিবান ও আল-কায়দাকে দ্বিমুখী বা
ত্রিমুখী কাজে ব্যবহার করেছে সিআইএ। প্রথমতঃ ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে এক
শ্রেণীর যুবককে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা, দ্বিতীয়তঃ প্রথম এই উদ্দেশ্য
হাসিলের পর তথা সরলমনা ধর্মান্ধ যুবকদের ব্যবহার করার পর ইসলামের নামে
ধর্মান্ধতার বিস্তার ও জঙ্গিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে
ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক ও খারাপ ধারণা ছড়িয়ে দেয়া এবং তৃতীয়তঃ এদেরকে
সন্ত্রাসী তৎপরতায় ব্যবহার করে সেই একই সন্ত্রাস দমনের নামে দেশে দেশে
হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হয় আমেরিকা।






যাই হোক, ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার সময় সর্বপ্রথম গঠিত হয়েছিল 'আইএসআইএল' গ্রুপ। তখন গ্রুপটির নাম ছিল ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক।

২০০৬
সালের ১৫ অক্টোবর বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার
পর 'আইএসআই'-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের কথা ঘোষণা করা হয় এবং আবু ওমর আল
বাগদাদি গ্রুপটির নেতা বলে জানানো হয়। 





২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল আবু ওমর নিহত হলে
আবুবকর আল বাগদাদি এই জঙ্গি গ্রুপটির নতুন প্রধান হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে
গ্রুপটির বিস্তার শুরু হয়। 





'নয়া বিন লাদেন' নামে খ্যাত বাগদাদিকে
ধরিয়ে দেয়ার জন্য মার্কিন সরকার দশ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
বাগদাদি ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইরাকের উম্মে কাসর শহরে একটি
মার্কিন কারাগারে বন্দি ছিল। ২০০৩ সালের আগেও সে আল-কায়দার সদস্য ছিল বলে
মনে করা হয়। তাকেসহ হাজার হাজার চরমপন্থি বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয় উম্মে
কাসর শহরের 'বুকা' কারাগার থেকে। বাগদাদির আসল নাম ছিল আবু দায়া। ২০০৫ সালে
তাকে হত্যা ও অপহরণসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগে গ্রেফতার করা
হয়েছিল। ইরাকি নাগরিকদের অপহরণের পর আবু দায়া তাদের বিরুদ্ধে এক গাদা
অভিযোগের ফিরিস্তি শুনিয়ে তাদেরকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিত। 





বাগদাদি ২০১১ সালে বাগদাদের একটি মসজিদ
বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়। এ ছাড়াও সে ইরাকের সুন্নিদের প্রতিনিধি বা নেতা
হিসেবে খ্যাত খালেদ আল ফাহদাওয়িকেও হত্যার জন্য অভিযুক্ত হয়। 





ইরাকের কয়েকটি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে
দক্ষ বাগদাদি এখন ছায়ামূর্তির মত গোপনে বিচরণ করে এবং তার কর্মী ও ভক্তরাও
খুবই কমই তাকে দেখতে পেয়েছে। সে প্রায় সব সময়ই তার মুখ ঢেকে রাখে যাতে কেউ
তাকে চিনতে না পারে। আল-কায়দার অন্য যে কোনো নেতার চেয়ে আবুবকর বাগদাদি
অনেক বেশি উগ্র চিন্তাধারায় বিশ্বাসী বলে জানা গেছে। 





সিরিয়ায় কট্টর ইসরাইল-বিরোধী আসাদ সরকারকে
উৎখাতের লক্ষ্যে পাশ্চাত্য, ইসরাইল এবং তাদের আঞ্চলিক সেবাদাস সরকারগুলোর
মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হলে 'আইএসআই'ও
বিদ্রোহীদের পক্ষে যোগ দিয়ে এ যুদ্ধে অংশ নেয়।





গ্রুপটি পরে তার নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম ধারণ করে। 





সিরিয়ায় ২০১১ সালে গঠিত আন নুসরা ফ্রন্টও 'আইএসআইএল'-এর একটি শাখা হিসেবে দেশটির সরকারি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকে। 





