ফ্রাংক রিবেরি
এই ফ্রেঞ্চ ফুটবল তারকা জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে লেফট উইংয়ে খেলে থাকেন। এই ফ্রেঞ্চ ফুটবলার তার গতি, কর্মচাঞ্চল্য, পাসিং এবং ড্রিবলিংয়ের জন্য অধিক পরিচিত বিশ্ব ফুটবলে। বলের সাথে পায়ের সম্পর্কের বিচারে রিবেরিকে সমসাময়িক ফুটবলারদের মধ্যে প্রথম কাতারেই রাখতে হবে। বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেয়ার পর এবং তাদের জন্য অনেক সাফল্য বয়ে আনার পর রিবেরি এই সময়ের অন্যতম সেরা ফ্রেঞ্চ ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে। ফ্রেঞ্চ ফুটবলের ৯০ দশকের সেরা তারকা জিনেদিন জিদানের মতে, বর্তমান সময়ে ফ্রান্স ফুটবলের ‘ ফ্রাংক রিবেরি’। নিজ শহরের কাব কন্টি বোলনের হয়ে ১৯৮৯ সালে ফুটবলার হিসেবে তার পথ চলা শুরু। সেখানে সাত বছর কাটানোর পর ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের কাব লিলেতে যোগ দেন রিবেরি। সেখানে পাঁচ বছর তেমন একটা সাফল্য না পেয়ে তুরস্কের কাব গালাতাসারেতে যোগ দেন। সেখানে দু’বছরে একটি লিগ কাপ জয়ের পর নানা বিতর্কের কারণে আবার ফ্রেঞ্চ লিগের দল মার্শেইতে যোগ দেন। সেখানে পরপর দুই মওসুমে ফ্রেঞ্চ কাপ জয় করার পর ২০০৭ সালে জার্মান জায়ান্ট কাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। বেভারিয়ানদের হয়ে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে চুক্তিবদ্ধ হন এই ফ্রেঞ্চ ফুটবলার। বুন্দেসলিগার চার শিরোপা, চার জার্মান লিগ কাপ, ২০১২-১৩ ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা এবং বিশ্ব কাব কাপের শিরোপা জয় তার প্রতিভারই ছবি ফুটিয়ে তোলে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তিন মওসুমে ডাবল এবং এক মওসুমে ট্রেবল জয় করেন রিবেরি। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স ২০১২-১৩ সিজনে ব্যালন ডি অর’র সেরা তিনের তালিকায় তাকে নিয়ে আসে লায়নেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর। ২০০৬ এবং ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা এবং ২০০৮ এবং ২০১২ এর ইউরো খেলা রিবেরি সে সময় থেকে ফ্রান্স দলকে সাফল্য এনে দিতে আরো পরিণত হয়েছেন এবং নিজেও সাফল্য বা শিরোপা লাভের চেষ্টা চালাবেন। কারণ দেশের হয়ে ৮০ ম্যাচে ১৬ গোল করলেও, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৭৮ ম্যাচে ৬৩ গোল করেছেন। দেশের হয়ে সাফল্যের ুধা তাই এখন রিবেরির বেশ চড়া, যা ফ্রেঞ্চ ফুটবল সমর্থকদের মনে আশা সঞ্চার করাচ্ছে।


