বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ‘মৃত্যুকূপের’ স্বীকৃতি পেয়ে যায় ‘ডি’ গ্রুপ। একসঙ্গে তিন সাবেক চ্যাম্পিয়নের (ইতালি, উরুগুয়ে ও ইংল্যান্ড) একই গ্রুপে পড়ার ঘটনা যে এবারই প্রথম। পাত্র থেকে দলগুলোর নাম তোলা ভাগ্য পরীক্ষায় একটু এদিক ওদিক হলেই মৃত্যুকূপ হয়ে যেতে পারত ‘জি’ গ্রুপ। তিনবারের  চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ফিফা ব্যালন ডি অর জয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ঘানা আর জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র-মৃত্যুকূপের চেয়ে কম কী? সেই ‘জি’ গ্রুপের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত লড়াই দিয়ে আজ সালভাদরে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে জার্মানি ও পর্তুগালের। সাম্প্রতিক সময়ে বড় আসরে পর্তুগিজদের সামনে জার্মানি পরিণত হয়েছে দুর্বোধ্য ‘জুজু’তে। ২০০৬ বিশ্বকাপ আর সর্বশেষ দু’টি ইউরোতে দেখা হওয়া তিন ম্যাচের সবগুলোতেই জিতেছে জার্মানি। চেনা প্রতিপক্ষকে টানা চতুর্থ ম্যাচে হারিয়ে নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরুর লক্ষ্য জোয়াকিম লোর শিষ্যদের।

ইউরো ২০১২’র শুরুই হয়েছিল এই দু’দলের ম্যাচ দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে মারিও গোমেজের গোলে পর্তুগালকে সেবার ১-০ ব্যবধানে হারায় জার্মানি। হাঁটু ও মাংসপেশির চোট কাটিয়ে ওঠা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চোখে নিশ্চয় ওই ম্যাচের প্রতিশোধের নেশা। গত দুই দিনে দলের অনুশীলনের পুরোটা সময়জুড়ে ছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। সতীর্থ উইলিয়াম কারভালহো আর গোলরক্ষক এডুয়ার্ডো বেশ জোর গলায় নিশ্চিত করলেন রোনালদোর  খেলার কথা। চার বছর আগের আসরের শেষ-১৬ থেকে স্পেনের কাছে হেরে বিদায়ের ক্ষত ভুলতেও দলের সেরা তারকাকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়াটা জরুরি পর্তুগিজ কোচ পাওলো বেন্তোর। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-১ গোলে জেতা সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৬৫ মিনিট মাঠে থেকে রোনালদোও বুঝিয়ে দেন জার্মানির সঙ্গে পুরনো হিসাব চুকিয়ে দিতে তিনি প্রস্তুত।

এ ম্যাচে পর্তুগালের সম্ভাবনাও অনেকখানি নির্ভর করছে রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গারের সুস্থতার উপর। কিন্তু ম্যাচটাকে এভাবে দেখতে রাজি নন জার্মান ডিফেন্ডার বেনেডিক্ট হোয়েডেস, ‘এটা জার্মানি বনাম রোনালদো ম্যাচ নয়, জার্মানির খেলা পর্তুগালের বিপক্ষে’। জার্মানি মিডফিল্ডার সামি খেদিরার কাছেও তার রিয়াল সতীর্থ বলেছেন এবার নাকি জার্মান ‘জুজু’ তাড়াবে পর্তুগাল। রোনালদোর সেই সামর্থ্য আছে জেনেও ভয়ডরহীন জার্মানির জার্সিতে ১১৫ তম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় থাকা লুকাস পোডলস্কি, ‘আমরা পর্তুগালের বিপক্ষে খেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছি, কেবলমাত্র একজন খেলোয়াড়ের জন্য নয়। ও নিশ্চিতভাবেই বিপজ্জনক একজন ফুটবলার যে কিনা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। তবে আমাদের তেমন সামর্থ্যরে খেলোয়াড় রয়েছে। আমরা যদি ভালো খেলতে পারি তাহলে ও কি করল তাতে কিছু যায় আসে না’।

আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ডের বাধা পেরিয়ে গত বিশ্বকাপে যেভাবে তৃতীয় হয়েছিল জার্মানির সেই সাফল্য তারা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা পরিণত হয়েছে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নে। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার খেলার জন্য প্রস্তুত হলেও কাঁধের চোট কাটিয়ে উঠতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সহ-অধিনায়ক বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার হাঁটুর চোটের সঙ্গে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ডিফেন্সিফ মিডফিল্ড পার্টনার সামি খেদিরা মারাত্মক হাঁটুর চোটের কারণে রিয়ালের হয়ে মৌসুমের বেশিরভাগ সময় ছিলেন সাইডবেঞ্চে। জোয়াকিম লোর দলে স্ট্রাইকার একজন, ৩৬ বছর বয়সি মিরোস্লাভ ক্লোসা। আর একবার জাল খুঁজে পেলেই যিনি স্পর্শ করবেন  বিশ্বকাপে সর্বাধিক (১৫) গোল করা ব্রাজিলের রোনালদোর রেকর্ড। বায়ার্ন মিউনিখের টনি ক্রুস সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেললে আর্সেনালের মেসুত ওজিলকে দেখা যাবে ‘ফল্স নাইন’ হিসেবে, আক্রমণভাগে ক্লোসার সঙ্গী হিসেবে। অধিনায়ক ফিলিপ লামকে রাইট ব্যাক থেকে মিডফিল্ডে দেখা যাবে কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। আসলে জোয়াকিম লো কৌশলটাই এমন। প্রখর মস্তিষ্ক আর তারুণ্যে ভরা দল নিয়ে গত আটটি বছর যিনি জার্মানিকে সাফল্যের সিঁড়ি দেখিয়ে চলেছেন।





Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.