২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে আবু বকর আল
বাগদাদি এক অডিও বার্তায় জানিয়ে দেয় যে 'জিবহাতুন নুসরা' বা 'আন নুসরা
ফ্রন্ট' 'আইএসআই'-এর অর্থ ও সহায়তা নিয়েই গঠিত হয়েছে এবং এই দুই গ্রুপ
একত্রিত হয়ে 'আইএসআইএল' নাম ধারণ করেছে।




কিন্তু এই দুই গ্রুপের মধ্যে শুরু হয়
ক্ষমতা নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব। দুই গ্রুপের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ
করতে থাকলে উভয় গ্রুপের কাছে শ্রদ্ধেয় আল-কায়দার নেতা (আইমান আল জাওয়াহেরি)
সিরিয়ার জন্য আন নুসরা ফ্রন্টকেই নিজের প্রতিনিধি বলে ঘোষণা করে এবং আন
নুসরার নেতার আনুগত্য করতে বাগদাদিকে নির্দেশ দেয়। 





'আইএসআইএল'-এর যোদ্ধারা গত দশই জুন ইরাকের
নেইনাভা প্রদেশের প্রধান শহর মসুলের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নেয়। শহরটি
জনসংখ্যার দিক থেকে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এ ছাড়াও তারা দখল করে
ফাল্লুজা ও সাদ্দামের জন্মভূমির শহর তিকরিত। তিকরিত সালাহউদ্দিন প্রদেশের
প্রধান শহর।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সরকারি ও গণবাহিনীর হামলার মুখে এইসব অঞ্চলের বহু স্থান থেকে বিতাড়িত হয়েছে 'আইএসআইএল'-এর সেনারা। 





ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকিসহ
অনেক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরাকের একদল সেনা কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ায় এক
ষড়যন্ত্রমূলক সমঝোতার আওতায় এই প্রদেশের ৫০ হাজারেরও বেশি সরকারি সেনা কোনো
ধরনের বাধা না দিয়েই সন্ত্রাসীদের কাছে শহরটির প্রধান সরকারি ভবন,
অস্ত্রাগার, ব্যাংক ও কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়।






২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে
'আইএসআইএল' সিরিয়ার রাক্কা শহরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে আসাদের বিরুদ্ধে
বিদ্রোহী কথিত ফ্রি-সিরিয়ান আর্মির সেনাদের বিতাড়িত করে। সেখানে জঙ্গি এই
গ্রুপ একটি স্থায়ী ঘাঁটিও গড়ে তোলে। রাক্কার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়
নানা ধরনের কঠোর ও চরমপন্থার শাসন। ফলে সেখানে প্রায়ই প্রকাশ্যে ঘটেছে
হত্যাযজ্ঞ ও নানা ধরনের কঠোর শাস্তি যার শিকার হয়েছে নিরপরাধ বেসামরিক
সিরিয় জনগণ।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থক
'সিরিয় মানবাধিকার পর্যবেক্ষক' সংস্থা বা এসওএইচআর বলেছে: 'আইএসআইএল' হচ্ছে
উত্তর সিরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রুপ। 





'আইএসআইএল'-কে আমেরিকা ও ইসরাইল ছাড়াও অর্থ, অস্ত্র, রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি সরকার।

মসুলে
এই জঙ্গি দলটির অভিযানের পর ইরাকি কর্মকর্তারা সৌদি ও তুর্কি গোয়েন্দা
সংস্থাকে এবং ইরাকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক আল হাশিমিকে এই অভিযানের
নেপথ্য পরিচালক বলে অভিযোগ করেছে। হাশিমি 'আইএসআইএল'-এর উত্থানকে ইরাকি
জনগণের স্বপ্নের বিপ্লব বলে দাবি করেছেন। 





ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে গোটা
মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাষড়যন্ত্রের আওতায় অস্থিতিশীল করার জন্যই সন্ত্রাসীরা
ইরাকে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু করেছে। 





