বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারকে প্রয়োজনে দেখাশোনার যে ঘোষণা দিয়েছেন তার কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জের গডফাদারকে বাঁচাতে সংসদে যা বলেছেন তাতেই বুঝা যায় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা গডফাদারের মা। তিনি সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। যে গডফাদারকে আশ্রয় দেয় তার কাছ থেকে মানুষ ভালো কিছু আশা করতে পারে না।”
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী নিহত ও গুম হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা রোববার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। আবার র্যাবের এবং র্যাবের কর্নেল জিয়ার গ্রেফতার দাবি করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় কর্নেল জিয়া জড়িত। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করে বিচার করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, সাত খুনের ঘটনায় র্যাব থেকে অবসরে পাঠানো তিন সদস্যকে রিমান্ডের নামে জামাই আদর করা হচ্ছে। তাদের সত্যিকারের রিমান্ডে নেয়া হলে, জিয়ার নাম আসবে, তার ওপরে হাসিনার নাম আসবে। হাসিনা কোনোভাবেই এ থেকে রক্ষা পেতে পারে না।
মিরপুরে বিহারি ক্যাম্পে হতাহতের ঘটনায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ও তার পুলিশ বাহিনী মানুষকে ঘরে বন্ধ রেখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। এ সরকার অপরাধী। আল্লাহ এ সরকারের বিচার করবেন এবং দুনিয়াতেও আন্তর্জাতিক আদালতে এ সরকারের বিচার হবে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা মানুষ নয়, পশু, বানর। এরা শুধু মানুষ খুন ও গুম করতে জানে।
তিনি বলেন, এখন দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার, জানমালের নিরাপত্তা নেই। গণতন্ত্র তো নেই।
বিএনপি চেয়ারপারসন নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সুদিন আর দূরে নয়, আওয়ামী লীগ বিদায় হবে, শান্তি আসবে। ঘরে-বাইরে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে।
ক্ষমতাসীন সরকারকে অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুরের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের স্ত্রী বর্ণনা দেন কীভাবে তার স্বামীকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে র্যাব-৭ এর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘সে আমরা বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে র্যাব আমার স্বামীকে তুলে নেয় এবং বলে সকালে ছেড়ে দেবে। কিন্তু এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই। এখন শিশু সন্তান নিয়ে আমি বিপদে আছি।’
লক্ষ্মীপুরের যুবদল নেতা সোলাইমানের স্ত্রী তার স্বামীকে অপহরণ সম্পর্কে বলেন, ‘রিকশায় করে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলাম। আমার সন্তানকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে স্বামীকে তুলে নিয়ে যায় র্যাব। এর পর থেকে তার খোঁজ নেই।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর জেলায় বিএনপির ২২ নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। আর গত বছরের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১৭ জন খুন এবং ছয়জন গুম হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভুইয়া। উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহসচিব মো. শাহজাহান, সাবেক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি প্রমুখ।
Disclaimer:
This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.





