সর্বশেষ সংবাদ

গোপন অভিসারের পরিকল্পনায় ব্যস্ত শ্রদ্ধা-আদিত্য!




বলিউডের হ্যাপিনিং জুটি রণবীর কাপুর এবং ক্যাটরিনা কাইফের পদচিহ্ন অনুসরণ করছেন এসময়ের জনপ্রিয় আরেক লাভ বার্ড আদিত্য রায় কাপুর-শ্রদ্ধা কাপুর। শুধু তাই নয় ধারণা করা হচ্ছে গোপনে গোপনে এই জুটি অবকাশ যাপনের পরিকল্পনা করছেন।

ঘনিষ্ঠ এক সুত্রে জানা যায়, গোপনে গোপনে একান্তে কিছু সময় কাটাতে বেশ লম্বা ছুটিতে যাচ্ছেন এই তারকা জুটি। শ্রদ্ধা কাপুরের আপকামিং সিনেমা ‘এক ভিলেন’র প্রমোশনের কাজ গুটিয়ে আনতে পারলেই অভিসার যাপনের নামে উড়াল দিবেন তারা।

তবে কোথায় যাচ্ছেন এবং কতদিনের জন্য তা সম্পর্কে কোন কিছু জানা যায়নি। যদিও এই তারকা জুটি তাদের সম্পর্কের কথা এখনো নিজের মুখে স্বীকার করেননি। তবে বিভিন্ন সময় এক সাথে অন্তরঙ্গসময় কাটাতে দেখা গেছে।

শুধু তাই নয়, আদিত্য কাপুরের ভাবি বিদ্যা বালানও কিন্তু আদিত্যর পছন্দতে সায় দিয়েছেন ঠিকই। আর যখন আদিত্য-শ্রাদ্ধার প্রেমের প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, তাদের উপর কৃপা বর্ষিত হউক।






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

হঠাৎ অচল ফেসবুক




 বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ অচল হয়ে যায় ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। ব্যবহারকারীরা জনপ্রিয় এ ওয়েবসাইটটিতে যেতে চাইলেই তাদের একটি ত্রুটিবার্তা (এরর মেসেজ) দেখানো হচ্ছিল। এতে লেখা ছিল- ‘সরি, সামথিং ওয়েন্ট রং। উই আর ওয়ার্কিং অন গেটিং দিস ফিক্সড অ্যাজ সুন অ্যাজ উই ক্যান।’

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিক থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এ বিভ্রাট স্থায়ী হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও একযোগে এ সমস্যায় পড়েন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম স্কাইনিউজ।

প্রথম ত্রুটিবার্তাটি যাওয়ার পর ব্যবহারকারীরা কিছুক্ষণের জন্য ‘সার্ভিস অনঅ্যাভেইলেব্‌ল’ বার্তাটিও দেখতে পান। তবে আড়াইটার পর থেকে যথারীতি লোড হতে শুরু করে ফেসবুকের পেজগুলো।

এদিকে হঠাৎ অচল হয়ে যাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ‘একমাসের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ফেসবুক’- এমন গুজব ছড়াতে থাকে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় এ ওয়েবসাইটটিকে ঘিরে। রাজধানী ঢাকার সার্বিক ফেরদৌস দুর্জয় নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বাংলা সংবাদে ফোন করে এমন বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চান।

শুধুমাত্র কারিগরি ত্রুটির কারণেই হঠাৎ এ সমস্যা কী না- সে সম্পর্কে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাসে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করেন, যা এটিকে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইটে পরিণত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া-কেন্দ্রিক অ্যামাজনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অ্যালেক্সা র‌্যাংকিং অনুযায়ী ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গড়ে সবচেয়ে বেশি ভিজিট করা হয় ফেসবুক। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গুগলডটকমডটবিডি। বিশ্বের তিন কোটি ওয়েবসাইট বিবেচনায় নিয়ে তাদের পাঠকপ্রিয়তা যাচাই করে অ্যালেক্সা।






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আইন না থাকায় তিনটি পণ্য ভারতের হাতে চলে গেছে




 সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশি কাঁথা ও সিলেটের শীতল পাটির আদি এবং মূল ধারণা বাংলাদেশের। এ দেশেই এই তিনটি পণ্য প্রথম উৎপাদিত হয়েছে। অথচ দেশে ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পণ্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিন কোনো আইন না থাকায় এসব পণ্যের মালিকানা চলে গেছে ভারতের হাতে। এ তালিকায় দিনাজপুরের ফজলি আমও রয়েছে। ভারতের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিজস্ব মালিকানা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য সুরক্ষার গুরুত্ব : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ। এতে সিপিডির একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, হারিয়ে যাওয়া বিশ্ববিখ্যাত মসলিন জাতীয় পণ্য হচ্ছে জামদানি। ব্র্যান্ড নাম হিসেবে জামদানি ষোড়শ শতাব্দী বা তারও আগের পণ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, জামদানি বলতে হাতে তৈরি ঢাকার বিশেষ এ পণ্যকেই প্রতিনিধিত্ব করে। যাতে ভৌগোলিক নির্দেশক হিসেবে ঢাকার নাম চলে আসে। ঢাকার জামদানির সুতা এবং তৈরি করা জামদানি অন্যান্য দেশের জামদানি থেকে আলাদা।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ইফতেখার ইকবাল। সভাপতিত্ব করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এতে বক্তব্য রাখেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট হামিদা হোসেন প্রমুখ।

গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, দেশের ঐতিহ্যবাহী এসব পণ্যের স্বকীয়তা রক্ষায় আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক আইন (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেটর বা জিআই অ্যাক্ট) বাস্তবায়নের স্বার্থে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) থেকে নিবন্ধন নেওয়া জরুরি। ২০১৩ সালে নিজস্ব পণ্যের মালিকানা সুরক্ষায় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) আইন পাস করা হয়েছে। তবে এতে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত বিধিমালার অভাবে এর কার্যত কোনো ব্যবহার নেই। এ অবস্থায় দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিজস্ব মালিকানা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ জন্য প্রয়োজনে ডব্লিউটিওর দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

পেট স্লিম রাখার ৯টি উপায়






মেয়েদের শরীরে মেদ অনেক সহজেই জমে। বিশেষ করে ৩০-৩২ বছর বয়সে মেয়েদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই মেদ জমে। এই মেদ প্রথমত প্রকট হয় পেটে। এটি যে শুধু সৌন্দর্যহানী করে তা নয়, শরীরে যে বিভিন্ন অসুখ বাসা বাঁধছে তাও নির্দেশ করে। মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩৫.৫ ইঞ্চির বেশি পেট এর সাইজ থাকলে হার্ট এর অসুখ, ডায়বেটিস হতে পারে। পেটের মেদ আর শরীরের অন্য অংশের মেদকে এক জিনিস ভাবলে ভুল করবেন। পেটের মেদ যেহেতু লিভার, কিডনি ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সাথে লেগে থাকে, সেহেতু এটি আপনার জন্য অনেক বড় বিপদ এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে স্লিম থাকার ৯ টি উপায় দেওয়া হলো।

কোন পরিশ্রম ছাড়া আমরা যেই কাজটি করতে পারি তা হলো সঠিক নিয়মে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া। বেশির ভাগ মানুষই হয় দ্রুত না হয় অনেকক্ষণ পর পর শ্বাস গ্রহন করে। যদি এটি একটা ছন্দে করা যায়, অর্থাৎ আস্তে আস্তে শ্বাস গ্রহন ও নি:শ্বাস ত্যাগ করা পেটের খুব ভালো একটা ব্যায়াম।

প্রচুর আমিষ (প্রোটিন) সমৃদ্ধ খাবার যেমন-মাছ, ডাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খান। প্রোটিন শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় ও চর্বি পোড়ায়। চর্বি জাতীয় খাবার থেকে সবসময় দুরে থাকুন।

তালিকা থেকে যথাসম্ভব চিনি দূরে রাখুন। চিনির বদলে সুক্রোলোজ (যা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সুগার ফ্রি নামে পাওয়া যায়) ব্যবহার করুন। তবে মধু ব্যবহার আপনার পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

যদি রাত জেগে কাজ করার অভ্যাস থাকে তাহলে আরেকবার ভাবুন। কারণ অসময়ের ঘুম শরীরের জৈবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। এর ফলে আপনার শরীরে খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। পেটে চর্বি জমার প্রবণতা প্রায় ৫গুন বৃদ্ধি পায়।

লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। যে জায়গাগুলোতে হেঁটে যাওয়া সম্ভব সেখানে রিকশায় না উঠার চেষ্টা করুন। হাঁটাই সবচেয়ে ভাল ব্যায়াম। এছাড়াও ছোট ছোট কিছু ব্যায়াম যদি নিয়মিত করতে পারেন তাবে এগুলো আপনাকে ফিট থাকতে সাহায্য করবে। যেমন ফ্লোর ক্রাঞ্চেস্‌, বার-পিস, সিঙ্গেল লেগ স্কোয়াট, পুশ-আপস্‌, চেয়ার ডিপস্‌ ৩০ সেকেন্ড করে দিনে ৪-৫ বার করে দেখুন।
টক জাতীয় ফলমূলে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। ভিটামিন সি কারনিটিন নমক প্রয়োজনীয় একটি উপাদান তৈরী করে, যা শরীরে চর্বি পোড়াতে সহায়তা করে।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানি শরীরের টক্সিন বা বিষকে বের করে দিয়ে মাংসপেশী গঠনেও সাহায্য করে।

