2014-Brazil-World-Cup-Ball-brajuka-Info

প্রতিবারের মতো এবারো বিশ্বকাপের নতুন বল নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক, গবেষণা৷
খেলোয়াড়দের আশা, ‘ব্রাজুকা’ এবার ভাল খেলাই দেখাবে৷ তবে গতবারের
অভিজ্ঞতার কারণে সংশয়ও পুরোপুরি কাটছে না৷



২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের বল ‘ফেভারনোভা' নাকি ছিল অনেক বেশি হালকা আর ‘বাউন্সি'৷ এর চার বছর পর জার্মানি বিশ্বকাপের বল ‘টিমগাইস্ট'-
এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, সেটি নাকি অতিরিক্ত ‘পিছল'৷ আর ২০১০ সালে দক্ষিণ
আফ্রিকা বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি' তো অনেক খেলোয়াড়কে রীতিমতো ভড়কে
দিয়েছিল৷



 ব্যাপক সমালোচনার পর এবার অনেকের মতামত নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই
ব্রাজুকা তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান
আডিডাস৷ জার্মান এই কোম্পানির দাবি, ব্রাজুকাই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি
পরীক্ষিত বল৷



নতুন বলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের পরিচিত করতে গত ডিসেম্বরে ‘ব্রাজুকা'
উন্মোচনের পরপরই বিশ্বকাপে থাকা সবকটি দেশে বলটি সরবরাহ করে আডিডাস৷ আর গত
বৃহস্পতিবার বিশ্বের সামনে আনা হয় ফাইনাল ম্যাচের বলটি, যার নাম দেয়া হয়েছে
‘ব্রাজুকা ফাইনাল রিও'৷



গত দুই বছরে জিনেদিন জিদান, লিওনেল মেসি, ইকার ক্যাসিয়াস, বাস্তিয়ান
শোয়াইনস্টাইগারের মতো ছয়শ খেলোয়াড় ব্রাজুকা পরখ করে দেখেছেন৷ বায়ার্ন
মিউনিখ, এসি মিলানের মতো দলের বিশেষজ্ঞরা এই বল নিয়ে মতামত দিয়েছেন৷
ব্রাজুকার মন বুঝতে নাম আর চেহারা বদলে খেলানো হয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ
আর একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও৷




এবারের বিশ্বকাপ বলের জন্য ব্রাজুকা নামটি ঘোষণা করা হয় ২০১২ সালের
সেপ্টেম্বরে৷ তার আগে নাম নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটিরও আয়োজন করে
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটি ও আডিডাস৷





ফিফার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী,
ব্রাজুকা হলো ব্রাজিলের একটি চলতি শব্দ, যার মানে হলো ‘ব্রাজিলীয়'৷ এ
বলের নকশা আর রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দক্ষিণ অ্যামেরিকার বর্ণময় জীবন ও
ফুটবল নিয়ে তাদের উত্তেজনার আবহ৷




জাবুলানি বনাম ব্রাজুকা



গত বিশ্বকাপের বল জাবুলানি বাতাসে ভাসতে ভাসতেই বিচবলের মতো গতিপথ পাল্টে
ফেলত বলে খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে গোলরক্ষকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়
আডিডাসকে৷ ব্রাজিলের লুইস ফাবিয়ানোতো এই বলকে ‘অতিপ্রাকৃতিক' আখ্যাই দিয়ে
ফেলেছিলেন৷




সাধারণ ফুটবল ৩২টি প্যানেল বা টুকরো জোড়া দিয়ে তৈরি করা হলেও জাবুলানি
তৈরি করা হয়েছিল আটটি প্যানেলে৷ আর ব্রাজুকার ওপরের অংশ তৈরি হয়েছে
প্রোপেলার আকৃতির ছয়টি প্যানেল জোড়া দিয়ে৷ আডিডাসের দাবি, প্যানেলগুলো
এমনভাবে জোড়া দেয়া হয়েছে, যাতে বলের গতিপথ হবে অনেক বেশি সুস্থির৷
ব্রাজুকার পিঠও জাবুলানির মতো অতোটা মসৃণ হবে না৷





আডিডাস বলছে, ব্রাজুকার প্যানেলের এই অভূতপূর্ব আকৃতির কারণে উড়ন্ত বলে আসবে আরো গতি৷ বৃষ্টিতে ভিজলেও বলের আকার বা ওজন বদলাবে না৷



ল্যাব টেস্ট



ব্রাজুকা কেমন হবে তা বুঝতে রীতিমতো গবেষণা চালিয়েছেন জাপানের সুকুবা
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক৷ ব্রাজুকার পাশাপাশি জাবুলানি, টিমগাইস্ট আর
২০১৩ সালের কনফেডারেশন কাপের বল কাফুসা নিয়ে নানাভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে
দেখেছেন তাঁরা৷



 এই দুই গবেষক বলছেন, গত বিশ্বকাপের বল জাবুলানির আচরণ বোঝা আসলেই কঠিন ছিল৷ কিন্তু ব্রাজুকার বাতাস কাটার ধরন তার তুলনায় অনেক ভাল৷




সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্সের অধ্যাপক তাকেশি আসাই বলেন, এক
সময় জাপানি নিনজারা যে ধরনের তারকা আকৃতির অস্ত্র ছুড়ে মানুষ বধ করত,
ব্রাজুকার প্যানেলগুলো তৈরি হয়েছে একই নকশায়৷ আর সেগুলো যেভাবে পরস্পরের
সাথে সেলাই করা হয়েছে, সেটাই হলো বলটির মূল শক্তির জায়গা৷





বিশ্বকাপের আগে যেটুকু দেখা গেছে তাতে ব্রাজুকাকে নিয়ে ব্রাজিলের গোলরক্ষক
জুলিও সিজারের কণ্ঠে আশার কথাই ঝরেছে৷ অন্যরাও এ বলকে পছন্দ করবেন বলে তাঁর
বিশ্বাস৷




সুত্র : (রয়টার্স, এএফপি, ফিফা, উইকিপিডিয়া)


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.