একদল বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞ মনে করছেন,
ইরাকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায়
জয়ী হওয়া নুরি আল মালিকির রাজনৈতিক জোটকে ক্ষমতাচ্যুত করার এক মহাষড়যন্ত্র
করছে দেশী-বিদেশী কয়েকটি চক্র। আর এইসব চক্রের মদদদাতারা হল ইসরাইলি,
মার্কিন, তুর্কি, কাতারি ও সৌদি সরকার। তারা ইরাকে সিসির মত কোনো ব্যক্তিকে
ক্ষমতায় বসাতে চান। এই সরকারগুলো ইরাকের আগে সিরিয়ায়ও বিনা অপরাধে
বেসামরিক সাধারণ মুসলমানদেরকে কাফির বলে হত্যা করতে অভ্যস্ত ওয়াহাবি-সালাফি
মতবাদে বিশ্বাসী আইএসআইএল ও আলকায়দাসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী দলকে অস্ত্র,
অর্থ, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহায়তা দিয়ে এসেছে। 





'আইএসআইএল'-এর কিছু বৈশিষ্ট্য:



১.তাদের
বেশিরভাগই হচ্ছে বহিরাগত অর্থাৎ বিদেশী এবং তাদের খুব কম সংখ্যকই ইরাকের
অধিবাসী। আর এদের প্রতি রয়েছে সৌদি দরবারি ওয়াহাবি মুফতিদের সমর্থন।
ওয়াহাবিদের মতে তারা নিজেরা ও হাম্বলী মাজহাবের অনুসারী ছাড়া হানাফি ও অন্য
মাজহাবগুলোর সব ইমাম ও তাদের অনুসারীরা সবাই কাফির এবং এদের হত্যা করা
বৈধ। অর্থাৎ সুন্নিদের তিন মাজহাব ও শিয়া মাজহাবের অনুসারীরা সবাই কাফির
এবং এদের হত্যা করা বৈধ। 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীদের প্রত্যেককেই প্রতি
মাসে ১০০০-১৫০০ ডলার বেতন দেয়া হয়। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সৌদি আরব,
কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাত যোগান দিয়ে যাচ্ছে।






২. এইসব সন্ত্রাসীরা যে সব
অঞ্চল দখল করেছে সেখানেই নৃশংস ও জঘন্য হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। নারী, শিশু,
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কাউকে এরা রেহাই দেয়নি। শুধু তাই নয় এর আগে সিরিয়ায় দেখা
গেছে, এইসব সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে নিহতদের বুক ও পেট চিড়ে হৃদপিণ্ড,
কলিজা ইত্যাদি বের করে এনে চিবিয়ে খেয়েছে এবং এ সব দৃশ্যের সচিত্র ভিডিও
ফুটেজও এরা প্রকাশ করেছে ইন্টারনেটে। 





'আইএসআইএল'-এর সেনারা এরিমধ্যে তাদের
দখলকৃত অঞ্চলে হাজার হাজার বন্দী সেনাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সেসবের ছবি
ইন্টারনেটে পোস্ট করেছে। তাদের সেনারা নানা অঞ্চলে ইরাকি নারীদের ধর্ষণ
করেছে বলেও খবর এসেছে। 'আইএসআইএল'-এর আধ্যাত্মিক উৎসাহদাতা ওয়াহাবি
মুফতিদের ফতোয়া অনুযায়ী বিজিত অঞ্চলের নারীদের স্ত্রীর মত ব্যবহার করা
হালাল বা বৈধ। 





এরিমধ্যে মসুলে জোর করে নারীদের বিয়ের অথবা ধর্ষণের ঘটনার পর চার জন নারী আত্মহত্যা করেছে বলে খবর দিয়েছে জাতিসংঘ।


ইরাকে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী দল আইএসআইএল মসুলে ১২ জন সুন্নি আলেমকে হত্যা করেছে।


দলটির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে
অস্বীকৃতি জানানোয় এই ১২ জন সুন্নি আলেমকে তারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে
গত শনিবার আল ইরাকিয়া টিভি খবর দিয়েছে।


অন্য এক ঘটনায় আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীরা
মসুলের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমামকে হত্যার পর তার লাশকে টুকরো টুকরো করে।
তাদের দৃষ্টিতে ওই ইমামের অপরাধ ছিল এটা যে তিনি তাদের দলে যোগ দিতে
অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। স্থানীয় আলেমরা এই নৃশংস ঘটনা ঘটার কথা জানিয়েছেন।