মেদ কমাতে গিয়ে খাওয়াটা একেবারে কমিয়ে দেওয়া ঠিক না। এতে প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ঢালাওভাবে সব খাবার না কমিয়ে প্রথমে তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার কমান, এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবার কমাবেন। তবে অবশ্যই তা নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত।

ধূমপান ও মদ্যপান শরীরে চর্বি পোড়াতে বাঁধা দিয়ে মেদ জমাতে সাহায্য করে। তাই এসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বাগদাদের আরেক চিত্র




বাগদাদ বললে এখন আর আলিফ লায়লাখ্যাত খলিফা হারুন অর রশিদ আমলের সুখ আর সমৃদ্ধির প্রতিশব্দ বোঝায় না। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ স্থানগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে কিংবদন্তির এই নগরীটি। ইরাকে গণতন্ত্র আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাদ্দাম হোসেনকে হটিয়েছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য বাহিনী। সাদ্দামকে তারা ফাঁসিও দিয়েছিল। কিন্তু গণতন্ত্র কিংবা মানবাধিকার- কোনোটারই দেখা মেলেনি সেখানে। পরিস্থিতি বরং আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে। হত্যা, হানাহানি, নির্যাতন এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সুন্নিদের বিরুদ্ধে চলছে নজিরবিহীন তাণ্ডব। দুবাইভিত্তিক আল জাজিরার সংবাদদাতা ইমরান খান এমনই একটি কাহিনী তুলে ধরেছেন। এই কাহিনীর নায়ক ফিরাজ। তবে এটি তার প্রকৃত নাম নয়। তিনি যাতে নতুন করে কোনো বিপদে না পড়েন, সে জন্য তার আসল নামটি গোপন রাখা হয়েছে।

বাগদাদের আদামিয়া মহল্লার ওপর রাতের কালো চাদর নেমে এসেছে। তবে মহল্লার প্রধান চত্বরটি তাতে বরং প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ক্যাফেতে একদল তরুণ সমবেত হয়েছে। কেউ ‘নারগিলা’ টানছে, কেউ পাশা খেলছে। কেউ কেউ ছোট্ট একটা ফুটবলে লাথি দিচ্ছে, পরে আছে প্রিয় দলের গেঞ্জি।
চত্বরটির ঠিক পরেই আবু হানিফা মসজিদ। বাইরে যারা রিলাক্স করছে, তাদের কাছে মসজিদটির জাকালো ও জৌলুসময় অবয়বটি উষ্ণতা ছড়াচ্ছে।
বাগদাদে যে ভয়াবহ সহিংসতা চলছে, তা থেকে আদামিয়া রক্ষা পেয়েছে। অনেকেই রাতের শীতলতা কিংবা বন্ধুদের সাথে কিছুটা সময় কাটাতে এখানে আসেন, এখানকার নিরাপদ পরিবেশ উপভোগ করেন।
তবে সবাই এমনটা করতে পারেন না। এ কারণেই মসজিদের ভেতরে থাকা একটা লোক বাইরে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আমি তার কাছ থেকে ৩ অক্টোবরের কাহিনী শোনার জন্য মসজিদের ভেতরে গেলাম।
ফিরাজ সে দিন তার বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন।
‘হঠাৎ করে প্রচণ্ড শব্দ আর লোকজনের চিৎকার শুনতে পেলাম। তখন রাত ২টা। আমাদের রুমে আমি ছাড়াও ছিলাম আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সৈন্যরা চলে এলো। তারা আমাকে আর আমার স্ত্রীকে ঘুষি দিতে লাগল। ঘরের কোনে বসে থাকা আমার সন্তানেরা ভয়ে কাঁদছিল। তারা আমাকে লাঠি দিয়ে পেটাল।’
‘আমাকে তারা টেনে ঘর থেকে বের করল। আমার পরনে তখন মাত্র আন্ডারওয়্যার। আমাকে একটা পিকআপে ছুড়ে ফেলা হলো। আমাকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কারাগারে নেয়া হলো। আমার সাথে ছিল ৭০ বছর বয়স্ক এক পঙ্গু লোক। আমাদের কেন এখানে আনা হয়েছে, তা আমি বা ওই লোক- কেউ জানতো না।’

নরকে তিন দিন
ফিরাজ বলেন, তাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি জানান, তার আটককারীরা তাকে নিয়মিত পেটাত, তাকে খাবার বা পানি দিত না।
‘তিন দিন নরকে থাকার পর তারা চোখ বেঁধে আমাকে ভিন্ন একটি স্থানে নিয়ে গেল। অভিযোগ করল, আমি কোনো একটা সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে জড়িত। একপর্যায়ে বলল, আমি নাকি আল কায়েদার সদস্য।’
ফিরাজ বলেন, সুন্নি হওয়ার কারণে তাকে ধরে আনা হয়। ইরান শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আর আল কায়েদার মতো সুন্নি গ্রুপগুলো সেখানে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
তিনি প্রথমে আটক হয়েছিলেন ২০০৬ সালে, আমেরিকান বাহিনীর হাতে। তখন ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছিল। তাকে কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই দুই বছরের জন্য আটক রাখা হয়। মুক্তির পর তাকে আবার আটক করা হয়। এ আল কায়েদার মোকাবেলায় সুন্নি ইরাকি মিলিশিয়া বাহিনীর হয়ে কাজ করার জন্য তাকে আট মাস আটকে রাখা হয়। তিনি জানান, আবারো কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
‘আমি তরুণ সুন্নি। সম্ভবত কেবল এই কারণেই তারা আমাকে গ্রেফতার করছে।’
আমেরিকানদের প্রত্যাহারের পর তারা সব নথিপত্র ইরাকি সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। ফিরাজ বলেন, সরকার খুশি মতো আমাদের হয়রানি ও গ্রেফতার করার জন্য ওই সব নথিপত্র ব্যবহার করছে।
তিনি আরো জানান, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ছাড়াও একটি বিশেষ সরকারি বাহিনী রয়েছে লোকজনকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। অন্যান্য বাগদাদবাসীর মতো তিনিও এই ভুতুড়ে বাহিনীকে ‘ডার্টি স্কোয়াড’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই বাহিনীর অবশ্য একটি সরকারি নাম আছে : কাউন্টারটেরিরিজম স্পেশাল ফোর্স। তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্বাধীন।
তিনি জানান, ৩ অক্টোবর আটক করার জন্য ডার্টি স্কোয়াড তাকে এক মাসের বেশি আটকিয়ে রাখে। তারপর কোনো অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেয়। তিনি তার আটক করার ব্যাপারে কোনো কাগজপত্র তৈরি করছেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘না’।

সরকারি প্রতিক্রিয়া
ফিরাজকে আটকের ব্যাপারে আলজাজিরা ওই ইউনিটের সাথে যোগাযোগ করে। ওই বাহিনীর একটি সূত্র গোপনে জানায়, তারা আইন অনুযায়ী কাজ করে। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিযা জানাবে না।
এই বাহিনী ইরাকি আইনবহির্ভূত কোনো কাজ করছেÑ এমন অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মাত্র চার দিন রাখা হয়। এরপর তাদের আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
ফিরাজের বক্তব্য প্রমাণ করার মতো কোনো কাগজপত্র নেই, তবে মসজিদে তখন উপস্থিত লোকজন তার কথা সমর্থন করেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ইরিন ইভার্স বলেন, ফিরাজের মতো অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন আরো অনেকে।
ইভার্স বলেন, সন্ত্রাসপ্রতিরোধ বাহিনী নামে যে সংস্থাটি গঠন করা হয়েছে, সেটি আইনের তোয়াক্কা করে না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তাদের হাতে আটক করার কোনো প্রমাণপত্র থাকে না। আটক ব্যক্তিদের কোনো ধরনের বিচার ছাড়াই মুক্তি দেয়া হয়।
বাগদাদে আবারো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটা দমন করা সরকারের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কিন্তু সেটা নাগরিক স্বাধীনতার দামে?
ফিরাজি বলেন, ইরাকে থাকার ইচ্ছা তার উবে গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে বাস করতে পারি না। আমি এই দেশ ছেড়ে যাচ্ছি। আমি ভাবি : আমি কি রাতে আমার বিছানায় থাকতে পারব, না কি কেউ ঘুম থেকে আমাকে টেনে নামিয়ে আনবে।’