টমাস মুলার

জার্মানির এই তারকাকে মাঝমাঠের খেলোয়াড় কিংবা স্ট্রাইকার দু’ভাবেই ব্যবহার করা যায়। এমনকি একজন উইঙ্গার হিসেবে বা উইংয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও তার আছে। টমাস মুলার সব সময় তার খেলা অনুযায়ী অবস্থান, অদম্য মানসিক শক্তি এবং দলীয় খেলোয়াড় হিসেবে প্রশংসিত। বায়ার্ন মিউনিখের যুবদলের ফসল আজকের মুলার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সিনিয়র দলে তার সুযোগ হয় ২০০৯-১০ সালে। সে সময় বেভারিয়ানদের কোচ নিযুক্ত হন লুই ভ্যান গলে। সে মওসুমে বায়ার্ন লিগ শিরোপাসহ ডাবল জয় করে এবং ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচে টমাস মুলার নিয়মিত একাদশে ছিলেন এবং কাবের হয়ে সাফল্যে ভূমিকা রাখেন। তার এই উজ্জ্বল পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ এনে দিয়েছিল। ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জার্মানির জাতীয় ফুটবল দলে খেলার ডাক আসে মুলারের। ২০১০ বিশ্বকাপে পাঁচ গোলসহ গোল্ডেন বুট এবং সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার তার পরিশ্রমের স্বীকৃতিই এনে দিয়েছিল। ২০১২ সালের ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে একমাত্র গোলটি মুলারই করেছিলেন কিন্তু কাব শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারে পরাজিত হয়। তার সাবেক কোচ এবং নেদারল্যান্ডসের বর্তমান কোচ লুই ভ্যান গলের মতে, ‘মুলার কৌশলের দিক দিয়ে দারুণ একজন খেলোয়াড় এবং সব সময় উন্নতি করতে চায়।’ বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৬৫ ম্যাচে ৫৮ গোল করা এবং জাতীয় দলের হয়ে ৪৭ ম্যাচে ১৬ গোল করা এই খেলোয়াড় ২০১৩-১৪ সিজন তেমন বায়ার্নের হয়ে তেমন ভালো না কাটালেও জার্মান লিগ কাপে সেরা গোলদাতা হয়েছেন। পাঁচ খেলায় করেছেন আট গোল। জার্মান এই ফুটবলার সব সময় জাতীয় দলের হয়ে সেরাটা দিয়ে থাকে। তাই মুলারের ফর্ম নিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রতিপকে একটি বাড়তি চিন্তা করতে হতেই পারে।


করিম বেনজেমা
করিম মোস্তফা বেনজেমা। এই ফ্রেঞ্চ ফুটবলার স্ট্রাইকার কিংবা উইঙ্গার হিসেবে স্প্যানিশ প্রিমেরা লিগা বা লি লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেন। টেকনিক্যাল বা কৌশলী ফুটবল এবং শক্তি এবং মতার সমন্বয় করিম বেনজেমা। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজেমা ‘অসাধারণ এক ফুটবলার’ এবং বক্সের ভেতরে সেরা ফিনিশার বা গোল দিতে সম। ১৯৯৬ সালে অলিম্পিক লিঁওতে যোগ দেয়ার পর তার বড় ফুটবলার হয়ে গড়ে ওঠার পালে আরো জোরে বাতাস লাগে। যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা বেনজেমার লিঁওর হয়ে সিনিয়র দলে অভিষেক হয় ২০০৪-০৫ মওসুমে। পরপর তিন লিগ শিরোপা জয় তাকে রিয়াল মাদ্রিদে নিয়ে আসতে প্রভাবিত করে। এই তিন সিজনেই বেনজেমা লিঁওর হয়ে ২০ এর অধিক গোল করেন। ২০০৮ সালে ৩০ গোল করার পর পরের মওসুমে রিয়াল তাকে চুক্তিবদ্ধ করে। ২০০৯ সালে রিয়ালে এলেও প্রথম দুই মওসুমে কিছুটা সাফল্যের জন্য মানিয়ে নিতে হয় বেনজেমাকে। ২০১১ সালে লিগা বিবিভিএ বা প্রিমেরা লিগায় ৩২ গোল করেন। ২০১১ এবং ২০১২ সালে বছরের সেরা ফ্রেঞ্চ ফুটবলার নির্বাচিত হওয়া বেনজেমা ২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০১২ ইউরোতে থাকলেও নিয়মিত একাদশে তেমন একটা সুযোগ পাননি কিন্তু এখন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পেছনে তার ভালো খেলা বিরাট ভূমিকা পালন করবে এবং সমর্থকেরা সেটাই আশা করে। রিয়ালের হয়ে ১৫৯ ম্যাচে ৭২ গোল করা এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ১৯ গোল করা বেনজেমা মুখিয়ে আছেন বিশ্বকাপের জন্য।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.