রাজা ফাহাদের সঙ্গে হার্বের ছবি; পাশে লন্ডনের কেন্দ্রস্থলের চড়া মূল্যের ফ্লাট

সৌদি আরবের পরলোকগত রাজা ফাহাদের তালাকপ্রাপ্তা ‘গোপন’ ব্রিটিশ স্ত্রী
‘জানান হার্ব’ খোরপোশ বাবদ অর্থের দাবি করে যে মামলা করেছিলেন লন্ডনের
হাইকোর্ট আজ (মঙ্গলবার) তার পক্ষে রায় দিয়েছে।



১৯৬৮ সালে ১৯ বছর বয়সী ‘জানান হার্ব’কে গোপনে বিয়ে করেছিলেন তৎকালীন সৌদি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফাহাদ। সে সময় তাকে আজীবনের খোরপোশ বাবদ অর্থ
দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল।



 রাজা ফাহাদের পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেয়ায় ১৯৭০ সালে ফাহাদের ভাইয়ের
নির্দেশে  সৌদি আরব ছাড়তে হয়েছিল  ‘জানান হার্ব’কে। তাকে দেশটি ত্যাগ করতে
মাত্র দু’ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছিল। জানান হার্বের ব্যক্তিগত মালপত্র পরে
বৈরুতের সৌদি দূতাবাসের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।




আদালতে পেশ করা আর্জিতে হার্ব দাবি করেন,
১২ বছর আগে রাজা ফাহাদ তাকে এক কোটি ২০ লাখ পাউন্ড স্টারলিং-এর সমপরিমাণ
অর্থ এবং লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে দু’টি চড়া দামের ফ্ল্যাট দেয়ার প্রতিশ্রুতি
দিয়েছিলেন। রাজা এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে বলে হার্বকে আশ্বস্ত করেছিলেন
ফাহাদের ছেলে প্রিন্স আবদুল আজিজ। এ আশ্বাস রক্ষা না করায় তিনি আদালতের
শরণাপন্ন হয়েছেন।





সৌদি প্রিন্স হিসেবে দায়মুক্তি দেয়া আছে
যুক্তি দেখিয়ে মামলা খারিজের চেষ্টা করেছিলেন আবদুল আজিজ। কিন্তু প্রিন্স
আবদুল আজিজের এ যুক্তি লন্ডনের হাইকোর্টের মহিলা বিচারক মিসেস রোজ নাকচ করে
দিয়েছেন। আদালত বলেছে, রাজা ফাহাদের মৃত্যুর দু’বছর আগে   ২০০৩ সালে জানান
হার্বকে এক বৈঠকেেএ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রিন্স আবদুল আজিজ। তিনি
সৌদি রাজার প্রতিনিধি হিসেবেই কাজ করেছেনে বলে আদালত ধরে নিতে পারে বলে
রুলিংয়ে উল্লেখ করা হয়।





অবশ্য আজকের শুনানিতে আদালতে প্রিন্স
আবদুল আজিজ উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অবশ্য জানিয়েছেন, সৌদি হারেমের দ্বিতীয়
স্ত্রী ছিলেন তিনি। আনোদ নামে রাজার অন্য এক স্ত্রী ছিল এবং তার সঙ্গে
হার্বের জানাশোনা ছিল। তবে আনোদের সঙ্গে হার্ব দেখা করতে পারবেন না বলে
ফরমান জারি করেছিলেন ফাহাদ। সৌদি আরবে তাকে বিলাসবহুল এক বন্দির জীবন
কাটাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।





এদিকে,লন্ডন আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ
করেছেন হার্ব। অবশ্য  আব্দুল আজিজ যদি এ রুলিংয় মেনে না নেন তবে হার্ব সৌদি
হারেমের রগরগে কাহিনী প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার
লেখা বইয়ের ভিত্তিতে সৌদি হারেমের রগরগে কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করা
হবে।




ব্রিটেনের আইন বিষয়ক ফার্ম নিউম্যান্স
জানান হার্বের পক্ষ নিয়ে মামলা লড়ছে। এ ফার্মের এক মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি
রাজার সঙ্গে বিয়ের পর কি ঘটেছিল তা জনস্বার্থে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে
ইচ্ছুক জানান হার্ব। তার লেখা বইয়ের ভিত্তিতে চলচ্চিত্র তৈরির জন্য
আন্তর্জাতিক প্রযোজকরা এরই মধ্যে উৎসাহ দেখিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আলোচনা
চালিয়ে যাচ্ছেন হার্ব।

 সুত্র : (রেডিও তেহরান)


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.