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

দেখছি খেলা, মিলছে না হিসাব




অতি পরিচিত এবং প্রিয় নগরীকে মাঝেমধ্যে অচেনা মনে হয়। এই নগরীতে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলো পার করেছি। একটা সময়ে সকাল-সন্ধ্যা নগরীর বিভিন্ন অলিগলি এবং রাজপথে ঘুরে বেড়িয়েছি। সেই সব দিনগুলোতে কি আনন্দ পেয়েছি এই বয়সে এসে আর বলতে পারব না। কৈশোরের দিনগুলোতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল এলে খেলাধুলা করেছি একটা সময় বুঝেছি এগুলো ছিল মূল্যহীন। খেলাধুলা এখন পুরোপুরি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে কিছুই করার নেই। মানুষের দক্ষতা বিক্রি করে অর্থ উপার্জিত হচ্ছে। শিল্প বলি, সৌন্দর্য বলি, ভালোবাসা বলি এসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থ আর এই অর্থ ছাড়া সব কিছুই মূল্যহীন। খারাপ লাগছে তবুও বলছি, বর্তমান সমাজে আমরা সবকিছুই অর্থমূল্যে পরিমাপ করি। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা চত্বরগুলো শুধু নয় এর বাইরে বৃহৎ দুনিয়াজুড়ে ফুটবলকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যের মহোৎসব চলছে। ফুটবলের আবেগকে বিক্রি করে ব্যবসা-বাণিজ্যের রমরমা অবস্থা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা বিক্রেতা খুরশেদ বললেন বেচাকেনা খুবই ভালো। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ভুল বোঝাবুঝি শেষ হয়ে গেছে। তবে এই গরমে যদি একটা তুফান আসত তাহলে অনেক পতাকা ছিঁড়ে যেত, উড়ে যেত এতে বিক্রি আরো বাড়ত। কি আশ্চর্য ব্যবসায়িক চিন্তা-ভাবনা। সবাই তার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ফুটবলকে দেখছে।

নগরীতে বছরের পর বছর বাস করেও আমরা কেউ কারো নই। নগরীতে আমরা সবাই বিচ্ছিন্ন এবং আলাদা-আলাদা। প্রত্যেকেই ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। ফুরসত নেই। তবে সারাজীবনের অঙ্কের সন্ধান পেয়েছেন তাদের কথা আলাদা। সাধারণ মানুষ শুধু তো মাথা নিচু করে, মুখ বুজে জীবিকার ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত। এই লড়াইয়ের শেষ নেই। শুধু নগরী নয়, দেশজুড়ে মাঝেমধ্যে। একেকটা জোয়ার আসে তাতে গা ভাসিয়ে দেই। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছুসংখ্যক তাদের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে সরে থাকেন। এটাকে জোয়ার বা ইস্যু যাই বলি না কেন এই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কিছুদিনের জন্য হলেও আমরা সবাই এক হই তখন সব পরিচয় ঘুচে যায়।
ব্রাজিল বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন আমাদের সব উচ্ছ্বাস, আবেগ, আনন্দ, সফলতা ও ব্যর্থতার রাত-দিনগুলো অন্যরকম। খেলা দেখছি- কিন্তু হিসাব মিলাতে পারছি না। ফুটবলকে চিনতে পারছি না। আমরা সাধারণ ফুটবল আমুদে মানুষ শুধু নই- বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকরা বড় চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের সুবিধা হলে তারা তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে হরদম সরতে পারেন। আমরা সাধারণ মানুষরা কিন্তু বারবার ধাক্কা খাচ্ছি। কথা বলছি। কখনো মন খারাপ করছি প্রত্যাশার সঙ্গে মিল খুঁজে না পেয়ে।

বিশ্বকাপে ফেভারিটদের তালিকার শুষ্ক খাতাটা আপাতত বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই। প্রথম রাউন্ডেই কে কোথায় চলে যায় আঁচ করা মুশকিল। এরপর তো নকআউট রাউন্ড সেখানে তো স্বপ্ন আর স্বপ্ন ভঙ্গের আরো বড় খেলা অপেক্ষা করছে। ব্রাজিলের দ্বিতীয় খেলা দেখতে বসেছিলাম মেক্সিকোর বিরুদ্ধে অতীতের পরিসংখ্যান, দলগত শক্তি এবং বর্তমানের প্রেক্ষাপটের আলোকে ব্রাজিলকে এগিয়ে রেখে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি দেখলাম। নেইমার অস্কাররা পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। ব্রাজিলের তৈরি এত সহজ সুযোগগুলো একটিও জালে প্রবেশ করেনি।

মেক্সিকোর গোলরক্ষক বলতে গেলে একাই মাঠে ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছেন। যারা রাত জেগে খেলা দেখেছেন তাদের কাছে এটা একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। খেলার আগে ভাবা হয়েছে ব্রাজিল এই খেলায় জয়লাভের মধ্যে দিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে চলে যাবে। তা আর হয়নি- এখন অপেক্ষা করতে হবে। মেক্সিকো তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী ব্রাজিলের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে বেজায় খুশি। দুনিয়াজুড়ে ব্রাজিলের অগণিত ভক্ত এবং সমর্থকরা মন খারাপ করেছেন। কিন্তু করার তো কিছু নেই। ব্রাজিলের তারকা খেলোয়াড়রা তো চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বল তো জালে প্রবেশ করেনি। ভালো খেলেও গোল করতে পারেনি ব্রাজিল। সমর্থক এবং ভক্তদের সান্ত¡না ‘ব্যাডলাক’। রাশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আমাদের এশিয়ার প্রতিনিধি। যেটা আনন্দ দিয়েছে তাহলো দক্ষিণ কোরিয়া পুরো খেলায় লড়াই করেছে।

ফুটবল দলীয় খেলা। পুরোপুরি টিম গেম। এখানে দলগত বোঝাপড়া এবং সমন্বয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রায়ই আবেগের বশবর্তী হয়ে ভাবি প্রিয় দলে অমুক অমুক তারকা আছেন আমাদের আর ধরতে পারবে কে! এই ধারণা সঠিক নয়। পর্তুগালের বিরুদ্ধে জার্মানি টিমগেম ছিল অসাধারণ। তারা মাঠে দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে দলকে দাপটের সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। মাঠে জার্মানির এগারো জন খেলেছেন প্রাণ দিয়ে।
ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার অভিযোগ উঠেছে। জীবিকার জন্য সারা দুনিয়ার খেলোয়াড়রা বিভিন্ন লীগে খেলে থাকেন। প্রতিটি খেলায় নিজস্ব কৃতিত্ব দেখাতে পারলে তাদের দাম বাড়ে। এই ব্যক্তি কৃতিত্ব দেখনোর সবচেয়ে বড় অঙ্গন বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা। আর ব্যক্তি বড় হলে সমষ্টির খেলা ব্যাহত হতে বাধ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা কি দেখতে পাচ্ছি না।

ফুটবলে এসেছে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন। এখনকার ফুটবল অনেক বেশি ক্ষিপ্রগতি, অনেক বেশি সৌন্দর্য ও অনেক বেশি কলাকৌশপূর্ণ। এখনকার খেলোয়াড়রা সাধনার মাধ্যমে দৈহিক সীমাবদ্ধতাও অতিক্রম করে যাচ্ছেন। টিম স্পিরিট জয়ের জন্য অনেক বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হচ্ছে। যতদিন মানব সমাজ থাকবে ততদিন ব্যক্তিগত মেধা ও প্রতিভার আলাদা মূল্য অবশ্যই থাকবে। কিন্তু যতদিন মানব সমাজের উন্নয়নের প্রশ্ন উঠবে ততদিন সমষ্টিগত বোঝাপড়া এবং উদ্যোগের ভূমিকাও থাকবে। এজন্য একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় একটি দলকে জয়ী করতে পারে না। ফুটবল আমাদের সে শিক্ষাই দেয়। ফুটবলের উৎসবের রংয়ে নিজকে রাঙান।





Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আশরাফুল ৮ বছর নিষিদ্ধ




আট বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের আহ্বায়ক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম গতকাল বুধবার আশরাফুলের বিরুদ্ধে এ শাস্তি ঘোষণা করেন। আশরাফুলের সঙ্গে শাস্তি ভোগ করতে হবে বিপিএলে তার দল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক শিহাব জিসান চৌধুরীকেও। তিনি নিষিদ্ধ হয়েছেন ১০ বছরের জন্য। এই মেয়াদে ক্রিকেটের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে থাকতে হবে তাকে। এ ছাড়া শাস্তি পেতে হয়েছে লু ভিনসেন্ট ও কৌসল লুকারাচ্চিকেও। নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার এই দুই ক্রিকেটারের শাস্তির মেয়াদ যথাক্রমে তিন বছর ও ১৮ মাস। গতকাল আশরাফুল ও তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে রায় জানিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। অনুপস্থিত অভিযুক্তদের তাদের রায় জানানো হয় স্কাইপের মাধ্যমে। এদিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আশরাফুল। ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারি শেষ করে দিল আশরাফুলের ক্যারিয়ার। তার কলঙ্কিত বিদায়ে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য এক অধ্যায়েরও। যে অধ্যায়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ-বেদনা, উল্লাস-হতাশার নানা রং।

 ২০০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর টেস্ট অভিষেক হয় আশরাফুলের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। আশরাফুলের সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত। ৬১ টেস্ট খেলে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের সেরা এই ব্যাটিং প্রতিভা। বিশ্বের সব বড় দলের বিপক্ষে অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন ১৭৭ ওয়ানডে খেলা এই ব্যাটসম্যান। ওয়ানডেতে ৩টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ২০টি হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি। বেশ কয়েকটি ম্যাচ একা হাতে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন আশরাফুল। একটা সময় তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের একমাত্র ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন তিনি। নিজের ব্যাটিং দ্যুতিতে যেভাবে সুপার স্টার বনে গিয়েছিলেন, ঠিক তার উল্টোভাবেই কলঙ্কিত হয়ে খসে পড়লেন আশরাফুল।  আগামী আট বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে আশরাফুলকে। আট বছরের দীর্ঘ সাজার মেয়াদ শেষ করে ৩০ বছর বয়সী তারকার ফের ক্রিকেটে ফেরা প্রায় অসম্ভব।

