কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে কৈখালিতে ভিআইপি রোডে স্পাইস গার্ডেন নামের এক রেস্তরাঁয় গিয়েছিল নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা। সেখানেই মদ্যপানের পর বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিল তারা। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাগুইহাটি থানার পুলিশ ছুটে যায় সেখানে। তারা গণ্ডগোল পাকানোর অভিযোগে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে তারা বাংলাদেশী। জেরা করে শেষ পর্যন্ত পুলিশ নিশ্চিত হয় এই দলের পাণ্ডাই বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের আসামি নূর হোসেন। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে সেটা পুলিশ জানতো। ছবি মিলিয়েই তাকে শনাক্ত করা হয়। নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে নিয়ে পুলিশ তাদের কলকাতার ডেরা কাছের সুবিশাল ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের এ ব্লকের একটি বাড়ির চারতলার ৫০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়।
গত দশ দিন এই ফ্ল্যাটেই ছিল নূর হোসেনের কলকাতার আস্তানা। এখান থেকেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার বারাসাত আদালতে পুলিশ হাজির করে। পুলিশের কেস ডায়েরিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সিমরাইলের বাসিন্দা নূর হোসেন, বন্দর থানার কুড়িপাড়ার ওহিদুল জামান শালিম ওরফে শালিম ও ফতুল্লা থানার রাসরবাদের খান সুমন ওরফে বিট্টুকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিদেশী আইনের ১৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এরা বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। এদের কাছে ভারতের ও বাংলাদেশের ১১টি সিম কার্ড ও ভারত ও বাংলাদেশের কয়েক হাজার টাকা পেয়েছে। তবে এদের কাছে কোন অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ আদালতে জানিয়েছে। পুলিশ নূর হোসেনের আরও সহযোগীদের খুঁজে বের করার জন্য বারাসাত আদালতে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রার্থনা করলে রোববার বেলা দুইটা নাগাদ দ্বিতীয় মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারক এডুইন লেপচা ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আগামী ২৩শে জুন ফের আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিন অবশ্য আসামিদের পক্ষে কোন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে এদেরও বাগুইহাটি থানাতেই রাখা হয়েছিল। তবে বিধাননগর কমিশনারেটের বড় কর্তারা থানায় এসে এদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রোববার সকালেই তিনজনের মেডিকেল পরীক্ষার জন্য দমদম পুরসভার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর ফের নিয়ে আসা হয়েছিল বাগুইহাটি থানায়। সেখান থেকে বেলা একটা নাগাদ তাদের বারাসাত জেলা ও দায়রা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রিজন ভ্যান থেকে নামার সময় নূর হোসেন উত্তেজিতভাবে বলতে থাকে, তাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশী। তার সহযোগী খান সুমন দাবি করে, সে ১০ই জুনের বিমানের ফ্লাইটে বৈধভাবে কলকাতায় এসেছে। পুলিশ অবশ্য আদালতে জানিয়েছে, এদের কারও কাছে কোন বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নেই।
বিশেষ প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের ১ নম্বর আসামি নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনা হবে। এ সংক্রান্ত চুক্তিটি যাচাই বাছাইয়ের পর তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে গতকাল এ তথ্য জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নারায়ণগঞ্জের খুনের পর সন্দেহভাজন প্রধান আসামি নূর হোসেনের নাম ও ছবি পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলে দেয়া হয়েছিল।
সেই নাম ও ছবি থেকে কলকাতা পুলিশ নূর হোসেনকে গত রাতে গ্রেপ্তার করে বলে আমরা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) জানতে পেরেছি। কলকাতা থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ‘রি-কনফার্ম’ করবো কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘রি-কনফার্ম’ ও কবে নাগাদ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রি-কনফার্ম ও সবকিছু শিগগিরই জানতে পারবেন। ‘রি-কনফার্ম’ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমিও আপনাদের মতোই নিশ্চিত তবুও রি-কনফার্ম করতে হয়। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের একটি দল স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বাগুইহাটির একটি বাড়ি থেকে নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছে একটি রিভলবার ও কয়েক রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছে ভারতে আসার কোন বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ। অনুপ্রবেশ, অস্ত্র আইন ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বাগুইহাটি থানা পুলিশ। নূর হোসেন কিছু দিন ধরে ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতো। গত এক মাসের বেশি সময় নূর হোসেন ওই ভবনে ছিল বলে ভবনের অন্য বাসিন্দা ও নিরাপত্তারক্ষীরা পুলিশকে জানান।
Disclaimer:
This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.