৩. 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীরা ইসলামসহ
নানা ধর্মের অনুসারীদের পবিত্র স্থানগুলোকে ধ্বংস করছে এবং লুটপাট ও
নির্বিচার গণহত্যায় লিপ্ত হচ্ছে। অথচ পবিত্র ধর্ম ইসলাম যুদ্ধ-কবলিত অঞ্চলে
বেসামরিক পুরুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা তো দূরের কথা সেখানকার
গাছপালা, ফসল, ক্ষেত-খামার, পশু, পানি ও পরিবেশের ক্ষতি করাকেও নিষিদ্ধ
করেছে। এমনকি ইসলামী নীতি অনুযায়ী যুদ্ধ-বন্দী বা আত্মসমর্পণকারী
ব্যক্তিকেও হত্যা করা নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি ছাড়াও জাহেলি যুগেও
আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিকে হত্যা করা কাপুরোষোচিত কাজ বলে বিবেচিত হত।





ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত কাফির বা
অবিশ্বাসী ব্যক্তির লাশকে বিকৃত করাও নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু 'আইএসআইএল'-এর
সন্ত্রাসীরা যুদ্ধে নিহত সেনাদের লাশ বিকৃত করা, গাড়ী-চাপা দেয়া ও পদদলিত
করা ছাড়াও নিহতদের মাথাকে ফুটবল বানিয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করার মত পৈশাচিক
উল্লাসে মেতে উঠেছে।


পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, কেউ যদি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাহলে সে যেন গোটা মানব জাতিকে হত্যা করলো।





৪. 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীদের অনেকেই আরব
দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মত সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত হওয়ায় তাদের
মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মত কঠোর শাস্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বিদেশে গিয়ে কথিত জিহাদের নামে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর শর্তে
এদের মুক্তি দেয়া হয়েছে।





৫. এই সব তাকফিরি সন্ত্রাসী যারা
নিজেদেরকে জিহাদি বা মুজাহিদ বলে দাবী করে তারা ফিলিস্তিন দখলদার ইহুদিবাদী
ইসরাইলের দিকে ভুলেও একটি গুলিও ছুঁড়েনি। একজন ইসরাইলি সেনাকেও হত্যা করে
নি। অথচ এ সব সৌদি-কাতারি-তুর্কি-মার্কিন-ইঙ্গ-ফরাসি-জার্মান সমর্থনপুষ্ট
তাকফিরি ( সালাফী ) ওয়াহাবি সন্ত্রাসীরা যেমনিভাবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান
ও ইরাকে (ওয়াহাবি নয় এমন) লক্ষ লক্ষ নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করছে ঠিক
সেভাবে তারা সিরিয়ায়ও যারা ওয়াহাবি মতাবলম্বী নয় তাদের মধ্য থেকে গত
তিন বছরে হাজার হাজার মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীকে নৃশংসভাবে হত্যা
করেছে!




৬.এইসব বিদ্রোহী ও তাকফিরি ওয়াহাবি
(সালাফি) সন্ত্রাসী গ্রুপ ও সংগঠন যেমন সৌদি-কাতারি-তুর্কি- শাসকগোষ্ঠী
কর্তৃক সমর্থিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত ঠিক তেমনি তারা সাম্রাজ্যবাদী বিধর্মী
পাশ্চাত্য কর্তৃকও সমর্থিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত! 





৭.এরা সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠুর, হিংস্র ও
পাশবিক চরিত্রের বরং পশুর চেয়েও অধম। কারণ, এদের অনেকেই বন্দীদের হত্যা
করে তাদের দেহ চিড়ে ফেঁড়ে হৃদপিণ্ড কলিজা ইত্যাদি চিবিয়ে খেয়েছে যা
আমরা আগেও উল্লেখ করেছি।