এদিকে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে একাধিক ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে সব। ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মোহাম্মদ আশরাফুলসহ তাদের একাধিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের মোট চারটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে শাস্তি ঘোষণা করেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে তার অপরাধ। ওই ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফির বদলে অধিনায়কত্ব করেন আশরাফুল। একই সঙ্গে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ মেলে দলটির মালিক শিহাব চৌধুরীর বিপক্ষেও। পরে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের (আকসু) সুপারিশে ফিক্সিংয়ের বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। মোট দশজন অভিযুক্তের বিচার করেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে চারজন চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হন। গতকাল এই চারজনেরই শাস্তি ঘোষণা করা হয়। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। মোহাম্মদ আশরাফুলকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শিহাব চৌধুরীকে জরিমানা করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেও আশরাফুল যদি শাস্তির মেয়াদের প্রথম পাঁচ বছর আইসিসি, এসিসি ও বিসিবির পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বা বিশেষ শিক্ষা উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন এবং সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী চলেন, তবে তার শাস্তির শেষ তিন বছর মওকুফ করা হতে পারে। শাস্তি ঘোষণার সময় এমনটি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল আহ্বায়ক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি জানান, আশরাফুল এবং শাস্তি পাওয়া অন্য তিনজন আগামী ২১ দিনের মধ্যে ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে আপিল করতে পারবেন। এরপর তারা চাইলে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতেও নিজেদের শাস্তির বিপক্ষে আপিলের সুযোগ পাবেন।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। যাতে নির্দোষ বলে রায় দেয়া হয় অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিক, মোশাররফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিনকে। তাদের সঙ্গে নির্দোষ হিসেব রায় দেয়া হয় ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী গৌরব রাওয়াদ ও ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন স্টিভেন্সকে। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ে যৌথ বিবৃতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল আইসিসি ও বিসিবি।

গত এক বছর থেকে আশরাফুল সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল প্রধান জানান, আট বছরের শাস্তিতে এই এক বছরও ধরা হবে। ফলে আশরাফুলকে ভোগ করতে হবে সাত বছরের শাস্তি। এর মধ্যে তিনি যদি আইসিসি, বিসিবি ও এসিসির কথা পাঁচ বছর মেনে চলেন, তবে শাস্তি বাদ যাবে আরো তিন বছর। তারপরও অন্তত চার বছর নিষিদ্ধ থাকতে হবে ৩০ বছর বয়সী আশরাফুলকে। এ সময়টা পার করে আবার ক্রিকেট মাঠে আশরাফুলের ফেরা প্রায় অসম্ভব। সে হিসেবে আপাত দৃষ্টিতে মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্যারিয়ারের শেষ ঘোষণা করে দেয়া যায় কোনো রকম ঝুঁকি ছাড়াই। ক্যারিয়ারজুড়ে রহস্যময় উত্থান-পতনের জন্য আলোচনায় থাকা আশরাফুলের শেষটাও যে এতটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, তিনি নিজেও কি কখনো ভেবেছিলেন তা?

গতকাল ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীসহ উপস্থিত ছিলেন আশরাফুল। রায়ের কপি আগেই হাতে পেয়েছিলেন তিনি। চূড়ান্ত রায় ঘোষণার মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদও কাল জানিয়ে দেয়া হয়েছে। রায়ের পর মুঠোফোনে  নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘২১ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার যে সুযোগ আছে, সেটা আমি করব। আপাতত এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’



Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

প্রবাসে অবহেলা সহ্য করা হবে না : প্রধানমন্ত্রী




বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা ‘অপমান ও অবহেলার’ শিকার হলে তা সহ্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দেশের মানুষ অন্য দেশে গিয়ে অবহেলার শিকার কিংবা অপমানিত হবেন, এটা অনেকে সহ্য করতে পারলেও আমি পারব না।
বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মক্ষেত্রে ‘উপার্জন ও মর্যাদা’ বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পাসের হারে প্রতিবেশী দেশের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রায় ৮৭ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের অধিকাংশই কারিগরিভাবে ‘অদক্ষ’ শ্রমিক। তাই তাদের আয়ও তুলনামূলকভাবে কম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একজন স্কুল মাস্টার, উনি হয়তো বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু উনাকে সেখানে গিয়ে কি কাজ করতে হচ্ছে? তাকে হয়তো দোকানির কাজ করতে হচ্ছে। অথবা আমাদের ছেলেদের দেখেছি, কোনো কোনো দেশে গিয়ে রাস্তায় ময়লা কুড়োচ্ছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু এখন প্রতিটি ক্ষেত্রে কে কোথায় যাবে, কোন ধরনের শিক্ষা নেবে, কী ধরনের ট্রেনিং দরকার- আমরা এখন সেগুলো দিয়ে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, দক্ষতা নিয়ে যদি কেউ যায়, তাহলে অধিক অর্থ উপার্জন করতে পারবে, কর্মক্ষেত্রে তাদের একটা গুরুত্ব থাকবে। অবহেলার শিকার হবেন না, কেউ তাদের অবহেলা করতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার করে বাংলাদেশকেও সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, জাতির জনক সবসময় বলতেন, বাংলাদেশকে গড়ে তুলবেন প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে। সুইজারল্যান্ডই হচ্ছে পরিপূর্ণ, সব থেকে শান্তিপূর্ণ দেশ, সব থেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী দেশ। তারাও ধীরে ধীরেই নিজেদের সেভাবে গড়ে তুলেছে। কাজেই আমরা সেভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব। ভৌগোলিক দিক থেকে হয়তো আমাদের ভূখণ্ড এত বড় না, কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে বিশাল। আমাদের দেশের এ মানুষগুলোকে যদি গড়ে তুলতে পারি তাহলে বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে? কেন অন্যের কাছে হাত পেতে চলবে? কেন আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব না?

 তবে এজন্য শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। আমরা সবসময় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করি। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি আগে আগ্রহ না থাকলেও সরকারের নানা ধরনের চেষ্টায় এ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা আট গুণ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।





Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে এক মাসে তৃতীয় ড্রোন হামলা: নিহত ৬




পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ এলাকায়
আজ(বুধবার) মার্কিন ড্রোন হামলায় অন্তত ৬ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। দেশি-বিদেশি
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন সেনা অভিযান চালাচ্ছে তখন
ড্রোন হামলা চালান হলো। গোয়েন্দাসূত্রগুলো বলছে, মিরানশাহের দরগাহ্ মান্ডি
গ্রামের একটি বাড়ির চত্বরে ড্রোন  থেকে ছোঁড়া ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত
হেনেছে। নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায় নি।



উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলতি মাসে এ নিয়ে তৃতীয় দফা ড্রোন হামলা হলো। এর আগের দু’টো হামলায় অন্তত ১৬ ব্যক্তি নিহত হয়েছে।



এদিকে,
পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচির আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তালেবান হামলার
এক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তর ওয়াজিরিস্তানে জারবে আজব নামের সেনা অভিযান শুরু
হয়। তালেবানসহ অন্যান্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এ অভিযানে ব্যাপক সংখ্যক সেনা,
ট্যাংক এবং জঙ্গি বিমান অংশ নিয়েছে।




রেডিও তেহরান




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের নৌকা ডুবে নিহত ৫, নিখোঁজ ৩২




মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলে ইন্দোনেশিয়ার অবৈধ অভিবাসীদের বহনকারী একটি
নৌকা ডুবে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে আরও ৩২ জন। গতরাতে এ
নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।




দুর্ঘটনার পর ৬০ জন সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছেন। মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা
জানিয়েছেন, নৌকাটি সমুদ্রযাত্রার জন্য উপযুক্ত ছিল না। এরপরও নৌকাটিতে
অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার ওই অভিবাসীরা মালয়েশিয়ায়
অবৈধভাবে কাজ করছিলেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। পবিত্র রমজান
উপলক্ষে তারা নৌকায় চড়ে সমুদ্রপথে দেশে ফিরছিলেন।



মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, যে পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে,
তাদের মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছে। নিখোঁজ ৩২ জনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে মালয়েশিয়া ঘোষণা
করেছে।




(রেডিও তেহরান)




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

নতুন আলকায়দা 'আইএসআইএল'-এর উত্থানের ইতিহাস




কয়েক বছর আগের একটি দৃশ্য হয়তো অনেকেরই
মনে আছে। ওই দৃশ্যে দেখা যায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সৌদি
রাজার আয়োজিত এক ভোজসভায় তলোয়ার নিয়ে রাজার সঙ্গে নাচছেন। সেই তরবারি ছিল
একটি বিশেষ অবস্থার প্রতীক ও আভাস। 






আজ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম জনগণ মুসলিম
নামধারী একদল সন্ত্রাসীর হাতেই নিহত হচ্ছে! মৃত্যুর ব্যবসায়ীদের
প্রেতাত্মারা সেখানে নিরপরাধ মানুষের মাথা দিয়ে ফুটবল খেলছে। হত্যা ও
ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মুসলিম মেয়েরা কথিত জিহাদিদের হাতে! 





