সোমালিয়া জলদস্যুদের কবল থেকে সাড়ে তিন বছর পর মুক্তি পাওয়া সাত বাংলাদেশি নাবিক দেশে ফিরেছেন।






বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে
এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি  ফ্লাইটে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।  এ সময় তাঁদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল খোরশেদ আলম।





অভ্যর্থনা জানানোর পর নৌপরিবহনমন্ত্রী
শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সাত নাবিককে এভাবে এত দীর্ঘ সময়
পর জীবিত ও অক্ষত উদ্ধার করাটা দেশের জন্য গৌরবের।





খোরশেদ আলম বলেন,  আমাদের অপহৃত সাত নাবিক
জীবিত আছেন, এটা জানার পর থেকে তাঁদের সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার
ব্যাপারে বিভিন্ন পক্ষের সহযোগিতায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছিলাম।
এরই ফলে সাতজনকে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।





ফিরে আসা বাংলাদেশি নাবিকরা হলেন-
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের মৃত গোলাম
মোস্তফা, ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান, নুরুল
হক, আশাশুনি উপজেলার কুল্যা গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে মো. আবুল কাশেম,
চাঁদপুর জেলার লিমন সরকার, চট্টগ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম এবং মো. জাকির
হোসাইন।

এর আগে শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে জলদস্যুদের
কবল থেকে মুক্ত হন সাড়ে ৩ বছরেরও বেশি সময় সোমালিয়া জলদস্যুদের হাতে বন্দী
থাকা এই ৭ বাংলাদেশি নাবিক। মুক্তি পাওয়ার পর সাত বাংলাদেশিকে জাতিসংঘের
মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতরের (ইউএনওডিসি) একটি বিশেষ বিমানে কেনিয়ার রাজধানী
নাইরোবিতে নেয়া হয়। সেখানকার আগা খান হাসপাতালে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
করা হয়। কেনিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের ভ্রমণের কাগজপত্র তৈরি করে
দেয়, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে।  



উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৬ ডিসেম্বর
বন্দী হওয়া মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আলভাঁদোয় থাকা অন্য দেশের
নাগরিকসহ তাদের অপহরণ করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কেনিয়া যাওয়ার পথে
অপহূত জাহাজটিতে বাংলাদেশের সাতজনসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইরানের
২৩ জন নাবিক ছিলেন। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে জাহাজটি ডুবে গেলে শ্রীলঙ্কার
চারজন ও ভারতের একজন নাগরিক মারা যান।  




অপহৃত বাংলাদেশি নাবিকদের মুক্তির জন্য
ছয় লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল জলদস্যুরা। বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ও
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যস্থতায় ৬ জুন অপহৃত ওই সাত নাবিককে জীবিত
অবস্থায় ফেরত দেয় অপহরণকারীরা।


সুত্র : (রেডিও তেহরান)


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.