৮.এদের প্রতি আপামর ইরাকি ও সিরিয় জনগণের কোনো সমর্থন নেই। 




৯.এদের নিজেদের মধ্যেও কোন ঐক্য নেই ,আর এ
কারণে এরা প্রায়ই পরস্পর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আর খোদা না করুক
এরা কোথাও ক্ষমতাসীন হলে এই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে আরও
সর্বাত্মক,ব্যাপক ও মারাত্মক স্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধ চলতেই
থাকবে। এরা সিরিয়ায় সাহাবিদের মাজার ধ্বংস করেছে। ইরাকেও নবী বংশের দুই
ইমাম তথা বিশ্বনবী (সা.) আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.) ও
ইমাম আলী নাকী (আ.)'র মাজারের গম্বুজ ধ্বংস করেছিল। এরা বিশ্বনবীর নাতি ও
কারবালা বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)'র মাজার ধ্বংসের প্রতিজ্ঞা
করেছে। এরাই সিরিয়ায় হযরত ইমাম হুসাইন-আ.'র বোনের মাজারে হামলা করেছে,
তিন-চার বছরের শিয়া মুসলিম শিশুকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, দুই
কুর্দির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগে-থেকে জ্বালানো আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে ও তার
ভিডিও প্রচার করেছে, গর্ভবতী শিয়া মুসলিম নারীর পেট চিরে শিশু বের করে
উভয়কে হত্যা করেছে, বন্দী শিশুকে দিয়ে যুবক বন্দীকে হত্যা করে তার ভিডিও
প্রচার করেছে, কিশোরদের ধরে এনে হত্যা করেছে এবং বহু বেসামরিক লোককে
নৃশংসভাবে হত্যা করে তাকফিরি-ওয়াহাবি ইসলামের কথিত বীরত্বের ভিডিও প্রচার
করেছে। এইসবই ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধরত সন্ত্রাসীদের পাশবিকতার আরো কিছু
প্রমাণ।




(রেডিও তেহরান)






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ইরাকের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আইএসআইএল’র হামলা





২০০৯ সালে তোলা তেল শোধনাগারটির দৃশ্য

ইরাকের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলা করেছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্যা লিভ্যান্ট বা আইএসআইএল’ সন্ত্রাসীরা।





রাজধানী বাগদাদ থেকে ২১০ কিলোমিটার উত্তরে
অবস্থিত বাইজি তেল শোধনাগারে মর্টার এবং মেশিনগানের সাহায্যে হামলা চালানো
হয়। মসুলের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পর গত সপ্তাহে এ তেল শোধনাগার ঘেরাও করে
আইএসআইএল’ সন্ত্রাসীরা। সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এ
শোধনাগারের কাজ বন্ধ করে দেয় এবং সেখানকার বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেয়।



শোধনাগারের
ঢোকার প্রধান দুইটি প্রবেশ দ্বারের একটিতে সর্বশেষ হামলা করা হয়েছে। এদিকে
শোধনাগারের খুচরা যন্ত্রাংশের গুদামে মর্টার আঘাত হানার পর সেখান থেকে ঘন
কালো ধোয়া বের হতে দেখা গেছে।



ইরাকের বৃহত্তম এ তেল শোধনাগারের
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা তিন লাখ ব্যারেল এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ
চাহিদার যোগান এখান থেকে দেয়া হয়।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আফগানিস্তানকে সীমান্ত বন্ধ করে দিতে বলল পাকিস্তান



আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে
সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ
শরীফ। পাক সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে যাতে পাকিস্তান থেকে তালেবান
সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য সীমান্ত বন্ধের
আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।






পাক পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাসনিম
আসলামের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে। তাসনিম আসলাম জানান,
গতরাতে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের সঙ্গে টেলিফোন
আলাপের সময় এ আহ্বান জানান।





এর আগে, পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা
আফগান সরকারকে সীমান্তে তালেবান জঙ্গীদের আস্তানা ধ্বংসের জন্য কারজাই
সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন।




নওয়াজ শরীফের সঙ্গে ফোনালাপের পর হামিদ
কারজাই এক বিবৃতিতে চলমান সামরিক অভিযানে বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি যতটা
সম্ভব কমানোর জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সব ধরনের
সহযোগিতার জন্য আফগানিস্তান প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আইএসআইএল-এর বর্বরতা: বন্দি সেনাদের নির্বিচারে হত্যা



আইএসআইএল- এর বর্বর সন্ত্রাসীরা ইরাকের
উত্তরাঞ্চলীয় সালাহউদ্দিন প্রদেশে তাদের হাতে বন্দি অন্তত এক হাজার সরকারি
সৈন্যকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করেছে। বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে
এ নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ভিডিও চিত্র ও ছবি অনলাইনে প্রকাশ করেছে।