এ অবস্থায় প্রকৃত ইসলাম ও ধর্মান্ধদের
সন্ত্রাসী ইসলামের পার্থক্য তুলে ধরা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশ্চাত্য প্রকৃত
ইসলামী জাগরণকে সন্ত্রাসী ইসলামের মাধ্যমে প্রতিহত করতে চায় যাতে নিরাপদ
থাকে বিশ্বব্যাপী তাদের লুণ্ঠন ও দখলদার ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী
তৎতপরতা। আর ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পারলে পাশ্চাত্যে অমুসলিমদের
ইসলাম গ্রহণের হিড়িকও কমে আসবে বলে ইসলামের শত্রুরা আশা করছে। 





তথাকথিত মুসলিম সন্ত্রাস নিয়ে পাশ্চাত্য ও
বিশেষ করে হলিউড নানা ছায়াছবিও নির্মাণ করছে। তবে সম্প্রতি পাশ্চাত্যের
গোপন ও প্রকাশ্য-মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী দল 'আইএসআইএল' উত্থান কোনো চলচ্চিত্র
নয় বরং বাস্তব ঘটনা। 




সন্ত্রাসী দল আল-কায়দার নতুন সংস্করণ
ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এন্ড লিভান্ট বা সংক্ষেপে 'আইএসআইএল' একটি
ওয়াহাবি-সালাফি জঙ্গি সংগঠন। গ্রুপটির নাম থেকেই বোঝা যায় উগ্র বা কথিত
সালাফি ইসলামের ভিত্তিতে ইরাক ও আশশাম তথা বৃহত্তর বা প্রাচীন সিরিয়ায়
(লেবানন ও ফিলিস্তিনসহ) একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা গ্রুপটির
উদ্দেশ্য। 





অনেকেই মনে করেন আফগানিস্তানে সাবেক
সোভিয়েত দখলদারিত্ব ও প্রভাব মোকাবেলার জন্য আমেরিকাই বিন লাদেনকে দিয়ে গঠন
করেছিল আল-কায়দা ও আরো পরে গঠন করে তালিবান। 





তালিবান ও আল-কায়দাকে দ্বিমুখী বা
ত্রিমুখী কাজে ব্যবহার করেছে সিআইএ। প্রথমতঃ ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে এক
শ্রেণীর যুবককে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা, দ্বিতীয়তঃ প্রথম এই উদ্দেশ্য
হাসিলের পর তথা সরলমনা ধর্মান্ধ যুবকদের ব্যবহার করার পর ইসলামের নামে
ধর্মান্ধতার বিস্তার ও জঙ্গিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে
ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক ও খারাপ ধারণা ছড়িয়ে দেয়া এবং তৃতীয়তঃ এদেরকে
সন্ত্রাসী তৎপরতায় ব্যবহার করে সেই একই সন্ত্রাস দমনের নামে দেশে দেশে
হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হয় আমেরিকা।






যাই হোক, ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার সময় সর্বপ্রথম গঠিত হয়েছিল 'আইএসআইএল' গ্রুপ। তখন গ্রুপটির নাম ছিল ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক।

২০০৬
সালের ১৫ অক্টোবর বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার
পর 'আইএসআই'-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের কথা ঘোষণা করা হয় এবং আবু ওমর আল
বাগদাদি গ্রুপটির নেতা বলে জানানো হয়। 





২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল আবু ওমর নিহত হলে
আবুবকর আল বাগদাদি এই জঙ্গি গ্রুপটির নতুন প্রধান হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে
গ্রুপটির বিস্তার শুরু হয়। 





'নয়া বিন লাদেন' নামে খ্যাত বাগদাদিকে
ধরিয়ে দেয়ার জন্য মার্কিন সরকার দশ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
বাগদাদি ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইরাকের উম্মে কাসর শহরে একটি
মার্কিন কারাগারে বন্দি ছিল। ২০০৩ সালের আগেও সে আল-কায়দার সদস্য ছিল বলে
মনে করা হয়। তাকেসহ হাজার হাজার চরমপন্থি বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয় উম্মে
কাসর শহরের 'বুকা' কারাগার থেকে। বাগদাদির আসল নাম ছিল আবু দায়া। ২০০৫ সালে
তাকে হত্যা ও অপহরণসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগে গ্রেফতার করা
হয়েছিল। ইরাকি নাগরিকদের অপহরণের পর আবু দায়া তাদের বিরুদ্ধে এক গাদা
অভিযোগের ফিরিস্তি শুনিয়ে তাদেরকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিত। 





বাগদাদি ২০১১ সালে বাগদাদের একটি মসজিদ
বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়। এ ছাড়াও সে ইরাকের সুন্নিদের প্রতিনিধি বা নেতা
হিসেবে খ্যাত খালেদ আল ফাহদাওয়িকেও হত্যার জন্য অভিযুক্ত হয়। 





ইরাকের কয়েকটি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে
দক্ষ বাগদাদি এখন ছায়ামূর্তির মত গোপনে বিচরণ করে এবং তার কর্মী ও ভক্তরাও
খুবই কমই তাকে দেখতে পেয়েছে। সে প্রায় সব সময়ই তার মুখ ঢেকে রাখে যাতে কেউ
তাকে চিনতে না পারে। আল-কায়দার অন্য যে কোনো নেতার চেয়ে আবুবকর বাগদাদি
অনেক বেশি উগ্র চিন্তাধারায় বিশ্বাসী বলে জানা গেছে। 





সিরিয়ায় কট্টর ইসরাইল-বিরোধী আসাদ সরকারকে
উৎখাতের লক্ষ্যে পাশ্চাত্য, ইসরাইল এবং তাদের আঞ্চলিক সেবাদাস সরকারগুলোর
মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হলে 'আইএসআই'ও
বিদ্রোহীদের পক্ষে যোগ দিয়ে এ যুদ্ধে অংশ নেয়।





গ্রুপটি পরে তার নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম ধারণ করে। 





সিরিয়ায় ২০১১ সালে গঠিত আন নুসরা ফ্রন্টও 'আইএসআইএল'-এর একটি শাখা হিসেবে দেশটির সরকারি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকে। 





২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে আবু বকর আল
বাগদাদি এক অডিও বার্তায় জানিয়ে দেয় যে 'জিবহাতুন নুসরা' বা 'আন নুসরা
ফ্রন্ট' 'আইএসআই'-এর অর্থ ও সহায়তা নিয়েই গঠিত হয়েছে এবং এই দুই গ্রুপ
একত্রিত হয়ে 'আইএসআইএল' নাম ধারণ করেছে।




কিন্তু এই দুই গ্রুপের মধ্যে শুরু হয়
ক্ষমতা নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব। দুই গ্রুপের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ
করতে থাকলে উভয় গ্রুপের কাছে শ্রদ্ধেয় আল-কায়দার নেতা (আইমান আল জাওয়াহেরি)
সিরিয়ার জন্য আন নুসরা ফ্রন্টকেই নিজের প্রতিনিধি বলে ঘোষণা করে এবং আন
নুসরার নেতার আনুগত্য করতে বাগদাদিকে নির্দেশ দেয়। 





'আইএসআইএল'-এর যোদ্ধারা গত দশই জুন ইরাকের
নেইনাভা প্রদেশের প্রধান শহর মসুলের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নেয়। শহরটি
জনসংখ্যার দিক থেকে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এ ছাড়াও তারা দখল করে
ফাল্লুজা ও সাদ্দামের জন্মভূমির শহর তিকরিত। তিকরিত সালাহউদ্দিন প্রদেশের
প্রধান শহর।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সরকারি ও গণবাহিনীর হামলার মুখে এইসব অঞ্চলের বহু স্থান থেকে বিতাড়িত হয়েছে 'আইএসআইএল'-এর সেনারা। 





ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকিসহ
অনেক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরাকের একদল সেনা কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ায় এক
ষড়যন্ত্রমূলক সমঝোতার আওতায় এই প্রদেশের ৫০ হাজারেরও বেশি সরকারি সেনা কোনো
ধরনের বাধা না দিয়েই সন্ত্রাসীদের কাছে শহরটির প্রধান সরকারি ভবন,
অস্ত্রাগার, ব্যাংক ও কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়।






২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে
'আইএসআইএল' সিরিয়ার রাক্কা শহরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে আসাদের বিরুদ্ধে
বিদ্রোহী কথিত ফ্রি-সিরিয়ান আর্মির সেনাদের বিতাড়িত করে। সেখানে জঙ্গি এই
গ্রুপ একটি স্থায়ী ঘাঁটিও গড়ে তোলে। রাক্কার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়
নানা ধরনের কঠোর ও চরমপন্থার শাসন। ফলে সেখানে প্রায়ই প্রকাশ্যে ঘটেছে
হত্যাযজ্ঞ ও নানা ধরনের কঠোর শাস্তি যার শিকার হয়েছে নিরপরাধ বেসামরিক
সিরিয় জনগণ।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থক
'সিরিয় মানবাধিকার পর্যবেক্ষক' সংস্থা বা এসওএইচআর বলেছে: 'আইএসআইএল' হচ্ছে
উত্তর সিরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রুপ। 





'আইএসআইএল'-কে আমেরিকা ও ইসরাইল ছাড়াও অর্থ, অস্ত্র, রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি সরকার।

মসুলে
এই জঙ্গি দলটির অভিযানের পর ইরাকি কর্মকর্তারা সৌদি ও তুর্কি গোয়েন্দা
সংস্থাকে এবং ইরাকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক আল হাশিমিকে এই অভিযানের
নেপথ্য পরিচালক বলে অভিযোগ করেছে। হাশিমি 'আইএসআইএল'-এর উত্থানকে ইরাকি
জনগণের স্বপ্নের বিপ্লব বলে দাবি করেছেন। 





ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে গোটা
মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাষড়যন্ত্রের আওতায় অস্থিতিশীল করার জন্যই সন্ত্রাসীরা
ইরাকে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু করেছে। 





একদল বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞ মনে করছেন,
ইরাকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায়
জয়ী হওয়া নুরি আল মালিকির রাজনৈতিক জোটকে ক্ষমতাচ্যুত করার এক মহাষড়যন্ত্র
করছে দেশী-বিদেশী কয়েকটি চক্র। আর এইসব চক্রের মদদদাতারা হল ইসরাইলি,
মার্কিন, তুর্কি, কাতারি ও সৌদি সরকার। তারা ইরাকে সিসির মত কোনো ব্যক্তিকে
ক্ষমতায় বসাতে চান। এই সরকারগুলো ইরাকের আগে সিরিয়ায়ও বিনা অপরাধে
বেসামরিক সাধারণ মুসলমানদেরকে কাফির বলে হত্যা করতে অভ্যস্ত ওয়াহাবি-সালাফি
মতবাদে বিশ্বাসী আইএসআইএল ও আলকায়দাসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী দলকে অস্ত্র,
অর্থ, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহায়তা দিয়ে এসেছে। 





'আইএসআইএল'-এর কিছু বৈশিষ্ট্য:



১.তাদের
বেশিরভাগই হচ্ছে বহিরাগত অর্থাৎ বিদেশী এবং তাদের খুব কম সংখ্যকই ইরাকের
অধিবাসী। আর এদের প্রতি রয়েছে সৌদি দরবারি ওয়াহাবি মুফতিদের সমর্থন।
ওয়াহাবিদের মতে তারা নিজেরা ও হাম্বলী মাজহাবের অনুসারী ছাড়া হানাফি ও অন্য
মাজহাবগুলোর সব ইমাম ও তাদের অনুসারীরা সবাই কাফির এবং এদের হত্যা করা
বৈধ। অর্থাৎ সুন্নিদের তিন মাজহাব ও শিয়া মাজহাবের অনুসারীরা সবাই কাফির
এবং এদের হত্যা করা বৈধ। 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীদের প্রত্যেককেই প্রতি
মাসে ১০০০-১৫০০ ডলার বেতন দেয়া হয়। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সৌদি আরব,
কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাত যোগান দিয়ে যাচ্ছে।






২. এইসব সন্ত্রাসীরা যে সব
অঞ্চল দখল করেছে সেখানেই নৃশংস ও জঘন্য হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। নারী, শিশু,
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কাউকে এরা রেহাই দেয়নি। শুধু তাই নয় এর আগে সিরিয়ায় দেখা
গেছে, এইসব সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে নিহতদের বুক ও পেট চিড়ে হৃদপিণ্ড,
কলিজা ইত্যাদি বের করে এনে চিবিয়ে খেয়েছে এবং এ সব দৃশ্যের সচিত্র ভিডিও
ফুটেজও এরা প্রকাশ করেছে ইন্টারনেটে। 





'আইএসআইএল'-এর সেনারা এরিমধ্যে তাদের
দখলকৃত অঞ্চলে হাজার হাজার বন্দী সেনাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সেসবের ছবি
ইন্টারনেটে পোস্ট করেছে। তাদের সেনারা নানা অঞ্চলে ইরাকি নারীদের ধর্ষণ
করেছে বলেও খবর এসেছে। 'আইএসআইএল'-এর আধ্যাত্মিক উৎসাহদাতা ওয়াহাবি
মুফতিদের ফতোয়া অনুযায়ী বিজিত অঞ্চলের নারীদের স্ত্রীর মত ব্যবহার করা
হালাল বা বৈধ। 





এরিমধ্যে মসুলে জোর করে নারীদের বিয়ের অথবা ধর্ষণের ঘটনার পর চার জন নারী আত্মহত্যা করেছে বলে খবর দিয়েছে জাতিসংঘ।


ইরাকে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী দল আইএসআইএল মসুলে ১২ জন সুন্নি আলেমকে হত্যা করেছে।


দলটির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে
অস্বীকৃতি জানানোয় এই ১২ জন সুন্নি আলেমকে তারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে
গত শনিবার আল ইরাকিয়া টিভি খবর দিয়েছে।


অন্য এক ঘটনায় আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীরা
মসুলের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমামকে হত্যার পর তার লাশকে টুকরো টুকরো করে।
তাদের দৃষ্টিতে ওই ইমামের অপরাধ ছিল এটা যে তিনি তাদের দলে যোগ দিতে
অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। স্থানীয় আলেমরা এই নৃশংস ঘটনা ঘটার কথা জানিয়েছেন।




৩. 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীরা ইসলামসহ
নানা ধর্মের অনুসারীদের পবিত্র স্থানগুলোকে ধ্বংস করছে এবং লুটপাট ও
নির্বিচার গণহত্যায় লিপ্ত হচ্ছে। অথচ পবিত্র ধর্ম ইসলাম যুদ্ধ-কবলিত অঞ্চলে
বেসামরিক পুরুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা তো দূরের কথা সেখানকার
গাছপালা, ফসল, ক্ষেত-খামার, পশু, পানি ও পরিবেশের ক্ষতি করাকেও নিষিদ্ধ
করেছে। এমনকি ইসলামী নীতি অনুযায়ী যুদ্ধ-বন্দী বা আত্মসমর্পণকারী
ব্যক্তিকেও হত্যা করা নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি ছাড়াও জাহেলি যুগেও
আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিকে হত্যা করা কাপুরোষোচিত কাজ বলে বিবেচিত হত।





ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত কাফির বা
অবিশ্বাসী ব্যক্তির লাশকে বিকৃত করাও নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু 'আইএসআইএল'-এর
সন্ত্রাসীরা যুদ্ধে নিহত সেনাদের লাশ বিকৃত করা, গাড়ী-চাপা দেয়া ও পদদলিত
করা ছাড়াও নিহতদের মাথাকে ফুটবল বানিয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করার মত পৈশাচিক
উল্লাসে মেতে উঠেছে।


পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, কেউ যদি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাহলে সে যেন গোটা মানব জাতিকে হত্যা করলো।





৪. 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীদের অনেকেই আরব
দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মত সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত হওয়ায় তাদের
মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মত কঠোর শাস্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বিদেশে গিয়ে কথিত জিহাদের নামে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর শর্তে
এদের মুক্তি দেয়া হয়েছে।





৫. এই সব তাকফিরি সন্ত্রাসী যারা
নিজেদেরকে জিহাদি বা মুজাহিদ বলে দাবী করে তারা ফিলিস্তিন দখলদার ইহুদিবাদী
ইসরাইলের দিকে ভুলেও একটি গুলিও ছুঁড়েনি। একজন ইসরাইলি সেনাকেও হত্যা করে
নি। অথচ এ সব সৌদি-কাতারি-তুর্কি-মার্কিন-ইঙ্গ-ফরাসি-জার্মান সমর্থনপুষ্ট
তাকফিরি ( সালাফী ) ওয়াহাবি সন্ত্রাসীরা যেমনিভাবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান
ও ইরাকে (ওয়াহাবি নয় এমন) লক্ষ লক্ষ নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করছে ঠিক
সেভাবে তারা সিরিয়ায়ও যারা ওয়াহাবি মতাবলম্বী নয় তাদের মধ্য থেকে গত
তিন বছরে হাজার হাজার মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীকে নৃশংসভাবে হত্যা
করেছে!




৬.এইসব বিদ্রোহী ও তাকফিরি ওয়াহাবি
(সালাফি) সন্ত্রাসী গ্রুপ ও সংগঠন যেমন সৌদি-কাতারি-তুর্কি- শাসকগোষ্ঠী
কর্তৃক সমর্থিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত ঠিক তেমনি তারা সাম্রাজ্যবাদী বিধর্মী
পাশ্চাত্য কর্তৃকও সমর্থিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত! 