সালাহউদ্দিন প্রদেশের প্রধান শহর তিকরিতের
একটি সেনা ঘাঁটি দখল করার পর এ পাশবিক হত্যাকাণ্ড চালায় তাকফিরি
সন্ত্রাসীরা। আইএসআইএল-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে,
সেনাবাহিনীর পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকের শত শত যুবককে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে
যাচ্ছে মুখোশ পরিহিত বন্দুকধারীরা। এ সময় একজন সন্ত্রাসীকে বলতে শোনা যায়,
'সেনা ঘাঁটিতে এরা আত্মসমর্পন করেছে।'





স্থির চিত্রে দেখা যায়, শত শত যুবককে
ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব ছবির ক্যাপশানে আইএসআইএল লিখেছে, এদেরকে
মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর কিছু ছবিতে এসব হতভাগ্য সৈন্যর ওপর
ব্রাশ ফায়ার করতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, শত শত যুবককে একটি খোলা
মাঠের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং দূরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে গুলি করার
জন্য দাঁড়িয়ে আছে সন্ত্রাসীরা।





ইরাকের সেনা মুখপাত্র লে. জেনারেল কাসিম
আল-মুসাভি এসব ছবির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, সালাহউদ্দিন প্রদেশে এ
বর্বরতা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেছেন, ছবিতে যতটা বর্বরতা প্রকাশ
পেয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ পাশবিকতা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ইরাক থেকে একজন
সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ছবিগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে তা হবে ২০০৩ সালে ইরাকে
ইঙ্গোমার্কিন আগ্রাসনের পর সবচেয়ে পাশবিক বর্বরতা।





এমন সময় এসব সন্ত্রাসী আত্মসমর্পনকারী
সৈন্যদের নির্বিচারে হত্যা করল যখন তারা নিজেদের ইসলামপন্থি বলে দাবি করে।
অথচ তারা যে রাসূলের (সা.) অনুসারী বলে দাবি করে সেই মানবতার মুক্তির দূত
মক্কা বিজয়ের পর প্রাণের শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তিনি যাদের ক্ষমা
করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন রাসূলের চাচা হামজাকে হত্যা করে তার কলিজা
ভক্ষণকারী হিন্দা ও তার স্বামী আবু সুফিয়ান।




বিশ্বনবী (সা.) কখনো আত্মসমর্পনকারী শত্রু
বা বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও অনুমতি দেননি। অথচ কথিত ইসলামিক স্টেট
অব ইরাক এন্ড দ্যা লিভেন্টের (আইএসআইএল) সন্ত্রাসীরা ইরাকি বন্দি সেনাদের
ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালাল। যারা মানবতার এই শত্রুদের ইসলামপন্থি ভাবেন
তাদের ভুল ভাঙার জন্য এসব ছবি জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

জঙ্গিদের অর্থ যোগান দিচ্ছে সৌদি আরব



ইরাকে তৎপর জঙ্গিদের অর্থ যোগান দেয়ার
জন্য সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করেছে বাগদাদ সরকার। ইরাকের মন্ত্রিসভা বলেছে,
দেশের ভেতরে সংঘটিত বর্বরতা ও অপরাধে সমর্থন দেয়ার জন্য রিয়াদকে দায়ী থাকতে
হবে। প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির দফতর থেকে আজ (মঙ্গলবার) দেয়া এক
বিবৃতিতে ইরাকের মন্ত্রিসভার এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।  






সৌদি আরবের ভূমিকার কঠোর নিন্দা করে এতে আরো বলা হয়েছে, রিয়াদের মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে- সৌদি আরব সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে।




ইরাক সরকারের সম্প্রদায়িক নীতির কারণে
দেশটিতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে বলে সৌদি আরব ও কাতার সম্প্রতি একটি
বিবৃতি দিয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে ইরাকের মন্ত্রিসভা সৌদি আরবকে সন্ত্রাসীদের
অর্থ ও নৈতিক সমর্থন দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করল।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

IBN SINA