৭.এরা সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠুর, হিংস্র ও
পাশবিক চরিত্রের বরং পশুর চেয়েও অধম। কারণ, এদের অনেকেই বন্দীদের হত্যা
করে তাদের দেহ চিড়ে ফেঁড়ে হৃদপিণ্ড কলিজা ইত্যাদি চিবিয়ে খেয়েছে যা
আমরা আগেও উল্লেখ করেছি।


৮.এদের প্রতি আপামর ইরাকি ও সিরিয় জনগণের কোনো সমর্থন নেই। 




৯.এদের নিজেদের মধ্যেও কোন ঐক্য নেই ,আর এ
কারণে এরা প্রায়ই পরস্পর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আর খোদা না করুক
এরা কোথাও ক্ষমতাসীন হলে এই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে আরও
সর্বাত্মক,ব্যাপক ও মারাত্মক স্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধ চলতেই
থাকবে। এরা সিরিয়ায় সাহাবিদের মাজার ধ্বংস করেছে। ইরাকেও নবী বংশের দুই
ইমাম তথা বিশ্বনবী (সা.) আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.) ও
ইমাম আলী নাকী (আ.)'র মাজারের গম্বুজ ধ্বংস করেছিল। এরা বিশ্বনবীর নাতি ও
কারবালা বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)'র মাজার ধ্বংসের প্রতিজ্ঞা
করেছে। এরাই সিরিয়ায় হযরত ইমাম হুসাইন-আ.'র বোনের মাজারে হামলা করেছে,
তিন-চার বছরের শিয়া মুসলিম শিশুকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, দুই
কুর্দির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগে-থেকে জ্বালানো আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে ও তার
ভিডিও প্রচার করেছে, গর্ভবতী শিয়া মুসলিম নারীর পেট চিরে শিশু বের করে
উভয়কে হত্যা করেছে, বন্দী শিশুকে দিয়ে যুবক বন্দীকে হত্যা করে তার ভিডিও
প্রচার করেছে, কিশোরদের ধরে এনে হত্যা করেছে এবং বহু বেসামরিক লোককে
নৃশংসভাবে হত্যা করে তাকফিরি-ওয়াহাবি ইসলামের কথিত বীরত্বের ভিডিও প্রচার
করেছে। এইসবই ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধরত সন্ত্রাসীদের পাশবিকতার আরো কিছু
প্রমাণ।




(রেডিও তেহরান)






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ইরাকের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আইএসআইএল’র হামলা





২০০৯ সালে তোলা তেল শোধনাগারটির দৃশ্য

ইরাকের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলা করেছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্যা লিভ্যান্ট বা আইএসআইএল’ সন্ত্রাসীরা।





রাজধানী বাগদাদ থেকে ২১০ কিলোমিটার উত্তরে
অবস্থিত বাইজি তেল শোধনাগারে মর্টার এবং মেশিনগানের সাহায্যে হামলা চালানো
হয়। মসুলের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পর গত সপ্তাহে এ তেল শোধনাগার ঘেরাও করে
আইএসআইএল’ সন্ত্রাসীরা। সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এ
শোধনাগারের কাজ বন্ধ করে দেয় এবং সেখানকার বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেয়।



শোধনাগারের
ঢোকার প্রধান দুইটি প্রবেশ দ্বারের একটিতে সর্বশেষ হামলা করা হয়েছে। এদিকে
শোধনাগারের খুচরা যন্ত্রাংশের গুদামে মর্টার আঘাত হানার পর সেখান থেকে ঘন
কালো ধোয়া বের হতে দেখা গেছে।



ইরাকের বৃহত্তম এ তেল শোধনাগারের
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা তিন লাখ ব্যারেল এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ
চাহিদার যোগান এখান থেকে দেয়া হয়।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

লুহানেস্কে মর্টার হামলায় রাশিয়ার ২ টিভি সাংবাদিক নিহত




ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় নগরী লুহানেস্কে কিয়েভ বাহিনীর মর্টার হামলায়
রাশিয়ার দুই টেলিভিশন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সাংবাদিক ইগর করনেলিউককে
হাসপাতালে নেয়ার পর প্রাণ হারান অন্যদিকে শব্দ প্রকৌশলী আন্তোন ভোলোশিন
ঘটনাস্থলেই নিহত হন। কিন্তু হামলার তীব্রতার কারণে তার মৃত্যু সংবাদ
তাৎক্ষনিক ভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় নি। দু’জনই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় চ্যানেল
রোশিয়া টিভির সাংবাদিক। কিয়েভের হামলার মুখে নিরুপায় শরণার্থীদের পালিয়ে
যাওয়ার দৃশ্য ধারণ করার সময়ে প্রাণ হারান এ দুই টিভি সাংবাদিক।





রাশিয়ান
ফেডারেশন কাউন্সিলের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফের্য়াস কমিটির প্রধান মিখাইল
মারগেলোভ বলেছেন, কিয়েভ সরকার রুশ সাংবাদিকদের শত্রু হিসেবে গণ্য করে কারণ
তাদের তৎপরতা দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় ইউক্রেনে সরকারি বাহিনীর অবাধ অপরাধ
তৎপরতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।





এদিকে, রাশিয়া থেকে ইউক্রেনে
গ্যাসবাহী গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্স-সাইবেরিয়ান পাইপলাইনে বোমা হামলা হয়েছে।
অবশ্য এতে কেউ হতাহত হয় নি বা গ্যাস রফতানিতে কোনো প্রভাব পড়ে নি। ইউরোপ ও
রাশিয়ার কোম্পানিগুলো এ তথ্য দিয়েছে।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বিশ্ব শ্রম সংস্থার সতর্কবাণী – বিশ্বব্যাপী অনিশ্চিত কর্মপরিস্থিতি



বিশ্ব শ্রম সংস্থা বা আইএলও-র নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেয়ার জব বা ন্যায্য
মজুরির কাজকর্মই একমাত্র উন্নয়ন বয়ে আনে৷ অর্থাৎ কম বা নিম্ন মজুরি এবং
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা সমাজ ও অর্থনীতির জন্য কখনই মঙ্গলকর নয়৷



উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ১.৫ বিলিয়ন মানুষ কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম
খাচ্ছে৷ অনেককেই দিনমজুর হিসাবে ও ছুটা কাজ করে বাঁচতে হচ্ছে৷ এই সব তথ্য
জানা গিয়েছে বিশ্ব শ্রম সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে৷



এতে বলা হয়েছে, কাজে সুষ্ঠু পরিবেশ ও ন্যায়সঙ্গত শর্তাবলী থাকলে উন্নয়নও
ত্বরান্বিত হয়৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইএলও-র এক কর্মীগ্রুপ ১৪৫টি উন্নয়নশীল ও
বিকাশমান দেশে গিয়েছিলেন৷ তাঁদের অভিমত, যে সব দেশে ন্যায়সঙ্গত শ্রম আইন
রয়েছে এবং সামাজিকসিস্টেমে কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত, সেসব
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও নিম্ন মজুরির দেশগুলির তুলনায় একটা ইতিবাচক প্রভাব
লক্ষ্য করা যায়৷



উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুণগত মানটাই মুখ্য, বলেন আইএলও-র মোয়াজ্জেম মাহমুদ৷
‘‘শুধু রপ্তানির মাধ্যমে নয়, বরং কাজের গুণগত মানের কারণেই কয়েকটি দেশ
দীর্ঘমেয়াদে উঁচু আয়ের দেশে পৌঁছাতে পেরেছে'', বলেন মাহমুদ৷ এর ফলে ভালো
কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়, শিক্ষা ও উৎপাদন ব্যবস্থায় উন্নয়ন হয়৷ বৃদ্ধি পায়
নিরাপত্তা, যা আবার একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে৷
‘‘জাতীয় অর্থনীতি ন্যায্য বেতনের ভিত্তিতে গড়ে উঠলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব'', বলেন মাহমুদ৷








Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ফুটবল যেখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদেরও ‘গ্রেটেস্ট শো'



পুরো বিশ্ব এখন কাঁপছে বিশ্বকাপ জ্বরে৷ কিন্তু এরই মধ্যে মেক্সিকোতে হয়ে
গেল এক ভিন্ন ধরণের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ৷ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে অভিনব
ফুটবল ম্যাচ৷ গত ১৮ বছর ধরে চলছে এই আয়োজন৷






মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে ‘ইগনাসিও ট্রিগুয়েরোস সকার লিগ ফর দ্য
ব্লাইন্ড অ্যান্ড ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ারড' আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফুটবল
চ্যাম্পিয়নশিপ৷ রোববার দূর-দূরান্ত থেকে ক্রীড়ামোদীরা চলে এসেছিলেন
মেক্সিকো সিটিতে জনপ্রিয় এই বিশেষ খেলা দেখতে৷





প্রতিবন্ধীদের
এই খেলায় প্রতি দলে ছয়জন করে খেলোয়াড় থাকেন৷ এঁদের মধ্যে একজন খেলোয়াড়
থাকেন, যিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নন, অর্থাৎ দেখতে পান৷ অন্য খেলোয়াড়রা চোখে
পট্টি বেঁধে খেলেন৷ কিন্তু নিশ্চয়ই আপনার মনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে – না দেখে
কীভাবে খেলেন তাঁরা? তাঁদের সুবিধার জন্য বিশেষ ধরনের একটি বল ব্যবহার করা
হয়৷ বলটিতে আঘাত করলে এক ধরনের শব্দ হয়৷ সেই শব্দ শুনেই খেলোয়াড়রা বুঝতে
পারেন বল কোথায় আছে৷ ধাক্কাধাক্কি ও পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও খেলোয়াড়রা
ভালোভাবেই পাস করেন, গোল করেন এবং প্রতিরক্ষা করেন৷





এই বিশেষ ধরনের বলটি নিজ কারখানায় তৈরি করেন ৫১ বছর বয়সি কানেলা, যিনি
মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজ কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন৷





৪৪ বছর বয়সি খেলোয়াড় হোসে লুইস মলিনা বলেন, ‘‘দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর
ঘ্রাণ এবং শ্রবণ শক্তি অনেক বেড়ে যায়৷ এই দুটো থেকেই পরিবেশ সম্পর্কে একটা
ধারণা পাওয়া যায়, যা খেলতে সাহায্য করে৷'' তিনি ১৩ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি
হারিয়েছেন৷





লিগের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মোসকেদা লোমেলি বলেছেন, ‘‘আমাদের জন্য এটা ভীষণ
গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিনোদনের জায়গা খুব কম৷ আর পরিবার
নিয়ে এমন বিনোদনের সুযোগ আর পাওয়া যায় না৷''




লিওনেস নেগরোস দলের ৫৩ বছর বয়সি ফুটবলার
মার্কো কামারিলো বললেন, ‘‘রবিবারের ফাইনালে তাঁর স্ত্রী খেলা দেখতে
এসেছিলেন৷ স্ত্রীর ভয় ছিল আমি আঘাত পেতে পারি৷ কিন্তু এই আশঙ্কার চেয়েও
আমার খেলার প্রতি তাঁর মমতা ছিল বেশি৷''



ঐ ম্যাচে কামারিলো একটি গোল করেন৷ ফাইনালে ইটালি ৬-৫ গেমে লিওনেস নেগরোসকে
হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়৷ কিন্তু ভালো খেলার জন্য ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের
খেলোয়াড়দের আলিঙ্গনে সিক্ত হন কামারিলো৷





এপিবি/ডিজি (এপি, রয়টার্স)






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আফগানিস্তানকে সীমান্ত বন্ধ করে দিতে বলল পাকিস্তান



আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে
সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ
শরীফ। পাক সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে যাতে পাকিস্তান থেকে তালেবান
সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য সীমান্ত বন্ধের
আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।






পাক পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাসনিম
আসলামের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে। তাসনিম আসলাম জানান,
গতরাতে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের সঙ্গে টেলিফোন
আলাপের সময় এ আহ্বান জানান।





এর আগে, পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা
আফগান সরকারকে সীমান্তে তালেবান জঙ্গীদের আস্তানা ধ্বংসের জন্য কারজাই
সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন।




নওয়াজ শরীফের সঙ্গে ফোনালাপের পর হামিদ
কারজাই এক বিবৃতিতে চলমান সামরিক অভিযানে বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি যতটা
সম্ভব কমানোর জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সব ধরনের
সহযোগিতার জন্য আফগানিস্তান প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আইএসআইএল-এর বর্বরতা: বন্দি সেনাদের নির্বিচারে হত্যা



আইএসআইএল- এর বর্বর সন্ত্রাসীরা ইরাকের
উত্তরাঞ্চলীয় সালাহউদ্দিন প্রদেশে তাদের হাতে বন্দি অন্তত এক হাজার সরকারি
সৈন্যকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করেছে। বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে
এ নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ভিডিও চিত্র ও ছবি অনলাইনে প্রকাশ করেছে।






সালাহউদ্দিন প্রদেশের প্রধান শহর তিকরিতের
একটি সেনা ঘাঁটি দখল করার পর এ পাশবিক হত্যাকাণ্ড চালায় তাকফিরি
সন্ত্রাসীরা। আইএসআইএল-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে,
সেনাবাহিনীর পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকের শত শত যুবককে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে
যাচ্ছে মুখোশ পরিহিত বন্দুকধারীরা। এ সময় একজন সন্ত্রাসীকে বলতে শোনা যায়,
'সেনা ঘাঁটিতে এরা আত্মসমর্পন করেছে।'





স্থির চিত্রে দেখা যায়, শত শত যুবককে
ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব ছবির ক্যাপশানে আইএসআইএল লিখেছে, এদেরকে
মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর কিছু ছবিতে এসব হতভাগ্য সৈন্যর ওপর
ব্রাশ ফায়ার করতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, শত শত যুবককে একটি খোলা
মাঠের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং দূরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে গুলি করার
জন্য দাঁড়িয়ে আছে সন্ত্রাসীরা।





ইরাকের সেনা মুখপাত্র লে. জেনারেল কাসিম
আল-মুসাভি এসব ছবির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, সালাহউদ্দিন প্রদেশে এ
বর্বরতা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেছেন, ছবিতে যতটা বর্বরতা প্রকাশ
পেয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ পাশবিকতা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ইরাক থেকে একজন
সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ছবিগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে তা হবে ২০০৩ সালে ইরাকে
ইঙ্গোমার্কিন আগ্রাসনের পর সবচেয়ে পাশবিক বর্বরতা।





এমন সময় এসব সন্ত্রাসী আত্মসমর্পনকারী
সৈন্যদের নির্বিচারে হত্যা করল যখন তারা নিজেদের ইসলামপন্থি বলে দাবি করে।
অথচ তারা যে রাসূলের (সা.) অনুসারী বলে দাবি করে সেই মানবতার মুক্তির দূত
মক্কা বিজয়ের পর প্রাণের শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তিনি যাদের ক্ষমা
করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন রাসূলের চাচা হামজাকে হত্যা করে তার কলিজা
ভক্ষণকারী হিন্দা ও তার স্বামী আবু সুফিয়ান।




বিশ্বনবী (সা.) কখনো আত্মসমর্পনকারী শত্রু
বা বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও অনুমতি দেননি। অথচ কথিত ইসলামিক স্টেট
অব ইরাক এন্ড দ্যা লিভেন্টের (আইএসআইএল) সন্ত্রাসীরা ইরাকি বন্দি সেনাদের
ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালাল। যারা মানবতার এই শত্রুদের ইসলামপন্থি ভাবেন
তাদের ভুল ভাঙার জন্য এসব ছবি জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

জঙ্গিদের অর্থ যোগান দিচ্ছে সৌদি আরব



ইরাকে তৎপর জঙ্গিদের অর্থ যোগান দেয়ার
জন্য সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করেছে বাগদাদ সরকার। ইরাকের মন্ত্রিসভা বলেছে,
দেশের ভেতরে সংঘটিত বর্বরতা ও অপরাধে সমর্থন দেয়ার জন্য রিয়াদকে দায়ী থাকতে
হবে। প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির দফতর থেকে আজ (মঙ্গলবার) দেয়া এক
বিবৃতিতে ইরাকের মন্ত্রিসভার এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।  






সৌদি আরবের ভূমিকার কঠোর নিন্দা করে এতে আরো বলা হয়েছে, রিয়াদের মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে- সৌদি আরব সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে।




ইরাক সরকারের সম্প্রদায়িক নীতির কারণে
দেশটিতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে বলে সৌদি আরব ও কাতার সম্প্রতি একটি
বিবৃতি দিয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে ইরাকের মন্ত্রিসভা সৌদি আরবকে সন্ত্রাসীদের
অর্থ ও নৈতিক সমর্থন দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করল।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

পদ্মা সেতু নির্মাণে চুক্তি সই



পদ্মা সেতু নির্মাণে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রুপসী বাংলা হোটেলে এই চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম এবং চায়না ব্রিজ কোম্পানির পক্ষে চেয়ারম্যান লিউ জি মিং স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ ফ ম মোস্তফা কামাল, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এ এ মান্নান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেক দুস্তর আলো আঁধারির পথ পাড়ি দিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর মুখ দেখলো পদ্মা সেতু প্রকল্প। একসময় কেউ বিশ্বাস করে নি যে পদ্মা সেতু একদিন হবে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের ফসল হিসেবে আগামী ২০১৮ সালে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল করবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘এ চুক্তির ফলে পদ্মা সেতুর মূল কাজ বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়ে গেল। আর্ন্তজাতিক দরপত্র নীতিমালা মেনেই এ চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে আশেপাশের উচ্ছেদ কাজ শুরু হয়েছে।’ এর আগে ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মাসেতুর কার্যাদেশে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে ১২ হাজার একশ কোটি টাকায় পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণের কাজ পায় চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। সবচেয়ে কম দরদাতা হিসেবে এই কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ, ৯ হাজার ১৭২ দশমিক ১৭ কোটি টাকার প্রকল্পটির জন্য গত বছরের ২৬ জুন চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, ডেলিম এলএনটি জেভি এবং স্যামস্যাং সিএনটি করপোরেশন এ তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ক্রয় করে। কিন্তু ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত পদ্মা বহুমুখি সেতুর জন্য কারিগরি দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে শুধু চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডই দরপত্র জমা দেয়।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বাংলাদেশ এখন ভয়ার্ত ত্রাসের জনপদ, দায়ী অবৈধ সরকার: ফখরুল



 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বাংলাদেশ এখন ভয়ার্ত এক ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। এর জন্য দায়ী অবৈধ, অনৈতিক বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। তারা কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকতে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে খুন, গুম, হত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে।


আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কৃষক দলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহবুবুল আলম তারা’র মৃত্যুতে কৃষক দল আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, "আমরা বর্তমানে একটি শ্বাসরুদ্ধকর ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি। আপনারা দেখেছেন কিছুদিন আগে মিরপুরের কালশীতে ঘরের দরজা বন্ধ করে কীভাবে নৃশংসভাবে ৯ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ফেনীতে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায় গাড়িতে আগুন দিয়ে ও গুলি করে উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যা করা হলো। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে মানুষকে খুন করে পরে পেট কেটে ইট বেঁধে লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হলো। এসবের জন্য বর্তমান অবৈধ ও অনৈতিক সরকার দায়ী।

মাহবুবুল আলম তারার স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি এমন সময় চলে গেলেন যখন দেশের কোনো মানুষ নিরাপদ নয়। সারাদেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মনে হয় তিনি চলে গিয়ে বেঁচে গেছেন। তার মৃত্যুতে শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামী দিনে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।   

ফখরুল দেশে গণতন্ত্রকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও বর্তমান অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশের  মানুষকে জেগে ওঠে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু’র সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি প্রমুখ




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

IBN SINA